মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ নারী পুরুষ হত্যার জন্য শেখ মুজিব দায়ী : লন্ডনে তারেক রহমান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ ,১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১:৩২ অপরাহ্ণ ,১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যন তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় মুজিব পরিবারের নূন্যতম অবদান নেই। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ মুজিবের পরিবার ও হানাদার পাক বাহিনীর যে আতাঁত হয়েছিল ইতিহাসে তার বিভিন্ন প্রমাণ আছে। লাখ লাখ পরিবার যখন আধবেলা খেয়ে না খেয়ে দিশেহার ছিল তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে বিরাট অংকের মাসিক ভাতা দেয়া হতো। শেখ মুজিব পাকিস্তানে বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামীলীগকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হিসাবে শেখ মুজিব নিজেও বিশ্বাস করতেন না । মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামী লীগকে কখনো তিনি প্রস্তুত করেন নি।মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী পুরুষকে হত্যার জন্য শেখ মুজিবই দায়ী।

যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমান বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য ও দলিল উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদান আছে তাদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধের পরবর্তী ৪৪ বছরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান সামরিক শাসক ইয়হিয়া খানের ষড়যন্ত্রমূলক ‘এল এফ ও’ অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এ অধ্যাদেশের অধীনে একই বছর ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ‘এল এফ ও’ অধ্যাদেশের মূল ছিল অখন্ড পাকিস্থান রক্ষার সংগ্রাম। কিন্তু ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষনার মাধ্যমে তাদের অখন্ড পাকিস্থান রক্ষার সংগ্রাম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’— ঐ একটি শব্দই ছিলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক দুর্দমনীয় শক্তি, তাদের আত্মার কথা।

তারেক রহমান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউক্লিয়াসের জনক সিরাজুল আলম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “সিরাজুল আলম খান বলেছেন, আওয়ামীলীগ হলো এন্টি লিবারেশন ফোর্স।” তিনি এর সোজা বাংলা করে বলেন, ‘আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল’। এ সময় মহীউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বইয়ের বিভিন্ন রেফারেন্স এবং সিরাজুল আলম খানের সাথে লেখক মহিউদ্দিনের কথোপকথনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তারেক রহমান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ঘটনা এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখকের বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ মুজিবকে আবারো পাক বন্ধু হিসেবে মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শেখ মুজিব অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। শেখ মুজিব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসেছিলেন। সে সময় তিনি এ কে খন্দকার, তাজ উদ্দিন আহমদের লেখা, শিরিন শারমিনের লেখা, বদরুদ্দিন উমরের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন ।
চলমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধ সরকার আখ্যায়িত করে বলেন, রংহেডে হাসিনা তার বাকশালী পিতার মতো ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে আছে। দেশব্যাপী আওয়ামী লীগে বিভিন্ন অপকর্ম ও দুষ্কর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশিরা যেভাবে জেগে উঠেছিলো, এই অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আবারো সবাই জেগে উঠছে, সেদিন আর বেশী দূরে নয়।10859620_1027918660558919_359109065_n

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইতিহাসের সত্য উচ্চারণ করেছেন। আর এতে আধিপত্যবাদী আওয়ামী লীগের গ্রাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তাই বস্তির নরনারীরা যে ভাষায় কথা বলেন তারা সে ভাষায় কথা বলছেন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুজিব পরিবারের কারোই স্বাধীনতার যুদ্ধে কোন অবদান ছিল না, তারা মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হেয় করার চেষ্টা করছে। সময় এসেছে অনির্বাচিত অগণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের যড়যন্ত্র বন্ধ করার।

বিশেষ অতিথি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ২৬ মার্চে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা পরবর্তী ১১ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই আজ আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। সেই অমর নেতার হাত ধরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শত ষড়যন্ত্র বিএনপিতে কোণঠাসা করে রাখতে পারবে না।
পূর্ব লন্ডনের চেশিয়ার স্ট্রিটে অবস্থিত ‘এট্রিয়াম লন্ডন’ কমিউনিটি সেন্টারে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বিজয় দিবসের সভা শুরু হয়। (বাংলাদেশ সময় ১৬ ডিসেম্বর রাত ১২টা ৩০ মিনিট।)

মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ মালেক। আব্দুল হামিদ, আবুল কালাম আজাদ, তৈমুস আলী প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস এবং পরিচালনায় ছিলেন কয়সর আহমেদ।

এছাড়া পরদিন যুক্তরাজ্য জাসাসের আয়োজনে কনসার্ট ফর ডেমোক্রাসির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দেশনায়ক তারেক রহমান।

 

 

 


এই নিউজটি 934 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from বিশ্বজুড়ে