,

কিডনী রোগে আক্রান্ত পুলিশের এএসআই নির্মলের জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে

স্টাফ রিপোর্টার : জটিল কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১বছর গুরুতর অসুস্থ্য থাকা পুলিশের এএসআই নির্মল মুখার্জী’র জীবন প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও ডিপার্টমেন্টালভাবে বা স্থানীয়ভাবে কোন আর্থিক সহায়তা পাননি তিনি । ইতিমধ্যে ভারতে সুচিকিৎসার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দেয়া ৪ মাসের ছুটির মেয়াদও শেষ হতে চলেছে।

জানাগেছে, রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর কার্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ এএসআই নির্মল মুখার্জী গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে গত ১৩ জানুয়ারী-২০১৪ প্রথমে ঢাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাকালে তার দুটো কিডনী অকেজো মর্মে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে। এরপর তিনি আরো অসুস্থ্য হলে ২২ ফেব্রুয়ারী-২০১৪ তাকে রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৩ ফেব্র“য়ারী চিকিৎসকের পরামর্শে তার কিডনীর ডায়ালাইসিস করা শুরু হয়। এভাবে সপ্তাহে দুই বার বারডেমে তার কিডনীর ডায়ালাইসিস করাতে হয়। বর্তমানে ফরিদপুরে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। নিজস্ব অর্থে এতোদিন চিকিৎসা করিয়ে এলেও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তার পক্ষে ক্রমশঃ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। দেশের কিডনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি সুচিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আবেদন করলে তার ৪মাসের ছুটি মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু ব্যয় বহুল ও জটিল কিডনী রোগের সুচিকিৎসার এএসআই নির্মল মুখার্জী স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি(মহাপুলিশ পরিদর্শক) বরাবর আবেদন করে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকলেও পুলিশ বিভাগ বা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কোন অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়নি। ফলে কোন অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় আজও তিনি সুচিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে পারেননি। তার ছুটির মেয়াদ প্রায় শেষ হবার পথে। ভারতে চিকিৎসার জন্য(কিডনী ট্রান্সপ্লান্টের জন্য) ১৫/২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।

গতকাল ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ বাজার সংলগ্ন শ্বশুর বাড়ীতে চিকিৎসাধীন এএসআই নির্মল কুমার মুখার্জী জানান, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহের ২দিন তাকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে গিয়ে কিডনীর ডায়ালাইসিস করাতে হয়। এতে প্রতি বারে ব্যয় হয় ৫হাজার টাকা করে। এরআগে ঢাকার বারডেমে সপ্তাহে ২দিন ডায়ালাইসিস করাতে তার খরচ হতো ১৪ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে এ রোগের চিকিৎসায় তার মাসে ব্যয় হচ্ছে ৬০/৭০ হাজার টাকা। অথচ তিনি সর্বসাকুল্যে বেতনই পান মাসে ২০ হাজার টাকার মতো। তার দুইটি সন্তান রয়েছে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ছেলে ঢাকার ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ লেখাপড়া করে। ৪বছরের ১৬ সেমিস্টারের মধ্যে তার মাত্র ২ সেমিস্টার সম্পন্ন হয়েছে। ছেলের লেখাপড়ার জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ১২হাজার টাকার পাশাপাশি ৪মাস অন্তর অন্তর আরো ৬০/৭০হাজার টাকা দিতে হয়। ইতিমধ্যে নিজের চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়ার পিছনে তিনি তার জীবনের সঞ্চিত সমস্ত অর্থই খরচ করে ফেলেছেন। তার স্ত্রী ঝর্না চক্রবর্তী যদি চাকুরী(সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স) না করতেন, তাহলে যে কি হতো তা তিনি চিন্তাই করতে পারেন না।

দীর্ঘ কয়েক বছর রাজবাড়ী জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কনস্টেবল এবং এএসআই পদে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনকারী এএসআই নির্মল কুমার মুখার্জী আক্ষেপ করে আরো বলেন, তার চাকুরী জীবনের আর মাত্র ১৮ মাস বাকী আছে। হয়তো ডায়ালাইসিস করাতে করাতেই একসময় তার জীবন প্রদীপ নিভে যাবে। তবে, তার আগে যদি ভারতে গিয়ে সঠিকভাবে কিডনী রোগের চিকিৎসা করাতে পারি-তাহলে একটু শান্তনা হলেও পাবো। ইতিপূর্বে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক এএসআই ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ৫/৬ লক্ষ টাকার সরকারী অর্থ সাহায্য প্রদান করায় সে ভারতে সুচিকিৎসা করিয়ে এখন মোটামুটি ভালভাবেই চাকুরী করছেন। অথচ পুলিশ বাহিনীর জেলা ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশ্বাস স্বত্ত্বেও ভাগ্যদোষেই হয়তো আমি কোন সরকারী সহায়তা পেলেন না।

একান্ত আলাপচারিতায় এএসআই নির্মল কুমার মুখার্জী আরো জানান, ১৯৭৭ সালের ৩ মে তিনি কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকুরী জীবনে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলাতে তিনি বিভিন্ন সময় রাজবাড়ী সদর, পাংশা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা এবং খানখানাপুর পুলিশ ফাঁড়ির পাশাপাশি বড় একটা সময় কাটিয়েছেন পুলিশ কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার(জিআরও) পদে। জিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীসহ অসংখ্যা মানুষকে সেবা দিতে পেরেছেন। এ ছাড়াও এএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসংখ্য সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার করেও তিনি সুনাম অর্জন করেন এবং পুরস্কৃত হন। কিন্তু এখন কেউ তার চিকিৎসার খোঁজ নেয় না।

পরিবারের সদস্যরা এএসআই নির্মল কুমার মুখার্জী জীবন বাঁচাতে কিডনী রোগের সুচিকিৎসার জন্য জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জেলার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন।

 

 

আপডেট : বৃহস্পতিবার ডিসেম্বর ২৫,২০১৪/ ০৪:২৭ পিএম/ আশিক

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর