,

বাদাম বিক্রি করেই ৪৭ বছর!

News

শিহাবুর রহমান : নাম মোঃ ছালাম মৃধা। বয়স ৮০ বছর। বাড়ী মূলঘর ইউনিয়নের ছাইবাড়িয়া গ্রামে। বিভিন্ন স্কুল ও হাট বাজারে ফেরি করে বাদাম বিক্রির মধ্যদিয়ে পার করেছেন জীবনের ৪৭টি বছর। জীবনের প্ররন্ত বেলায় এসেও তিনি বাদাম বিক্রি করে যাচ্ছেন। এই বয়সে বাদাম বিক্রি করেও চোখে মুখে এতোটুকু ক্লান্তির ছাপ নেই। বাদাম বিক্রি করার জন্য তাকে বাদাম বাদাম বলে চিৎকার করতে হয় না। ভাল বাদাম বিক্রি করেন তাই ক্রেতারা তাকে দেখলেই বাদাম কেনেন। শুধু তা-ই নয়। বাদাম বিক্রি করেই খুব সুখী আছেন বলে জানান তিনি। আসলেই কি তাই? ৮০ বছর বয়সে যাকে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করতে হয় সে কি করে সুখী হয়। এমন প্রশ্ন নিজের কাছেই দানা বাঁধতে শুরু করলো। একটু কৌতুহল নিয়ে খোঁজ নিলাম তার পরিবারের।

যতটুকু জানতে পারলাম তা হলো, ছালাম মৃধা ২ মেয়ে ও ৪ পুত্র সন্তানের জনক। এতগুলো সন্তানকে মানুষ করেছেন এই বাদাম বিক্রি করেই। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরাও বিয়ে সাদী করে যে যার মতো সংসার করছে। প্রত্যেক ছেলেই ঢাকায় কাজ করে। ছালাম মৃধার সংসারে শুধু তার জীবনচলার সাথী (স্ত্রী) ছাড়া আর কেউ নেই। এই দুজনের সংসার টানতেই ৮০ বছর বয়সেও ছালাম মৃধাকে এখনো বাদাম বিক্রি করতে হয়। অনেকেই বলেন পুত্র সন্তান হচ্ছে ভবিষ্যতের ব্যাংক ডিপোজিট। সেই তুলনা করলে ছালাম মৃধার রয়েছে চার চারটি ব্যাংক ডিপোজিট (মানে ৪ পুত্র সন্তান)। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা তার পুরোটাই উল্টো। যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি সন্তানদের মানুষ করেছিলেন সেই স্বপ্ন তার অধরাই থেকে গেছে।

সরকার নতুন আইন করছে বা করেছে যে সন্তানের সামর্থ্য আছে তাকে তার পিতা-মাতাকে ভরণ পোষন করতে হবে। না করলে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন করেই কি সব সমাধান করা যায়। যতক্ষন না পর্যন্ত ছালাম মৃধার সন্তানদের বিবেক জাগ্রত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত এরকম হাজার হাজার ছালাম মৃধাকে শেষ বয়সেও বাদাম বিক্রি করতে হবে। তাই আসুন আমাদের বিবেককে জাগ্রত করি।

 

 

আপডেট : সোমবার ফেব্রুয়ারী ১৬,২০১৫/ ০৮:২২ পিএম/ আশিক

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর