রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ ,৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১:০৯ অপরাহ্ণ ,৩ ডিসেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : তথ্য কমিশন, ঢাকা’র আয়োজনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় গতকাল ২রা ডিসেম্বর সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য কমিশনার অধ্যাপিকা ড. খুরশীদা বেগম সাঈদ। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড.সৈয়দা নওশীন পর্নিনীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সোনামনি চাকমা।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সহযোগিতায় তথ্য অধিকার আইনের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন তথ্য কমিশনের পরিচালক (গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণ) মোঃ সাইফুল্লাহিল আজম। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ কাওছার হোসেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য কমিশনার অধ্যাপিকা ড. খুরশীদা বেগম সাঈদ বলেন, তথ্য অধিকার আইন গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠিকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যান্য আইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে আইনটিকে অধিকতর শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আইন প্রণীত হলেও জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে কোন আইনই কার্যকর হয় না।

তিনি আরও বলেন, গোপনীয়তার সংস্কৃতি ভেঙ্গে জনগণের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এবং রাষ্ট্রের উপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আইনটি করা হয়েছে। এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে সরকার ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী হবে। সরকারী কার্যক্রম সম্পর্কে কারো কোন বিভ্রান্তি থাকবে না। আইনটি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের স্বীয় কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সৃষ্টি করবে।

সভাপতির বক্তব্যে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দা নওশীন পর্নিনী অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, কর্মশালায় আপনারা যা শিখবেন, জনগণের মাঝে পৌছে দেবেন। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সিক্রেট প্রভিশন বাদে যা আছে তার সবকিছুই দিয়ে দেবেন।

স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোনামনি চাকমা বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ঠ ধারণা লাভের জন্যই আজকের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারী, স্বায়ত্ব শাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী-বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে আইনটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সহযোগিতায় তথ্য কমিশনের পরিচালক (গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণ) মোঃ সাইফুল্লাহিল আজম তথ্য প্রাপ্তি, আপীল ও অভিযোগসহ আইনটির বিস্তারিত বিষয়াদি উপস্থাপন করেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোঃ তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক(উপ-সচিব) মোঃ রেজানুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) গাজী আসাদুজ্জামান কবির, কালেক্টরেটের কর্মকর্তাগণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারী দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাগণ, জেলার ৫টি উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবগণ, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ মোট ১৭৯জন এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, সংবিধানে বর্ণিত জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিগত ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে অধ্যাদেশ আকারে প্রণীত হওয়ার পর ২০০৯ সালের ১লা জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য অধিকার আইনটি কার্যকর হয়। তবে আইনটি প্রণয়নের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও আইনটির প্রয়োগ/ব্যবহার আশানুরূপ নয় বা আইনটির ব্যাপারে তেমন সচেতনতা এখনো গড়ে ওঠেনি।

 

আপডেট : বুধবার ডিসেম্বর ৩,২০১৪/ ০১:০৭ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 962 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments