রাজবাড়ীতে ৩দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ ,২ ডিসেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১২:০৬ অপরাহ্ণ ,৩ ডিসেম্বর, ২০১৪
পিকচার

শিহাবুর রহমান : রাজবাড়ী শহরের ঐতিহাসিক আজাদী ময়দানের মুক্তমঞ্চে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ৩দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র উৎসব। বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল।

প্রফেসর কেরামত আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী প্রফেসর মনসুর উল করিম। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র উৎসব উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব গোলাম সরোয়ার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উৎসব কমিটির আহবায়ক সৌমেন দাস ভরত ও জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি ডাঃ সুনীল কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ধীরেন্দ্র নাথ দাস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তানভীর মোকাম্মেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। যার পটভূমিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ঘটনা। অসংখ্য চরিত্র। একটি ঘটনাই একটি গল্প। এমন ও হাজার ঘটনার যেকোন একটি সত্য বাস্তব নির্ভর গল্প অনুসরণে নির্মিত হতে পারে একটি চলচ্চিত্র।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও বর্বরতম নিষ্ঠুরতা তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় আমাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে শিল্প মাধ্যমে কাজ করার। এর ধারাবাহিকতায় প্রয়াত তারেক মাসুদসহ আমি নিজেও বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। আজ রাজবাড়ীতে ৩দিনব্যাপী যে ছবি গুলো দেখবেন তার পটভূমিও মুক্তিযুদ্ধ। তিনি উদ্যোক্তাদের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুনসুর উল করিম বলেন, সংস্কৃতিগতভাবে রাজবাড়ীর গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাজবাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন এবং তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি তার নিজের প্রতিষ্ঠিত বুনন আর্ট স্পেসে প্রতিমাসে চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালা বা ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আয়োজকদের আহবান জানান। তিনি এ ধরণের আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতি প্রফেসর মোঃ কেরামত আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি গৌরান্বিত বোধ করেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ আমরা অর্জন করেছি। তার উদ্দেশ্যে ছিল সর্বক্ষেত্রে সাম্যভিত্তিক সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার এবং গৌরব। এই গৌরবগাঁথা নিয়ে বরেণ্য চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তা আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায় সর্ম্পকে অবগত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তানভীর মোকাম্মেলের তাজ উদ্দিন আহম্মদ ঃ নিঃসঙ্গ সারথি ও জীবন ঢুলী চলচ্চিত্র দুটি প্রদর্শিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৩০মিনিটে নদীর নাম মধুমতি এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রাবেয়া চলচ্চিত্র দুটি প্রদর্শিত হবে।

 

 

 


এই নিউজটি 1031 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments