রাজবাড়ীতে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত : জেলা সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ ,১ নভেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১২:১৩ অপরাহ্ণ ,২ নভেম্বর, ২০১৪
পিকচার

আশিকুর রহমান : “আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় সমবায়”এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১নভেম্বর শনিবার রাজবাড়ীতে ৪৩তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। সেই সাথে জেলা সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব ও অনুষ্ঠানে খাবার বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড: এম.এ খালেকের সভাপতিত্বে বের হয়। র‌্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোনামনি চাকমা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) কাজী আহসান হাবীব ও জেলা সমবায় অফিসার মো. আলী রেজা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালী শেষে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)সোনামনি চাকমা ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) কাজী আহসান হাবীব।SAM_9945

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সমবায় অফিসার মো: আলী রেজা, বিআরডিবি’র উপ-পরিচালক নির্মল কুমার সাহা, জেলা সমবায় ব্যাংকের সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল ওহাব, সেবা বহুমুখী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ নব কুমার দত্ত, বেড়াডাঙ্গা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম কামু ও রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আজিজা খানম।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড: এম.এ খালেক।আলোচনা সভায় উপস্থাপনা করেন জেলা সমবায় অফিসের পরিদর্শক মো: সিরাজুল ইসলাম ও সমবায়ী লাবনী আক্তার।

অনুষ্ঠানে সেরা সমবায়ী হিসেবে সেবা বহুমুখী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ নব কুমার দত্ত, পৌর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি এটিএম আকরাম হোসেন, লক্ষ্মীকোল শাপলা মহিলা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি লাবলী আক্তার, ভবানীপুর বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী আব্দুল ওহাব, মূলঘর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. কফিল উদ্দিন মন্ডল এবং একতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির কার্যকরী সদস্য কোমল কুমার নন্দিকে পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়াও ছায়া বহুমুখী সমবায় সমিতি, সজ্জনকান্দা পশ্চিমপাড়া সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি এবং দাদশী ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতিকে পুরস্কৃত করা হয়।SAM_9966

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এবারের সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় সমবায়”।এই প্রতিপাদ্যকে বঝুতে হবে। এটির অর্থ কি? এক সময়ে সমবায়ের ছিল বর্ণাঢ্য ইতিহাস। মাঝখানে নদী যেমন আকা বাকা পথে অতিবাহিত হয় সেভাবে চলেছে। এতে হতাশা হওয়ার কিছু নেই।অবশ্যই এর সফলতা আসবে এবং সমবায়ের মাধ্যমে এদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে এ্যাড: এম. এ খালেক বলেন, দারিদ্র বিমোচনের সুন্দর একটি মাধ্যম সমবায়। সমবায় ব্যাংকের অনেক জায়গা জমি ছিল সেগুলো বেহাত হয়ে গেছে। নতুন করে সমবায় সমিতি গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সমবায়কে ঢেলে সাজাতে হবে।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সমবায়ের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তিনি রাজবাড়ীতে সমবায় সমিতির নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা উচ্চ সুদে সমিতি বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে জেলা সমবায় অফিসার মো. আলী রেজার বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন দাদশী ইউনিয়ন বহুমখুী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারীদের খাবার নিয়েও অনিয়ম চোখে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে অনুষ্ঠানের বাজেট নিয়েও।SAM_9964

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, ৪৩তম জাতীয় সমবায় দিবসটি সফল করার জন্য প্রায় পৌনে ২লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়। ১লক্ষ টাকা বিভিন্ন সমবায় সমিতির মাধ্যমে কালেকশন হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন জেলা সমবায় অফিসার মো. আলী রেজা। শুধু খাবারের জন্য বাজেট ধরা হয় ৭০ হাজার টাকা।খাবারের কুপন করা হয় ৬০০টি।অপরদিকে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমের চেয়ারের সংখ্যা ছিল সব মিলিয়ে ৩৫০টি। এরপরও এই ৩৫০ জনের অনেকেই কুপন পান নি।আবার কুপন পেলেও খাবার পাননি অনেকেই। তাহলে এতো কুপন ও খাবার কোথায় গেল?

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, যে খাবার করা হয়েছে তাতে ৩০ হাজার টাকাও খরচ হওয়ার কথা নয়।অথচ এর জন্য বাজেট ৭০ হাজার টাকা।

দাদশী ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচন নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে জেলা সমবায় অফিসারের কার্যালয়ে মির্টিং হয়।সেই মিটিংয়ে জেলা সমবায় অফিসার মো. আলী রেজা তাকে জানান এবারের শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে আমাকে (হেলাল উদ্দিন) ও নব কুমার দত্তকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অথচ আজ শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কারের তালিকায় নব কুমার দত্তের নাম থাকলেও আমার নাম নেই। তিনি অভিযোগ করেন জেলা সমবায় অফিসার মো.আলী রেজা পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচিত করেছেন। যে কারণে তিনি আমার নাম ঘোষণা করেও বাদ দিয়েছেন।

 

 

আপডেট : শনিবার নভেম্বর ০১,২০১৪/ ‌০৫:১০ পিএম/ জেনিফার

 


এই নিউজটি 1247 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments