,

রাজবাড়ীতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ : পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে ডিও লেটার

News

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলায় ৭৭জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের জন্য গত ৩রা মার্চ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন রাজবাড়ীর দুইজন জাতীয় সংসদ সদস্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী রাজবাড়ীতে পুলিশ কনস্টেবল পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরিত ডি.ও লেটারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারী রাজবাড়ী জেলায় পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল টাঙ্গানো হয়নি এবং মৌখিক পরীক্ষায় একসঙ্গে ১০জন পর্যন্ত প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে। ফলে জেলাবাসীরমত আমরাও এ পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দিহান। রাজবাড়ী জেলায় পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে যাদেরকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে জেলার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের ক্ষোভের কারণের সাথে আমরাও সহমত প্রকাশ করছি। ডি.ও লেটারে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল পূর্বক নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এ ব্যাপারে গত ১২ মার্চ রাতে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, বিগত দিনে পুলিশ কনস্টেবল পদে যত নিয়োগ হয়েছে সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়নি। এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় লাইনে দাঁড়ানোর সময় অনিয়ম-দুর্নীতি, লিখিত ও মৌখিত পরীক্ষা গ্রহনে অস্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপর্যুক্ত প্রার্থী থাকা সত্বেও রহস্যজনক কারনে পদ শূন্য রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিবাহিত পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীরাও তালিকায় স্থান পেয়েছে। গত ৩রা মার্চ এদের মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, চুড়ান্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে তদবীর ও লেনদেন করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা দুই এমপি গত ৩রা মার্চ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে সাক্ষাৎ করে ডি.ও লেটার দিয়ে এসেছি। গত বুধবার সংসদেও এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমার সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী বলেন, এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এ ব্যাপারে অনেক তথ্যই জানাগেছে। প্রয়োজনে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজবাড়ীর নিয়োগের বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।

কনস্টেবল নিয়োগে সংসদ সদস্যদের অভিযোগে বিষয়ে মোবাইলে জানতে চাওয়া হলে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন বলেন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর চেয়ে বেশী কোন মন্তব্য করতে তিনি রাজী হননি।
তবে পরবর্তীতে জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও ওয়ান ইন্সপেক্টর মোঃ আবুল বাশার মিয়া জানান, প্রার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যাদের নিয়োগ করা হবে তাদের ভেটিং(পুলিশী তদন্ত) করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বিষয়ে পরবর্তীতে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের অবহিত করবেন।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলায় ৬৫জন পুরুষ ও ১২জন মহিলা পদে কনস্টেবল নিয়োগের জন্য গত ২৮শে ফেব্র“য়ারী পুলিশ লাইনে প্রায় ৩হাজার পুরুষ ও মহিলা প্রার্থী উপস্থিত হয়। এর মধ্যে লাইন থেকে ৪৫০জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৯১জনের তালিকা হয়। গত ৩রা মার্চ বিকেলে এদের শারীরিক মেডিকেল পরীক্ষা(ইসিজি, এইচআইভি, এইচবিএসএজি, রক্তের আরবিএস, মহিলাদের পেগনেন্সি ও রক্তের গ্র“পিং) করা হয়। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রাজবাড়ী ক্লিনিক থেকে ৮৮জনকে ডিজিটাল এক্স-রে পরীক্ষা করানো হয় বলে জানাগেছে।

 

আপডেট : শুক্রবার মার্চ ১৩,২০১৫/ ০৬:১৩ পিএম/ তামান্না

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর