রিলিফ দেয়ার কথা বলে আমার স্বাক্ষর নিয়ে আক্কাস-রেজা মিথ্যা মামলা করে : আমাকে কেউ ধর্ষণের চেষ্টা করে নাই

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ ,১১ ডিসেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১:৫৮ অপরাহ্ণ ,১১ ডিসেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রিলিফ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পৌর মেয়রের কাছে দরখাস্ত দেয়ার কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে মোঃ আক্কাস আলী মোল্লা এবং তার সহযোগী রেজা রাজবাড়ী থানায় মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা (রাজবাড়ী থানার মামলা নং-৩১, তাং-১৮/১১/২০১৪ইং) দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই মামলার বাদী ও ১নং বেড়াডাঙ্গার এনজিও সেভ দ্যা চিলড্রেনের নারী কর্মী নাজমা আক্তার(৩২)।

গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এতিমখানা মোড়ের লুলুর পুকুর চালায় ওই নারী এনজিও কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে বিনোদপুরের রফিকুল ইসলাম(৩৩) ও বিনোদপুর নতুন পাড়ার খালিদ হাসান (৩৫)-এর বিরুদ্ধে ১৮ নভেম্বর রাজবাড়ী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হলে এবং সেই মামলার রেফারেন্সে দৈনিক মাতৃকন্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ওই ধর্ষনের চেষ্টার মামলার বাদী নারী এনজিও কর্মী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সহযোগিতায় গত ৩০ নভেম্বর রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাসির উদ্দীনের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২২ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দী এবং পরবর্তীতে গত ৪ঠা ডিসেম্বর রাজবাড়ীর নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামা প্রদানের মাধ্যমে মিথ্যা মামলাটি রুজু হওয়ার নেপথ্যের কাহিনী বর্ণনা করেছে।

রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাসির উদ্দীনের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২২ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দীতে ওই নারী এনজিও কর্মী উল্লেখ করেছে, ‘ইংরেজী ০৮/১১/১৪ তারিখ সন্ধ্যা ৬.৩০ ঘটিকায় বিনোদপুর এতিমখানার নিকট থেকে আমাকে কেউ অপহরণ করে নাই বা ধর্ষণের চেষ্টাও করে নাই। এই মামলার আসামী রফিক এবং খালিদ হোসেনকে আমি চিনি না। আমি থানায় কোন মামলাও করি নাই।’

অপরদিকে নোটারী পাবলিকের কাছে করা হলফনামায় সে উল্লেখ করেছে, ‘আমি সেভ দ্যা চিলড্রেন, ১নং বেড়াডাঙ্গা রাজবাড়ী অফিসে চাকুরী করি। আমার স্বামী অটোরিক্সা চালক। আমি খুবই দরিদ্র শ্রেণীর লোক হওয়ায়, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে স্বামী সন্তানদের নিয়ে জীবিকা চালাই। সাহায্য সহযোগিতার সুবাদে বেশ কিছুদিন পূর্বে জনৈক আক্কাস আলী মোল্লা, পিতা-এনায়েত আলী মোল্লা, সাং-বিনোদপুর, থানা ও জেলা-রাজবাড়ী এর সাথে আমার জানাশোনা ও পরিচয় হয়। সেই সুত্রে তার সঙ্গে আন্তরিকতা থাকে এবং আমি তাকে খুবই বিশ্বাস করতাম। সে গত ঈদের পূর্বে রাজবাড়ী পৌরসভা হতে আমাকে রিলিফের কার্ড দেবে বলে জানায়। সে কারণে, গত ০৮/১১/২০১৪ তারিখ দুপুর ০২.৩০ ঘটিকার দিকে আমাকে ফোন করে রাজবাড়ী ২নং রেলগেটে ডেকে আনে, পাশেই আমার অফিস। আমি রেলগেট আসলে আক্কাস আলী ও বেলগাছীর রেজাকে দেখতে পাই। তারা ২জনে পৌর মেয়রের কাছে দরখাস্ত দেয়ার কথা বলে সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। কয়েক দিন পর আক্কাস আলী আমাকে সন্ধ্যায় মক্তব মোড়ে ডেকে আনে। আমি মক্তব মোড়ে আক্কাস, রেজা ও অন্য একটি লোক দেখতে পাই। কালো লোকটি উক্ত দরখাস্ত হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি লিখিত কাগজ বের করে আমার স্বাক্ষর নেয় এবং প্রকাশ করে কিছুদিনের মধ্যে তুই বড় অংকের টাকা পাবি। গত ইং ১৯/১১/২০১৪ তারিখ সন্ধ্যায় একজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে বলে, আপনি রাজবাড়ী থানায় নারী নির্যাতনের মামলা দিয়েছেন, এই ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলতে চাই। আমি বলি আমি কোন মামলা করি নাই। পরে আমি বিষয়টি আমার স্বামী হারুন বেপারীকে জানালে তিনি থানায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পান যে, গত ১৮/১১/১৪ তারিখে মামলা হয়েছে। উক্ত মামলার কপি উঠিয়ে দেখতে পাই যে, গত ০৮/১১/১৪ তারিখ সন্ধ্যা ০৬.৩০ ঘটিকার ঘটনা উল্লেখে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা হয়েছে। উক্ত মামলায় মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিং-মৃতঃ সিরাজ খান ও মোঃ খালিদ হাসান (৩৫), পিং-আব্দুল হাই, সর্ব সাং-বিনোদপুর, থানা ও জেলা-রাজবাড়ীদ্বয়কে আসামী করা হয়েছে। আমি উক্ত আসামীদ্বয়কে চিনি না এবং ওই দিন আমি রাত্রে ০৭.৪০ ঘটিকা পর্যন্ত সেভ দ্যা চিলড্রেন অফিসে কাজ করি। পরে আমার স্বামীর সঙ্গে আমি বাড়ীতে ফিরে যাই। ওই দিনে বা ওই ঘটনার আগে-পরে আসামীদের সঙ্গে কোন ঘটনা ঘটে নাই। আমার বিশ্বাস জনৈক আক্কাস আলী, রেজাসহ অপরিচিত ওই লোকটি রিলিফ দেয়ার কথা বলে মিথ্যা উক্তি মূলে মামলা সৃজন করেছে।

 

 

আপডেট : বৃহস্পতিবার ডিসেম্বর ১১,২০১৪/ ০১:৫০ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 995 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments