,

রাজবাড়ীর বসুন্ধারা আবাসিক হোটেল থেকে নারী পাচারকারী দলের দুই সদস্য গ্রেফতার

News

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী শহরের বড়পুলস্থ বসুন্ধারা আবাসিক হোটেল থেকে গত ৩রা ডিসেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে নারী পাচারকারী দলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার ও এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ । গ্রেফতারকৃতরা ওই কিশোরীকে গাজীপুরের তন্দ্রা এলাকা থেকে বাসা বাড়ীতে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীতে নিয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ঃ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার চারপাড়া গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক(৩০) ও রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়াবাড়ী গ্রামের মৃত দানেজ শেখের ছেলে বজলুর শেখ(২৫)। উদ্ধার হওয়া কিশোরী(১৪)। সে টাঙ্গাইল জেলা সদরের শালিনা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারের পর ওই কিশোরী জানায়, সে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ৬মাস ধরে আপন চাচাতো ভাই নুরে আলম (১৮)-এর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। নুরে আলম তন্দ্রায় একটি ফ্যাক্টারীতে কাজ করতো। সে কারনে গত ৩ ডিসেম্বর সকালে নুরে আলম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুরের তন্দ্রায় নিয়ে আসে। তন্দ্রায় আসার পর নুরে আলম তাকে একটি ফ্লাক্সি লোডের দোকানে বসিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সে নুরে আলমকে পাওয়ার জন্য চান্দিনা এলাকায় চাকুরী করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে কাজের কোন সন্ধান আছে নাকি বলে ওই দোকান মালিককে জানায়। এ সময় ওই দোকানের মধ্যে রফিক বসা ছিল। ওই কিশোরীর কথা শুনে রফিক তাকে বলে ৩হাজার টাকা বেতনে একটি চাকুরী আছে। আমার ভাবীর বাসা আছে তার সাথে থেকে তুমি ওই চাকুরীটা করতে পারবে। এরপর সে চাকুরী করতে রাজী হলে রফিক তাকে ভাবীর বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসে। কিন্তু রফিক তাকে ভাবীর বাসায় না নিয়ে চান্দুরা এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে যায়। এরপর রফিক তাকে বলে আমি তোমাকে দৌলতদিয়ায় আমার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় চাকুরী দেব। আমার চাচাতো ভাই সরকারী চাকুরী করে। বাসায় শুধু আমার ভাবী থাকে। বিকেলের দিকে রফিক তার পরিচিত বজলুর শেখকে সাথে করে ওই কিশোরীকে নিয়ে বাসযোগে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। (শফিপুর এলাকা থেকে বজলুর তাদের সাথে আসে) এরআগে ওই কিশোরী তাদেরকে দৌলতদিয়া কতদুর জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় এইতো একটু সামনেই। অল্প সময় লাগবে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রফিক ও বজলুর ওই কিশোরীকে দৌলতদিয়ায় নিয়ে আসে। দৌলতদিয়ায় আসার পর কয়েকজন লোক তাদের পিছু নিলে রফিক ও বজলুর অবস্থা বেগতিক দেখে মাহেন্দ্র যোগে ওই কিশোরীকে রাজবাড়ী শহরের বড়পুলে নিয়ে আসে এবং ভাই বোন পরিচয় দিয়ে বসুন্ধারা আবাসিক হোটেলে উঠে। সেখান থেকেই রাত সোয়া ২টার দিকে পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে ও পাচারকারী ২জনকে গ্রেফতার করে।

রাজবাড়ী থানার এস.আই ফরিদ জানান, গত ৩রা ডিসেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে বসুন্ধারা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারের বিষয়টি সন্দেহ হলে সে পুলিশকে খবর দেয়। এ খবর পেয়ে রাত সোয়া ২টার দিকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং উল্লেখিত ২জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ওই কিশোরীকে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীতে নিয়ে এসেছিল।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের কার্যবিধির ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়াও একই দিন ওই কিশোরীকে জবানবন্দী প্রদানের জন্য আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জবানবন্দী রেকর্ড শেষে ফরিদপুরের সেফহোমে প্রেরন করেন।

এ ঘটনায় ওই কিশোরী গ্রেফতারকৃত ২জনসহ তার চাচাতো ভাই নুরে আলমকে আসামী করে রাজবাড়ী থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

 

 

আপডেট : শুক্রবার ডিসেম্বর ৫,২০১৪/ ১২:১৫ পিএম/ তামান্না

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর