,

অপহরণের ২৭ ঘণ্টা পর মুক্তিপণের বিনিময়ে শিশু অথৈকে ফিরে পেল তার পরিবার

News

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : অপহরণের প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর গত মঙ্গলবার বিকেলে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে সাত বছরের শিশু অথৈকে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। সে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের নগর রায়েরপাড়া মহল্লার পোলট্রি ফার্মের শ্রমিক বিমান বিশ্বাসের মেয়ে ও নগর রায়েরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। গত সোমবার দুপুরে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী শিশুটিকে কৌশলে অপহরণ করেছিল।

জানা যায়, গত সোমবার সকালে অথৈ তার মা ঊর্মিলা বিশ্বাস ও দাদা ভৈরব বিশ্বাসের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকায় অবস্থিত ডায়াবেটিক হাসপাতালে যায়। সেখানে বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর সঙ্গে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। ওই নারী ‘আমার ভাতিজির মতো দেখতে’- এ কথা বলে অথৈকে আদর করতে থাকে। পরে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জেনে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পাশাপাশি শিশুটির সন্ধান পেতে ওই দিন ফরিদপুর শহর এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ভৈরব বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে ০১৮৬৬৫৭০৮৮৩ নম্বর থেকে একটি কল আসে। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী তাঁকে (ভৈরব) বলেন, ‘আপনার নাতনি অথৈ আমার কাছে আছে। তাকে পেতে হলে মুক্তিপণ দিতে হবে।’ শিশুটির দাদা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী ফের মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকে (ভৈরব) বলেন, ‘অথৈকে ফিরে পেতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। তা না হলে ওকে মেরে ফেলা হবে।’ এ কথা বলার পর ওই নম্বরটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরের দিকে ওই নারী একই নম্বর থেকে ফের ফোন করে বলে, ‘৫০ হাজার দিতে হবে না। ০১৭৯৮৩৫৩২৪৬ অথবা ০১৭৯৩৭১৭৬৪৯ নম্বরে বিকাশ করে দ্রুত ২০ হাজার টাকা পাঠান।

তবে বিষয়টি পুলিশ-র‌্যাবকে জানালে অথৈকে সত্যি সত্যি মেরে ফেলা হবে।’ এ কথা শুনে মেয়েকে ফিরে পেতে অথৈর বাবা বিকাশ করে মুক্তিপণের ২০ হাজার টাকা পাঠান। পরে অপহরণকারী ওই নারীর কথামতো বিকেল ৩টায় ফরিদপুরের কানাইপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অথৈকে ফিরে পায় তার পরিবার।

 

আপডেট : বৃহস্পতিবার নভেম্বর ০৬,২০১৪/ ‌১২:০৮ পিএম/ তামান্না

 

 

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর