রাজবাড়ী শহরের নিউ কলোনীতে গড়ে উঠেছে ভেজাল ‘এগ নুডলস’ কারখানা : প্রশাসন নীরব

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ ,২৭ অক্টোবর, ২০১৪ | আপডেট: ২:১৯ অপরাহ্ণ ,২৭ অক্টোবর, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএসটিআই বা সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই “সিয়াম এগ নুডুলস” বা ‘নুডল চিপস’ নামে বাজার ছেয়ে গেছে ভেজাল খাদ্য সামগ্রী। যা উৎপাদিত হচ্ছে রাজবাড়ী শহরের রেলওয়ে নিউ কলোনীতে। দীর্ঘদিন ধরে চকচকে মোড়কে ভেজাল মুখরোচক ভাজাপোড়া বাজারজাত হয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই।

জানাগেছে, কয়েক মাস পূর্বে হঠাৎ স্থানীয় বাজারে আসে ‘এগ নুডলসের সুদৃশ্য মোড়কে’র-এই চিপস। পুরোপুরি স্থানীয় প্রযুক্তিতে পঁচানো ভাত থেকে তৈরী করা সস্তা ও নিম্নমানের এই নুডুলস খুচরা বিক্রি হয় প্রতি প্যাকেট ৫টাকা। অথচ সরবরাহকারী এটি সরবরাহ করে আড়াই টাকারও কমে। ফলে দ্বিগুণ লাভের জন্য শুধু ফুটপাতের খুদে দোকানীরাই নয়, ভাল ভাল মুদী/ভ্যারাইটিজ দোকানীরাও দেদারসে বিক্রি করা শুরু করে এই ‘এগ নুডলস’। যে কাঁচামাল দিয়ে যে পদ্ধতিতে এই এগ নুডলস তৈরী হয়, সেই একই পদ্ধতিতে একই কাঁচামাল দিয়ে অনেক আগে থেকেই তৈরী হয়ে আসছে পাপড় জাতীয় একই আকৃতির আরেকটি পণ্য-স্থানীয়ভাবে যার নাম ‘দিলখোশ’। দিলখোশের একমাত্র বিক্রেতা হচ্ছে ভাঙ্গুরীর হকাররা।

কিছুদিন পূর্বে পাবনা জেলা থেকে সপরিবারে রাজবাড়ীতে আসা মতিন বিশ্বাস রাজবাড়ী শহরের রেলওয়ে নিউ কলোনীতে একটি কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখলে নিতে সক্ষম হয়। নিউ কলোনীর একটি বড় পুকুর পাড়ে ভাল পজিশনে অবস্থিত কোয়ার্টারের সঙ্গে সে আরো দখলে নিতে সক্ষম হয় কোয়ার্টার সংলগ্ন রেলওয়ের আরও ৮শতাংশ জমিও। সেই জমির উপরে গড়ে তোলে অবৈধ চানাচুর তৈরীর কারখানা। অতি নিম্নমানের চানাচুর তৈরীর কারখানাটি চালিয়ে ভাল ব্যবসা হতে থাকলেও একপর্যায়ে চাপে পড়ে কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এরপর দিন মজুরীসহ এ ব্যবসা, ও ব্যবসা করতে করতে মতিন বিশ্বাস কিছুদিন পূর্বে গড়ে তোলে অবৈধ এই এগ নুডলসের কারখানাটি। গত ৩/৪দিন পূর্বে মতিন বিশ্বাস ও তার ২ ছেলে রাজা ও বাদশা অবৈধ এগ নুডল চিপসস তৈরীর কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা রেলওয়ের ওই জমি থেকে ৯/১০টি গাছ কাটলে হৈচৈ পড়ে যায়, আর তখনই তার কথিত ‘এগ নুডলস’ তৈরীর কারখানাটি দৃষ্টিগোচরে আসে।

স্থানীয় জনগণ রেলওয়ের জায়গা থেকে গাছ কর্তনের বিষয়টি রেলওয়ের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এ.ই.এন সুলতান আলীকে জানান। তাঁর নির্দেশে রেলওয়ের আইডব্লিউ একজন কর্মচারীকে জিআরপি থানায় পাঠিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে জিআরপি থানার এএসআই বাবন সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে গাছ কর্তনের সত্যতা পান এবং বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু মতিন বিশ্বাস গং স্থানীয় প্রভাবশালী একজন জনপ্রতিনিধিকে দিয়ে তদবীর করানোয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিআরপি থানার এএসআই বাবন বলেন, মতিন বিশ্বাস গং বড় আকৃতির ১০টি গাছ কেটে ফেলেছে, যার মালিক রেলওয়ে। তিনি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিতও করেছেন। কি কারণে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা তার বোধগম্য নয়। মতিন বিশ্বাসের ছেলে বাদশা তাকে বলতে এসেছিল-‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি চেপে যান। লিডার আপনাকে তাঁর চেম্বারে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি আইডব্লিউকে ফোনও দিয়েছেন। দু’চারজন সাংবাদিক বিষয়টি জানলেও তারা সবাই দুই টাকার সাংবাদিক। অমুক ফোন করে তাদেরকে চেম্বারে ডেকে এনে ধমকে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
রেলওয়ের এইএন সুলতান আলী বলেন, গাছ কর্তনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে আমি সরেজমিনে সেখানে যাব। সত্যতা পেলে থানায় এজাহার দাখিল করাসহ অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ বিষাক্ত এই চিপসের একমাত্র ক্রেতা হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। যারা চকচকে/সুদৃশ্য প্যাকেট দেখে কিনে খাচ্ছে এই কু-খাদ্যটি। দ্বিগুণ লাভের আশায় বিবেক বর্জিত দোকানীরা নিঃসংকোচে শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে ভেজাল এ খাদ্যদ্রব্য। শিশুরা না বুঝে ‘যা পায় তাই খায়।’ অপরিপক্ক এই শিশুদের সরলতাকে পুঁজি করে দোকানীরা করছে মুনাফা। এই অপকর্মের চূড়ায় বসে জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে মতিন বিশ্বাস গং। রেলওয়ের কোয়র্টার দখল করে বসবাস করছে, জায়গা দখল করে স্থাপন করেছে অবৈধ কারখানা, আবার প্রকাশ্যে কেটেও নিচ্ছে রেলওয়ের গাছ।

সচেতন মহল অবিলম্বে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা ভেজাল ও অনুমতি বিহীন ‘এগ নুডলস’ কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবী জানিয়েছে।

 

 

আপডেট : সোমবার অক্টোবর ২৭,২০১৪/ ০২:১৬ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1173 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments