খানখানাপুরে কিশোরীকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের চেষ্টা : থানায় মামলা রেকর্ড

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ ,২৫ জানুয়ারি, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ ,২৫ জানুয়ারি, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ডিগ্রিচর চাঁদপুর গ্রামের এক কিশোরীকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের চেষ্টার ঘটনায় গত শনিবার ৪জনের নামে সদর থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলো : ডিগ্রিচর চাঁদপুর গ্রামের মৃত প্রেম চরনের ছেলে শুকুমার রায়,বিনোদ রায়ের ছেলে সুবাস রায়,মৃত বিল্লুধারের ছেলে বিনোদ রায় ও বিনোদ রায়ের ভাগ্নে ভারতীয় নাগরিক কালাচাঁদসহ অজ্ঞাত ২/৩জন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ডিগ্রিচর চাঁদপুর গ্রামের আ: রশিদ সরদারের মেয়ে (১৪) ৪র্থ শ্রণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে অভাব অনটনের কারনে পড়াশুনা বাদ দিয়ে বাড়ীতে সংসারের কাজ কর্ম করতো। বিগত ২/৩ মাস আগে ভারত থেকে কালাচাঁদ ডিগ্রিচর চাঁদপুর গ্রামে তার মামা বিনোদ রায়ের বাড়ীতে বেড়াতে আসে। উল্লেখিত আসামীদের বাড়ী ও ভিকটিমের বাড়ী পাশাপাশি হওয়ায় কালাচাঁদ ওই কিশোরীকে ভারতে পাচার করার ফন্দি আটে। গত ৭ই জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে উল্লেখিতরা তাদের বাড়ীতে ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষন পরে সে ফিরে না আসলে তার পিতা বিনোদ রায়ের বাড়ীতে যায়। এসময় তিনি তার মেয়ে ও উল্লেখিতদের ওই বাড়ীতে দেখতে না পেয়ে মহিলাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। এতে তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে তার মেয়েকে খুঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও তার মেয়ের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার একদিন পর গত ৯জানুয়ারী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দর্শনা বর্ডার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে আ: রশিদের কাছে ফোন করে জানানো হয় ভারতে পাচার করার সময় পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করে হেফাজতে রেখেছে। তবে পাচারকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর দর্শনা বর্ডার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ওই কিশোরীকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়ীতে আসার পর ওই কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উদ্ধারের পর ওই কিশোরী জানায় শুকুমার রায়, সুবাস রায় ও বিনোদ রায় ভারতে পাচারের জন্য তাকে কালাচাঁদের কাছে বিক্রি করেছিল।

এ ঘটনার পর ওই কিশোরীর পিতা রাজবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কতৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দিলে তিনি গত ১২জানুয়ারী উল্লেখিতদের আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করার জন্য রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করলে ২৩ জানুয়ারী মামলাটি রেকর্ড হয়। রাজবাড়ী থানার মামলা নং-৯, ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) ৫(১) (২)/৩০। তবে আসামীরা কেউ গ্রেফতার হয়নি।

 

আপডেট : রবিবার জানুয়ারী ২৫,২০১৫/ ১১:৫২ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 905 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]