বেড়েই চলেছে দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর অভিশপ্ত যৌন জীবন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ ,৩০ নভেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৯:১২ অপরাহ্ণ ,৩০ নভেম্বর, ২০১৪
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীতে শিশু ও কিশোরী যৌনকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালরা নানা কৌশলে দরিদ্র-অসহায় মেয়েদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পতিতা পল্লীতে এনে সেখানকার বাড়িওয়ালীদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। পরে বাড়িওয়ালীরা ওইসব মেয়েদেরকে দিয়ে জোর পূর্বক দেহ ব্যবসা করিয়ে হাজার হাজার টাকা আয় করে নিচ্ছে।

সম্প্রতি কয়েকটি অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে কয়েকজন কিশোরী মেয়ে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃতরা খুলনার তেরখাদা ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ জানায়, খুলনার তেরখাদা এলাকার নাজমুল হোসেন ঢাকার একটি গার্মেন্টে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১১ আগস্ট তার এক আত্মীয়কে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে নিয়ে আসে। তাকে পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালী সুফিয়া বেগমের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ঘটনার চার মাস পর গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত কিশোরী পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায়, ‘গার্মেন্টসে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মামা নাজমুল আমাকে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে এনে বিক্রি করে পালিয়েছে।’ সে আরো জানায়, পল্লীতে তার মতো আরো অনেক শিশু ও কিশোরী রয়েছে। তাদের জোর করে দেহ ব্যবসার কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালীরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে গত বুধবার ভোরে যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালা সরোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে ১৫ বছরের অন্য এক কিশোরী কন্যাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে পার্বতীপুর খোলাহাটি বাজার এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত মেয়েটিকে অপহরণ করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করে দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, দেশের বৃহত্তম এই যৌনপল্লীতে বর্তমানে প্রায় চার হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। তাদের মধ্যে সহস্রাধিক শিশু ও কিশোরী যৌনকর্মী রয়েছে। তারা আরো জানায়, পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে বিশাল এক দালালচক্র। তারাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা কৌশলে গরীব ও অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করে দেয়।
যৌন ব্যবসায়ী বাড়িওয়ালীরা গোয়ালন্দ পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে বাড়িঘর তৈরি করেছে। যৌনপল্লীর পাশাপাশি তারা সেখানে বসবাসও করে। যৌন ব্যবসার পাশাপাশি নারীপাচার কাজেও তারা তাদের গ্রামের ওই সব বাড়িগুলো ব্যবহার করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দালালরা কোনো মেয়েকে সরাসরি পতিতাপল্লীতে না নিয়ে পল্লীর বাইরে থাকা বাড়িওয়ালীর নিজস্ব বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দুই-তিন দিন আটক রাখার পর সুযোগ বুঝে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালী ওই সব মেয়েদের পতিতাপল্লীতে নিয়ে যায়।

এভাবে দালালরা প্রতিমাসে প্রায় ২০ জন নতুন শিশু ও কিশোরীকে নিষিদ্ধপল্লীর বাসিন্দায় পরিণত করছে। আর এভাবেই বেড়ে চলেছে যৌনকর্মীর সংখ্যা। বেড়েই চলেছে পল্লীর অভিশপ্ত যৌন জীবন।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘যৌনপল্লী থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের উদ্ধার ও দালালদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক সচেষ্ট রয়েছে।’

 

আপডেট : রবিবার নভেম্বর ৩০,২০১৪/ ০৮:৫৪ পিএম/ জেনিফার


এই নিউজটি 2173 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments