রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ ,২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ ,২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন গতকাল ২২ ডিসেম্বর দুপুরে উদ্বোধন করা হয়েছে। ফিতা কেটে ও ফলক উম্মোচনের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে ভবনটির উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী।

এ উপলক্ষে চন্দনী ইউনিয়র পরিষদের সামনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ যদি কমপ্লেক্স ভবনে হয় তাহলে সকল সেবা এখান থেকে পাওয়া যায়। এখন থেকে চন্দনীর মানুষ এ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা পাবে। বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে চন্দনী ইউনিয়নে কোন ওয়ার্ডে লোক সংখ্যা কত জানতে পারবে। আবার এখান থেকেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনগণ অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের জন্য সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান মকসুদ আহম্মেদ রাজার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমরা জমি পেয়েছি। তিনি জমিদাতা নরেন্দ্র নাথ দাসকে জমিদান করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী আরো বলেন, ইতিমধ্যেই আমি এ ইউনিয়নে ১৫কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করেছি এবং আরো কয়েকটি রাস্তা করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা উন্নয়ন করেছি। তিনি এ ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের চারপাশে ওয়াল নির্মাণসহ গেট এবং আশেপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোও উন্নয়নের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামগঞ্জের কোন রাস্তা কাঁচা রাখবেন না বলে জানিয়েছেন। আমার একবার এমপি হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আল্লাহ’র ইচ্ছায় আমি ৪বার সংসদ সদস্য হয়েছি। আমার উপর আপনারা যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা যদি সঠিক মতো পালন না করি তাহলে আল্লাহ’র কাছে আমাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। রাজবাড়ী ছোট জেলা। সবাই মিলেমিশে কাজ করলে রাজবাড়ীকে আমরা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহ, অগ্রণী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি নজরুল ইসলাম মনি ও চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরাম হোসেন। সেলিম রেজার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চন্দনী বাসষ্ট্যান্ড বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঃ হালিম মন্ডল, এডঃ আইয়ুব আলী খান ও চন্দনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ রব বক্তব্য রাখেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। এ বিজয়ের মাসেই চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন হলো। এখানে সরকারের ৬টি বিভাগের অফিস থাকবে, কাজ করবে। রাজবাড়ী জেলায় কয়েকটি সামাজিক সমস্যা আছে। তার মধ্যে একটি বাল্য বিবাহ। বর্তমান আইন অনুযায়ী ছেলে বয়স ২১বছর ও মেয়ের বয়স ১৮বছরের নিচে বিবাহ হলে তাকে বাল্য বিবাহ বলে। বাল্য বিবাহ আইনত অপরাধ। বাল্য বিবাহের কুফল আপনারা সবাই জানেন। কাজেই বাল্য বিবাহকে কখনো সাপোর্ট করবেন না। কোথাও বাল্য বিবাহ হলে আমাদেরকে জানাবেন আমরা বিবাহ বন্ধ করে দেবো।

তিনি বলেন, আরেকটা সামাজিক সমস্যা হলো মাদক। রাজবাড়ীর স্কুলের মেয়েরাও মাদক সেবন করে। বিষয়টি শুনে খুব অবাক লেগেছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আপনাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার দারিদ্র বিমোচন ও ক্ষুধা মুক্ত দেশ গড়ার জন্য অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সরকার আশ্রয়ন প্রকল্প করেছে। সর্বপরি কল্যাণকামী এ সরকার দারিদ্র বিমোচনের জন্য বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি উন্নয়ন ও সুশাসন এক সাথে চলতে হবে। ধাওয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি লুট ছিল একটি বিছিন্ন ঘটনা। এটা বাংলাদেশে প্রতিদিনই ঘটে না। তাই আবারো খুব শীঘ্রই ধাওয়াপাড়া ঘাটে পুলিশ ফাঁড়ি হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা সবাই এগিয়ে আসলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মাদক সম্পর্কে বলেন, মাদক মুক্ত হবে যদি আপনারা মাদকসেবীদের আমাদের হাতে তুলে দেন। আপনারা সহযোগিতা করলে একদিন রাজবাড়ী অপরাধ মুক্ত হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক বলেন, এই কমপ্লেক্স ভবন যাতে না হয় সেজন্য হাইকোর্টে রিট পর্যন্ত হয়েছিল। সব বাঁধা পেরিয়ে আজ এই ভবনটি উদ্বোধন হলো। তিনি বলেন চন্দনী ইউনিয়নে অনেক সমস্যা আছে। একদিনেই সব সমস্যা হবে না। ইতিপূর্বে ধাওয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি লুট হয়েছে। ওই এলাকায় অনেকবার ডাকাতি হয়েছে। তাই শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করলে চলবে না। আপনাদেরও দেখতে হবে। তিনি মাদক ও বাল্য বিবাহ রোধের জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার চাচ্ছে সেবা মানুষের দাঁড় গোড়ায় পৌছে যাবে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে তথ্য সেবা কেন্দ্র। এ তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে আপনারা যে কোন ধরনের সহযোগিতা পাবেন। সরকারের ইচ্ছা আছে দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত দেশ গড়ার।
সভাপতির বক্তব্যে চন্দনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক শিকদার বলেন, এই ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন করতে গিয়ে ৩টি মামলা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগতভাবেও মামলা হয়েছে। যাতে এখানে ইউনিয়ন পরিষদ না হয়। যাই হোক প্রত্যেকটি মামলাই আমরা জিতেছি।

তিনি বলেন, চন্দনী ইউনিয়ন খাদ্য শস্যসহ শাক সবজি বিপুল পরিমানে উৎপাদন হয়। এখানে সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এক সাথে বসবাস করে। আমরা একে অপরের ধর্মের প্রতি সম্প্রতিশীল। এ ইউনিয়নের অনেক হিন্দু পরিবার আছে। কিন্তু কোন দিন কোন বিষয় নিয়ে আমাকে বিচারে বসতে হয়নি। তাই এ ইউনিয়নকে আরো উন্নয়ন করা হলে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি পাবে।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের জমিদাতা মৃত নরেন্দ্র নাথ দাসের স্ত্রী গীতা দাস, ছেলে শ্যামল দাসসহ আওয়ামীলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আপডেট : মঙ্গলবার ডিসেম্বর ২৩,২০১৪/ ১২:৫০ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 982 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments