বাজান রে, আমারে একখান কম্বল দেবেন?

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ ,২০ জানুয়ারি, ২০১৫ | আপডেট: ৪:০৩ অপরাহ্ণ ,২০ জানুয়ারি, ২০১৫
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : বাজান রে, আমারে একখান কম্বল দেবেন? টালের চোটে (তীব্র শীতে) রাইতে ঘুমাইতে পারি না। সারাক্ষণ দোম যায় যায় অবস্থা হয়। তাই খুব কষ্টে আছি রে বাজান। দয়া কইরা আমারে একখান কম্বল দেবেন?

তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে একটি কম্বলের জন্য এভাবেই আকুতি জানালেন গোয়ালন্দের ৭৩ বছর বয়সী অসহায় গোলাপ আলী সরদার। এক সময় বাড়ি ছিল উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কুশাহাটা গ্রামে। ১৫ বছর আগে নদীভাঙনের কবলে পড়ে তাঁর জমিজমা-ঘরবাড়ি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়। অবস্থাশালী কৃষক গোলাপ আলী হন সর্বহারা। সেই থেকে তিনি অসহায়। পরে পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নেন দৌলতদিয়া ঘাটের সাইনবোর্ড এলাকায়। সেখানে রেললাইনের ঢালে ঝুঁপড়িঘর তুলে বাস করছেন বৃদ্ধ গোলাপ। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। দিনমজুর ছেলে কোব্বাত আলীই চালাচ্ছেন তাঁর সংসার। প্রচণ্ড শীত। দুই বেলা দুই মুঠো ভাতের জোগাড় করতে পারলেও অর্থের অভাবে ছেলে কোব্বাত তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য শীতবস্ত্র কিনে দিতে পারছেন না। প্রতিবেশীর কাছ থেকে পাওয়া একটি পুরনো কোটই বৃদ্ধ গোলাপের একমাত্র শীতনিবারণী।

এ দিকে গতকাল সোমবার সকালে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট রেস্ট হাউসের সামনে এলাকার আট শতাধিক গরিব শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীসহ গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে কম্বল বিতরণের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান বৃদ্ধ গোলাপ। এ সময় একটি কম্বলের জন্য বৃদ্ধ গোলাপ আলী উপস্থিত অনেকের কাছে আকুতি-মিনতি করেও পাননি একটি কম্বল। শেষে খালি হাতেই ঘরে ফেরেন অশীতিপর এই বৃদ্ধ। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নিজের ট্যাকায় গ্যারামের কতো মাইনষেরে কম্বল কিনা দিছি।’

শৈত্যপ্রবাহে শুধু এক গোলাপ নয় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হাজার হাজার গোলাপ মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আপডেট : মঙ্গলবার জানুয়ারী ২০,২০১৫/ ০৩:২৯ পিএম/ তামান্না


এই নিউজটি 953 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments