বিয়ের মেহেদীর রঙ না শুকাতেই লাশ হলো আসমানী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ ,১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ | আপডেট: ৬:০৭ অপরাহ্ণ ,১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : বিয়ের মেহেদীর রঙ না শুকাতেই এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিতে হলো রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের আশুর হাট গ্রামের আসমানী খাতুন (২২)কে। বিয়ের এক মাস পর শ্বশুর বাড়ী থেকে পিতার বাড়ীতে আসার পর দিনই লাশ হয় আসমানী। অথচ তার পিতার দাবী পেটের ব্যথার কারনে সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে আসমানী মারা যায়। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্টে আসমানীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ডাক্তার তার মতামত প্রকাশ করলে এটি হত্যা বলে প্রমানিত হয়। এ ঘটনায় পাংশা থানার এসআই মোঃ হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে গত ৩০ জানুয়ারী ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার এক মাস আগে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বলকা লক্ষীপুর গ্রামের আকতার হোসেনের সাথে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের আশুর হাট গ্রামের আঃ ওহাব মিয়ার মেয়ে আসমানীর বিয়ে হয়। গত ৩০/৩/২০১৪ তারিখে সে শ্বশুর বাড়ী থেকে পিতা ওহাব মিয়ার বাড়ীর আসে।

পেটের ব্যথার কারনে পরদিন ১/৪/২০১৪ তারিখ বিকেলে সে নিজ ওড়না দিয়ে পিতার বাড়ীর বসতঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই দিন সন্ধ্যা অক্সিজেন দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে সে মারা যায়। এ ঘটনায় তার পিতা আঃ ওহাব মিয়া উল্লেখিত ঘটনার বিবরন দিয়ে পাংশা থানায় গত ২/৪/২০১৪ তারিখে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। এ অপমৃত্যু মামলার তদন্তভার নেন পাংশা থানার এসআই মোঃ হাফিজুর রহমান। তিনি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করেন।

গত ৭/৫/২০১৪ তারিখে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ডাক্তার আব্দুল হান্নান ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এ রিপোর্টে তিনি মতামত প্রকাশ করেন যে আসমানী আত্মহত্যা করেনি। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর এসআই হাফিজুর রহমান আসমানীর পরিবারের লোকজনকে মামলা করতে বললে তারা কেউই মামলা করতে রাজী হয়নি। যে কারনে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে দেরীতে হলেও গত ৩০ জানুয়ারী পাংশা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন এসআই হাফিজুর রহমান। মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত থাকতে পারে সে বিষয়ে এখনো কিছুই জানা যায়নি।

 

আপডেট : রবিবার ফেব্রুয়ারী ০১,২০১৫/ ০৫:৫৫ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1006 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments