রাজবাড়ীতে পুলিশ কনস্টেবল পদে ঘুষ-দুর্নীতির নিয়োগ বাতিলের দাবীতে এমপিদের সাংবাদিক সম্মেলন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ণ ,১৫ মার্চ, ২০১৫ | আপডেট: ১২:০৯ অপরাহ্ণ ,১৫ মার্চ, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং পুনরায় পরীক্ষার দাবীতে শক্রবার (১৪ই মার্চ) দুপুর ২টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন জেলার ৩জন সংসদ সদস্য।

জানাকীর্ন সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী কামরুন নাহার লাভলী। এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে একাত্বতা প্রকাশ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিম। গত ২৮ ফেব্র“য়ারী এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, বিগত দিনে পুলিশ কনস্টেবল পদে যত নিয়োগ হয়েছে সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়নি। এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় লাইনে দাঁড়ানোর সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে অসাধু পুলিশ সদস্যদের মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ, গভীর রাতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময় নিয়োগ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অসাধু কর্মকর্তাদের প্রার্থীদের বিশেষ সুযোগ প্রদান করাসহ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে না টাঙ্গিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপর্যুক্ত প্রার্থী থাকা সত্বেও রহস্যজনক কারনে ১৪টি পদ শূন্য রাখা হয়েছে।

এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী আরো বলেন, কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত হওয়া কয়েকজন বিবাহিত প্রার্থীর নাম উল্লেখ বলেন নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে তাদেরকে চুড়ান্ত করা হয়। তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদর ওসি কল্যাণপুর গ্রামের এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫লক্ষ ৩০হাজার টাকা নিয়ে তার নিয়োগ চুড়ান্ত করে এবং নিয়োগ কমিটিতে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার বডিগার্ডের মাধ্যমে ৬লক্ষ টাকা দিয়ে দাদশী ইউপির এক জনপ্রতিনিধির ভাগ্নে বড়নূরপুর গ্রামের কৃষকের পুত্র নিয়োগ পেয়েছে। বালিয়াকান্দির রামদিয়া এলাকার এক রাজাকারের নাতিসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অনেকই এবারের নিয়োগে স্থান পেয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও আমাদের অজানা নয়। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত নিয়োগের তালিকা টাঙ্গানো হয়নি এবং সমস্ত প্রক্রিয়াই একটা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চেয়েছি কিন্তু তিনি আমাকে কোন সদুত্তোর দেননি।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এবার পুলিশ কনস্টেবল পদে বানিজ্যিক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন কে কত দিয়ে নিয়োগ পেয়েছে। কে কোন দল করে। নিয়োগের যোগ্য অনেক প্রার্থী এই দুর্নীতির প্রতিকার চায়। কিন্তু পুলিশী হয়রানীর ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছে না। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির কাছে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উপাত্ত পেশ করা হবে। তিনি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল পূর্বক নতুন নিয়োগের ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য আহবান জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিম। তিনি বলেন বালিয়াকান্দি উপজেলায় রাজাকারের নাতি ও বিবাহিত লোকেরও চাকুরী পেয়েছে। তিনি অবিলম্বে কনস্টেবল নিয়োগ বাতিল পূর্বক তদন্তের মাধ্যমে এই অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহনের দাবী জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মহম্মদ আলী চৌধুরী ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে রাজবাড়ী জেলায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম ও অসন্তোষ প্রকাশ করে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার দাবীতে গত ৩রা মার্চ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে ডিও লেটার প্রদান করেন রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী।

প্রকাশ থাকে যে, রাজবাড়ী জেলায় ৬৫জন পুরুষ ও ১২জন মহিলা পদে কনস্টেবল নিয়োগের জন্য গত ২৮শে ফেব্র“য়ারী পুলিশ লাইনে প্রায় ৩হাজার পুরুষ ও মহিলা প্রার্থী উপস্থিত হয়। এরমধ্যে লাইন থেকে ৪৫০জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৯১জনের তালিকা হয়। গত ৩রা মার্চ বিকেলে এদের মধ্যে ৮৮জনকে শারীরিক মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে গতকাল শনিবার একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা ফোনে জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা হবে বলে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পড়ে জেলা বিশেষ শাখার(ডিএসবি’র) এক কর্মকর্তা ফোন করে সাড়ে ৪টার প্রোগ্রাম বাতিলের কথা জানান।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীতে পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি এবং সংসদ সদস্যদের অসন্তুষ্ট ও নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ দাবী করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার প্রদান করায় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হলে মোটার অংকের টাকা ডনেশনের আশংকায় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অভিযুক্ত কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা।

 

আপডেট : শনিবার মার্চ ১৪,২০১৫/ ১১:০৫ পিএম/ তামান্না


এই নিউজটি 1292 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments