,

সর্বশেষ :
গোয়ালন্দে কমিটি দেয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে শোকজ রাজবাড়ীতে নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে আসছেন আসমা সিদ্দিকা মিলি রাজবাড়ীর বসন্তপুরে তরুণী ধর্ষণকে কেন্দ্র করে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি রাজবাড়ীতে ৭ বখাটে মিলে গণর্ধষণ করে সেই তরুণীকে রাজবাড়ীতে তরুণীকে গণধর্ষণের চেষ্টা, আটক ৩ রাজবাড়ীতে সিগারেট না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ পাংশায় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ৪ লাখ টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক রাজবাড়ীতে কাজী শান্তনু’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের মাতৃভাষা দিবস পালন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার স্কুলছাত্রী

আদর্শবান শিক্ষক হতে চায় বাদাম বিক্রেতা সুব্রত!

News

শিহাবুর রহমান :- পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে একজন আদর্শবান শিক্ষক হতে চায় বাদাম বিক্রেতা সুব্রত (১৫)। তবে সেই স্বপ্ন পুরন হবে কিনা সেটা নিয়েও তার প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও সে স্বপ্ন দেখছে। সুব্রত’র ভাল নাম সুব্রত চন্দ্র কুন্ডু। সে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। জন্মের পর পরই সে বাবা-মাকে হারায়। সেই থেকে সে মানুষ হচ্ছে তার মামা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বেনীনগর গ্রামের কর্ন্য চন্দ্র দাসের কাছে। কর্ন্য চন্দ্র দাস একজন পেশাদার বাদাম বিক্রেতা।

গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজবাড়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে বাদাম কিনতে গিয়ে পরিচয় হয় সুব্রতের সাথে। বয়স অল্প দেখে কত দিন ধরে বাদাম বিক্রি করছো জিজ্ঞাসা করাতেই সে বলল আমি জেলা স্কুলের ছাত্র। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে মামার (কর্ন্য চন্দ্র) সাথে বাদাম বিক্রি করি। জেলা স্কুলের ছাত্র বাদাম বিক্রি করছে শুনেই কেমন যেন মাথার মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠলো। খুব আগ্রহের সাথেই জিজ্ঞাসা করলাম বাদাম বিক্রি করছো কেন? উত্তরে সে জানালো ছোট বেলাতেই বাবা-মা দুজনেই মারা গেছে। ভাই বোনের মধ্যে সে একা। বাবা-মা জীবিত না থাকায় তার আশ্রয় হয়েছে মিজানপুর ইউনিয়নের বেনীনগর গ্রামে মামা বাড়ীতে। মামা কর্ন্য চন্দ্র কুন্ডুই তার দেখাশোনা করে। পড়াশুনা করে কি হতে চাও জানতে চাইলে সুব্রত বলে উঠলো ইচ্ছা আছে একজন আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু সে পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারবো কিনা জানি না? সুব্রতের সাথে কথা বলতে বলতেই দেখা হয়ে গেলো তার মামা কর্ন্য চন্দ্রের সাথে। সেও আলাদা বাদামের ঢালী নিয়ে বাদাম বিক্রি করছে। কর্ন্য চন্দ্র কুন্ডু জানালো খুব অল্প বয়সে সুব্রতের বাবা-মা মারা যায়। ওদের গ্রামের বাড়ী ছিল মাছপাড়াতে। বাবা-মা মারা যাওয়াতে তিনিই সুব্রতকে তার কাছে নিয়ে আসেন এবং একটু বড় হওয়ার পর স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি বাদাম বিক্রি করেই ভাগ্নে সুব্রতকে পড়াশুনা করাচ্ছেন। ছোট্ট সুব্রত এখন রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার ৮ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। তিনি আরো জানালেন, দিন বদলের সাথে সাথে পড়াশুনারও ব্যয় বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি সুব্রত’র পড়াশুনার ব্যয় বহন করতে পারবেন কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।

তাহলে বাবা-মা হীন মেধাবী ছাত্র সুব্রত কি অকালেই ঝড়ে যাবে এ প্রশ্ন সমাজের বিত্তবানদের কাছে? একটু সহযোগীতা পেলে সুব্রতও হতে পারে একজন আদর্শবান শিক্ষক! আসুন আমরা সুব্রতের পাশে দাঁড়াই।

 

 

আপডেট : বুধবার ফেব্রুয়ারী ২৫,২০১৫/ ১১:৪৫ পিএম/ আশিক

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর