আরো আত্মবিশ্বাসী খালেদা জিয়া ও তার জোট

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ ,২ নভেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ ,২ নভেম্বর, ২০১৪
পিকচার

আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত জনসভামুখি জনস্রোত তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে গণসংযোগের জন্য আহুত প্রতিটি জনসভা পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। একটি জনসভার চেয়ে অন্য জনসভায় লোক সমাগম আরো বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুব্ধ সাধারণ জনতা আর নির্যাতিত নেতাকর্মীর মিছিল একাকার হয়েছে। সরকারের হুমকি-ধমকি এমনকি গণগ্রেফতার কোন বাধাই এই জনস্রোত ঠেকাতে পাচ্ছে না। যানবাহন বন্ধের কৌশলও ভেস্তে যাচ্ছে। নতুন নতুন মামলা আর নেতা গ্রেফতার করা হলেও হাইকমান্ডের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই বরং বাড়ছেই। শুধু বিএনপির চেয়ারপারসনের জনসভাই নয় কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকেও প্রত্যাশিত সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছে দলটির নেতারা। কেন্দ্র থেকে কোন নেতা নির্বাচনী এলাকায় গেলে চায়ের টেবিলে যোগ হচ্ছে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও। এদিকে জনসংযোগের জন্য অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর জামালপুরের সভায় জনতার উপস্থিতি দেখে নীলফামারীর জনসমুদ্রে বিএনপি চেয়ারপারসন তার আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ওই সভাতেই দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ২৯ ডিসেম্বরে আপনাদের ঢাকায় আসার ডাক দিয়েছিলাম আপনারা সাড়া দিয়েছেন, এর আগেও আন্দোলন করেছেন অবশ্য ঢাকা নামতে পারেনি, এবার তারাও নামবে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেতাদের বলেছেন, ‘সোজা কথায় না হলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে’। এর জন্য জানি আপনারা প্রস্তুত একটু সময় নিয়ে আমরাও প্রস্তুত হচ্ছি। ৫ জানুয়ারির পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনসংযোগে নেমেছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর, নীলফামারী, নাটোর, কুমিল্লাহ ও কিশোরগঞ্জে জনসভার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করে বিএনপি। সাথে ছিলো ২০ দলীয় জোট। বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হলেও বেলা ১টার আগেই বিশাল মাঠ কানায় কানায় ভরে যায় মানুষে। সেই সভাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আমি কখনোই গ্রেফতারে ভয় পাই না। আমাকে বন্দি করার আগে নিজের রাস্তা পরিষ্কার রাখুন। নিজেদের পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে রাখুন। এর ৪ দিন পর জনসভা আহ্বান করা হয় জামালপুরে। স্থানীয় জিলা স্কুল মাঠের এই জনসভায় উপস্থিতি দেখে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, দলীয় এতো অর্ন্তদ্বন্দ্বের মধ্যেও অন্য কয়টি জনসভার চেয়ে এবার বিএনপির জনসভায় উপস্থিতি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। গত ২৩ অক্টোবর ছিলো নীলফামারীরর জনসভা। গণমাধ্যমের মতে, নীলফামারী বড়মাঠটি দক্ষিণ এশিয়ার বসচেয়ে বড় মাঠ। এই মাঠের লোক ধারণ ক্ষমতা পাঁচ লাখের উপরে। বিকালের জনসভাস্থ জনতার উপস্থিতি শুরু হয় সকাল থেকেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ১০ মাস পর এই মাঠেই ২৯ ডিসেম্বরে ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। জনসমুদ্রের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সময় হলেই ডাক দেবো। আপনাদের সাথে ওই সময় ঢাকাও রাজপথে নামবে। এবার ব্যর্থ হবো না ইনশাল্লাহ। ৬ বছর পরে এই মাঠে বিএনপির জনসভায় জনতার উপস্থিতি দেখে জোটের শরিক দল এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, দেশের অনেক স্থানে অনেক সভা করেছি কিন্তু এই নীলফামারীরর মতো এতো লোকসমাগমের জনসভা আমার জীবনে দেখিনি। আরেক শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘সেল্যুট নীলফামারীর জনতা’। আলাপকালে এই তিনজেলার নেতারা জানান, জনসভার তারিখ ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাদের বাসা-বাড়ীতে তল্লাশি করেছে পুলিশ। নেতাকর্মীকে গণগ্রেফতার করেছে। জনসভায় যেন নেতাকর্মীরা আসতে না পারে এজন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সরকার দলীয় নেতারা বৈঠক করেছেন। ওইদিন তাদের যানবাহন বন্ধ রেখেছেন। নীলফামারী বিএনপির সভাপতি আনিসুল আরেফিন চৌধুরী বলেন, বাধা সব ধরনেরই দেয়া হয়েছে কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষকে বাধা দেয়ার মতো কোন ক্ষমতাই সরকারের ছিল না, নেই হবেও না। জনসভার দুইদিন আগে আশপাশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলো কিন্তু তাতের পরিণতি কি হবে সেটার হিসাবও কষেছেন। তাই বাহ্যিক বাধা দেয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জামালপুর-১ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ূম বলেন, জনসভায় প্রশাসনিক কোন বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তবে যানবাহনের সঙ্কট দেখা দিয়েছিলো। তিনি জানান, সরকার দলীয় নেতাদের পরিবহন সংখ্যা বেশি, সেদিক তারা যানবাহন ভাড়া দিতে অনিহা প্রকাশ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল বলেন, আমাদের জনসভার দুইদিন আগেই তোরণ ভেঙ্গে দেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায় কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা বিভাগে অনেক সভাতেই আমি অংশ নিয়েছি দেখেছি যে সভা আজ হয়েছে পরের সভাতে লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিয়েছে। এখানে পুলিশ গুলি চালিয়েও আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ঠেকাতে পারেনি, পারবে না। কুমিল্লা বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান, স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার। তিনি জানান, দলের চেয়ারপারসনের জনসভাকে কেন্দ্র করে তারা যে প্রস্তুতি সভাগুলো করছেন তাতে সকল স্তরের নেতাদের সম্পৃক্ততা পাচ্ছেন। যারা কয়েক মাস আগেও সরকারের নির্যাতনে বাইরে বের হতেন না তারা এখন ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়েছেন। সিলেট বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশজুড়ে একটা হতাশা-বিমুঢ় অবস্থা বিরাজ করছিলো। দীর্ঘ ১০ মাস হয়ে গেছে সরকার তার নিয়মরক্ষার নির্বাচনের কথা থেকে সরে আসেনি। বরং জুলুম-হতাশাগ্রস্ত করে তোলেছে। এখন মানুষ এই সরকারের হাত থেকে পরিত্রাণ চায়। ফলে শুধু বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব নয়, স্থানীয় নেতারাও যেকানে যাচ্ছে সেখানেই মানুষ ছুটে আসছে। এই দৃশ্য প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত জনসভামুখি জনস্রোত তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে গণসংযোগের জন্য আহুত প্রতিটি জনসভা পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। একটি জনসভার চেয়ে অন্য জনসভায় লোক সমাগম আরো বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুব্ধ সাধারণ জনতা আর নির্যাতিত নেতাকর্মীর মিছিল একাকার হয়েছে। সরকারের হুমকি-ধমকি এমনকি গণগ্রেফতার কোন বাধাই এই জনস্রোত ঠেকাতে পাচ্ছে না। যানবাহন বন্ধের কৌশলও ভেস্তে যাচ্ছে। নতুন নতুন মামলা আর নেতা গ্রেফতার করা হলেও হাইকমান্ডের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই বরং বাড়ছেই। শুধু বিএনপির চেয়ারপারসনের জনসভাই নয় কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকেও প্রত্যাশিত সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছে দলটির নেতারা। কেন্দ্র থেকে কোন নেতা নির্বাচনী এলাকায় গেলে চায়ের টেবিলে যোগ হচ্ছে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও।


এই নিউজটি 1116 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from রাজনীতি