,

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রিকালে তরুণী উদ্ধার : আটক ১

News

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : ভাল বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে গাজীপুর থেকে এক তরুণীকে (১৯) ফুঁসলিয়ে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে ধরাপড়ে শাহীন শেখ নামে এক যুবক। শেষে গণপিটুনি দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত শাহীন শেখ একজন পেশাদার নারী পাচারকারী। সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া জগৎপুর গ্রামের মৃত রহমত আলী শেখের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ওই তরুণীর বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী থানার পৌষপাথোয়ারী গ্রামে। কিছুদিন যাবত সে ঢাকা গাজীপুর এলাকায় এক বাসাবাড়িতে থেকে কাজের সন্ধান করছিল। প্রতিদিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটি ওই বাসা থেকে বের হয়ে কাজের সন্ধান করছিলেন। এসময় শাহীন শেখ নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরে শাহীন শেখ সাভার এলাকার এক হাসপাতালে ভাল বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় নিয়ে আসে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়াঘাট রেলস্টেশন এলাকায়। সেখানে মেয়েটিকে প্রথমে পদ্মা নামে এক বোর্ডিংয়ে রেখে পাশের পতিতাপল্লীর ভিতরে যায় শাহীন। পরে ফিরে এসে সে মেয়েটিকে নিয়ে রেললাইন অতিক্রম করে যৌনপল্লীর দিকে যাচ্ছিল। এসময় বিষয়টি টের পেয়ে মেয়েটি চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে শাহীন শেখকে আটক করে বেদম গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে থানাপুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট শাহীন শেখকে আটক করে তাদেরকে গোয়ালন্দঘাট থানায় নিয়ে যায়।

উদ্ধারকৃত ওই তরুনী পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ভাল কাজ দেওয়ার কথা বলে ওই শাহীন গাজীপুর থেকে আমাকে এখানে এনেছে। সে আমার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দঘাট থানার এসআই ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত শহীন শেখ একজন পেশাদার নারী পাচারকারী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় মানবপাচার ও প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ তবে উদ্ধারকৃত ওই তরুণী অল্পতে যৌনপল্লী থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানান তিনি।

আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী,২০১৫/ ০৯:৪৭ পিএম/ তামান্না

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর