ইভটিজারের কবল থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন জিয়াসমিন!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ ,১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ | আপডেট: ১:২১ পূর্বাহ্ণ ,১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
পিকচার

গণেশ পাল : ইভটিজারের হাত থেকে রক্ষা পেতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন জিয়াসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকালে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জিয়াসমিনকে শ্বাসরোধে মেরে তাঁর লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ইভটিজার ফরিদ শেখ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালন্দ পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লায়।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি মহল্লার ফল ব্যবসায়ী মো. ইসলাম মোল্লার মেয়ে জিয়াসমিন আক্তার (২৩)। চার বছর আগে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপেরডাঙ্গি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের প্রবাসী ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নববধু জিয়াছমিনকে দেশের বাড়িতে রেখে স্বামী আজগর আলী ফের সিংগাপুর চলে যান। পরে এক কন্যা সন্তানের মা হন জিয়াসমিন। এসময় সিংগাপুর থেকে বাবা হওয়ার সংবাদ জেনে আজগর আলী তার মেয়ের নাম রাখেন আনিছা। আনিছা এখন তিন বছরের শিশু। অথচ বাবা আজগর আলী প্রবাসে থাকার কারণে শিশু আনিছা এখনো তার বাবাকে স্বশরীরে দেখতে পায়নি। বাবাও দেখেনি তার কন্যাসন্তান আনিছাকে।

এদিকে সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে গত তিন মাস আগে প্রবাসী স্বামীর পরামর্শে জিয়াসমিন গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গোয়ালন্দ পৌর শহরের কলেজপাড়ার জনৈক হাকিম মাস্টারের একটি ভাড়াবাসায় গিয়ে ওঠেন। সেখানে শিশুসন্তানসহ জিয়াসমিন ও তাঁর আপন ছোটভাই লালচাঁদ মোল্লা বসবাস করছিলেন। এ অবস্থায় ওই গৃহবঁধূ জিয়াসমিনের দিকে কু-নজর পড়ে স্থানীয় কুমড়াকান্দি মহল্লার মো. গিয়াস শেখের ছেলে ফরিদ শেখের (২৮)। পরে কোনও একদিন ওই ফরিদ জিয়াসমিনকে একা পেয়ে সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজী না হওয়ায় ফরিদ প্রায়ই জিয়াসমিনকে নানা ভাবে উত্যাক্ত করতে থাকে। পরে ফরিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে একদিন বাধ্য হয়ে জিয়াসমিন বিষয়টি তাঁর মা-বাবাকে জানিয়ে দেন। এ কথা জেনে ফরিদ মোল্লা আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে জিয়াসমিনের পিছু লাগে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কলেজপাড়ার ওই বাসা থেকে ছোট ভাই লালচাঁদ মোল্লা প্রতিদিনের মতো কাজে বাইরে বেরিয়ে যান। এদিকে সকালের নাস্তা তৈরি শেষে জিয়াসমিন তাঁর শিশুকন্যা আনিছাকে কোলে নিয়ে রান্নাঘর থেকে নিজ শোবার ঘরে চলে যান। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জিয়াসমিনের অপর ছোটভাই মহিউদ্দিন পারিবারিক কাজে তার বোনের বাসায় আসেন। এসময় দরজা খোলা পেয়ে সরাসরি বেডরুমে গিয়ে মহিউদ্দিন তার বোনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের সেলিংয়ে ঝুলে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করেন। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি দেখে থানা পুলিশে খবর পাঠায়। পরে পুলিশ এসে গৃহবধূ জিয়াসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। তবে মৃত ওই গৃহবধূর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এসময় পাওয়া যায়নি। ওইদিন দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতের বাড়ি কুমড়াকান্দি মহল্লায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে জিয়াসমিনকে হারিয়ে তাঁর বাবার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে কান্নার রোল পড়েছে। এসময় মুত জিয়াসমিনের মা কুলসুম বেগম, বাবা ইসলাম মোল্লাসহ স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও মাতমে এলাকার বাতাস অনেকটা ভারি হয়ে ওঠে। সেখানে উপস্থিত অনেকেই শান্তনা সূচক নানা কথা বলেও তাঁদের কাউকেই শান্ত করতে পারছেন না কেউ। এসময় মেয়েহারা কুলসুম বেগম বারবার শুধু আর্তনাদ করে বলেন, আমি আর কিছুই চাইনা। তোমরা শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াসমিন আমার আদরের একমাত্র মেয়ে। সে আত্মহত্যা করেনি। লম্পট ফরিদ তাকে শ্বাসরোধে মেরে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে।’ এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি কাজ চলছিল।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাসির উল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে।’ তবে অভিযুক্ত ইফটিজার ফরিদ শেখ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। ফরিদকে আটক ও মৃতের ব্যবহৃত মোইল ফোনটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে বলেও জানান তিনি।

 

আপডেট : শুক্রবার ফেব্রুয়ারী ১৩,২০১৫/ ০১:০৪ এএম/ তামান্না


এই নিউজটি 882 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments