,

রেলওয়ের রাজবাড়ী অঞ্চলে স্টেশন মাস্টার সংকট : ট্রেন চলাচলে বিপর্যয়

News

স্টাফ রিপোর্টার : রেলওয়ের রাজবাড়ী অঞ্চলে স্টেশন মাস্টার সংকটের ফলে এ অঞ্চলে ট্রেন চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া, রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেললাইন দীর্ঘদিন বন্ধ জনিত কারণে ২০টি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টস ম্যানদের কারও গোল্ডেন হ্যান্ডসেক কারও অন্যত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। প্রায় ১৫বছর পর এ লাইনে লোকবল সংকট রেখেই রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া, রাজবাড়ী-ফরিদপুর নতুন ভাবে রেল লাইন চালু করা হয়। ফলে এসব স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের অভাবে ট্রেন চালানো রীতিমতো মহাসংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে অবসর জনিত কারণে লোকবল কমে যাওয়া। অন্যদিকে নতুন ভাবে লাইন চালু। ফলে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল রেল স্টেশনের পদ পূরণের।

২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের প্রথম ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই রেলওয়েতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে নতুন ভাবে চালু হওয়া এসব লাইনে অবসরে যাওয়া রেলকর্মীদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে কোন ভাবে চালু করলেও নতুন করে অবসরে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় মহাসংকট সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলের রেল সিডিউল রক্ষা করা।

রাজবাড়ী রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হযরত আলী জানান, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া লাইনে ১২টি স্টেশনের জন্য ২৪জন স্টেশন ও সহকারী মাস্টারের বিপরীতে আছে মাত্র ৪জন। এরমধ্যে ২জন চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ। রাজবাড়ী-ফরিদপুর লাইনে ১০জন স্টেশন মাস্টারের বিপরীতে আছে মাত্র ২জন। গোয়ালন্দ-কুস্টিয়া-জগতি লাইনে ২৭জন মাস্টারের বিপরীতে আছে মাত্র ১০জন।এর মধ্যে ৪জনই চুক্তিভিত্তিক। রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া, রাজবাড়ী-ফরিদপুর নতুন করে রেললাইন চালু করায় এর গুরুত্বের পাশাপাশি স্টেশনের স্থাবর সম্পদ ও মালামাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্টেশন মাস্টার জরুরি হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে এ দু’টি লাইনে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করায় নির্দিষ্ট সংখ্যক স্টেশনে ট্রেন স্টপেজের কারণে মাস্টারহীন অন্য স্টেশনগুলো রয়েছে নিরাপত্তাহীন। ওই সব স্টেশনের কোটি কোটি টাকার সম্পদ তসরূপ বা নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন রেল বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা। রেলের দায়িত্বপূর্ণ কেই না থাকায় স্টেশন এলাকার রেলের মূল্যবান জায়গা চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে। এ সুযোগে তারা সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছে।

এদিকে স্টেশন মাস্টার বা বুকিং ক্লার্ক না থাকায় চালু স্টেশন গুলোয় টিকেট বিক্র বা মালামাল বুকিং করা যাচ্ছেনা। সব মিলিয়ে রেলের লোকসান গুণতে হচ্ছে মাস্টার বিহীন স্টেশন গুলোতে। আগামী বছরের শুরুতেই রাজবাড়ী লাইনে মূল চাকুরীতে থাকা এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেশ কিছু কর্মী অবসরে যাবেন। এ অবস্থায় নতুন করে স্টেশন মাস্টার নিয়োগ করা না হলে ট্রেন চালানো দূরহ হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল ভূইয়ার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকাল তিনি জানান, মামলা জনিত কারণে নিয়োগের বিষয়টি আটকে আছে। তবে অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।

 

 

আপডেট : শনিবার ডিসেম্বর ১৩,২০১৪/ ০৯:৫০ এএম/ আশিক

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর