পিতার মতোই জনগনের উপর কোন আস্থা নেই রংহেডেড শেখ হাসিনার: তারেক রহমান।

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ ,৬ নভেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১১:২২ পূর্বাহ্ণ ,৬ নভেম্বর, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিনিধি , লন্ডন :: ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবসের’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কী তা শেখ মুজিবের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। যুদ্ধশেষে দেশে ফিরে তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পিতার মতোই জনগনের উপর কোন আস্থা নেই শেখ হাসিনার। তাই সংসদ কিংবা সরকার গড়তে জণগনের ভোট কিংবা সমর্থন প্রয়োজন হয় না। তবে জণগনের পক্ষে না দাঁড়ালে ইতিহাসে এর শাস্তি বড়ই নির্মম। এটা ঠিকই টের পেয়েছিলেন শেখ মুজিব। জোর খাটিয়ে কিংবা রাজাকর আখ্যা দেয়ার ভয় দেখিয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে যতই মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হোক, প্রকৃত সত্য হচ্ছে-স্বাধিন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসটি শেখ মুজিব আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের সৌভাগ্য অজর্ন করতে পারেননি। যদিও এই দিনটির মর্যাদা শেখ মুজিবের কাছে খুব বেশি আনন্দদায়কও হওয়ার কথা নয়।

লন্ডনের দ্যা অ্যাট্রিয়ামে আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

৭ নভেম্বর প্রসঙ্গ টেনে অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, কি হয়েছিল ৭ নভেম্বর? কি ঘটেছিল সেদিন? এটি আমাদের প্রত্যেকের জানা দরকার। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে জানা দরকার এজন্যই যে, তাদেরকে এখন মিথ্যা, বিকৃত ও খন্ডিত ইতিহাস শেখানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর হঠাৎ করেই আসেনি। এর পেছনে ছিল একটি প্রেক্ষাপট। ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার ইতিহাস। ছিলো দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীন বাংলাদেশের সম্নানের সঙ্গে বেঁচে থাকার দুর্বার আকাঙ্খা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কী তা শেখ মুজিবের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। যুদ্ধশেষে দেশে ফিরে তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। এই ক্ষমতা দখলের পর কার্যত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন শেখ মুজিব। তিনি জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন।’

দীর্ঘ দুই ঘণ্টার লিখিত বক্তব্যে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব বলেন- ‘কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?’ বিরোধী দলের একজন রাজনৈতিক নেতাকে বিনা বিচারে হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে দম্ভভরে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করেন শেখ মুজিব।’ ‘পিতার মত অন্যায়ভাবে এখন এই সংসদ বিনা ভোটের কথিত এমপি দিয়ে দখল করে রেখেছেন ‘রং হেডেড’ শেখ হাসিনা।’

‘শেখ মুজিবের নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টির ডাকে ওইদিন আধা-বেলা হরতাল পালিত হচ্ছিল। ১৯৭৪ সালের বিজয় দিবসেও হরতাল আহবান করে সর্বহারা পার্টি। এর আগে একই বছর ১৩ অক্টোবর শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ডাক দেয় শেখ হাসিনার আজকের বিশ্বস্ত ইনু গংদের জাসদ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিজয় দিবসের মর্যাদা অবশ্য শেখ মুজিবের কাছে খুব বেশি আনন্দদায়ক হওয়ার কথাও নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিব দেখেননি। মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা রাখতে না পারার লজ্জা ছিল তার। আর এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে শেখ মুজিব কখনো সহজ হতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘সেনবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সামরিক আদালতে বিদ্যমান আইনে তাহেরের বিচার হয়েছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে অব্যাহত অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে এজন্যে দায়ী করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে ইনুরা। অথচ শেখ মুজিবের হত্যকাণ্ডসহ ১৯৭৫ সালের সব ঘটনার জন্যে দায়ী ইনু-তাহেররা।’ তিনি বলেন, ‘বলা হয় আমার পিতা জিয়াকে রক্ষা করেছেন তাহের-ইনুরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাহের-ইনুরা ওই সময় জিয়াকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন, নাকি জিয়ার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিলেন?’ তারেক বলেন, ‘তাহের-ইনুর পরিকল্পনা ছিল জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা যা ইনু নিজে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। তবে সাধারণ সৈনিক ও জনগণের মধ্যে জিয়ার জনপ্রিয়তায় তা সে সময়ে সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মত একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার কথা যখন একটি উগ্র রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা নিজেই প্রকাশ করেন, তখন এটিকে অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে। আর অপরাধ কখনো তামাদি হয় না।’ এই অপরাধের কারণে ইনুকেও বিচারের কাঠগড়ায় তোলা উচিত।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ ও জণগনের স্বার্থে কখনো আপষ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়ির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তাঁর কাছে (জিয়াউর রহমানের কাছে) পদ-পদবী কিংবা নেতৃত্বের কর্তৃত্ব বড় ছিল না, ছিল দেশ প্রেম। আপনারা জানেন স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে ১৯৭১’ এর ২৫ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তখন দেশ নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়ে। ঠিক তখনি দিশেহারা জাতির কথা মাথায় রেখে ২৬ মার্চ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। আর এ ঘোষণা দিয়েই তিনি বসে থাকেননি। লাখো মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত করে চালিয়ে যান মুক্তিযুদ্ধ।

রাজবাড়ি নিউজ ২৪.কম /স্বপ্ন /০৬/১১/২০১৪ /


এই নিউজটি 1174 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from রাজনীতি