প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ ,২১ মার্চ, ২০১৫ | আপডেট: ৭:০৭ অপরাহ্ণ ,২১ মার্চ, ২০১৫
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজবাড়ী থেকে এক তরুণীকে ফুঁসলিয়ে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করেছে প্রেমিকরূপী দালাল তুষার আহমেদ ওরফে মজনু। পরে বিক্রির পাওনা টাকা আনতে গিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে ওই প্রেমিকরূপী দালাল মজনু। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে বেদম গণপিটুনি দিয়ে তাকে স্থানীয় থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ পতিতাপল্লীর বাড়িওয়ালী শাহানাজ বেগমের ঘর থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ওই তরুণী রাজবাড়ী সদর থানার আটদাপুনিয়া গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ে। তুষার আহমেদ ওরফে মজনু (২৫) একই থানার চন্দনি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তার শেখের ছেলে। সে একজন অটোরিকশাচালক। গত দুই মাস আগে অটোরিকশার যাত্রী হওয়ার সুবাদে ওই তরুণীর সঙ্গে মজনুর প্রথম পরিচয় হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা হতে থাকে। এক পর্যায়ে অটোরিকশাচালক মজনুর কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেয়ে মেয়েটি মনেপ্রাণে তাকে ভালোবেসে ফেলে। গত বুধবার বিকেলে বিয়ে করার কথা বলে মজনু তার প্রেমিকা তরুণীকে পাশের ‘প্রেমের বটতলা’ নামক এলাকায় আসতে বলে। ভালবাসার টানে মেয়েটি তার বাবার বাড়ী ছেড়ে প্রেমের বটতলায় ছুটে যায়। সেখানে মেয়েটি আসার পর ‘চলো আমরা বিয়ে করবো’- এ কথা বলে মজনু ওই মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে অটোরিকশাযোগে রাজবাড়ীর প্রেমের বটতলা থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালী শাহানাজ বেগমের কাছে চল্লিশ হাজার টাকায় প্রেমিকাকে বিক্রি করে মজনু। এ সময় সে ১৫ হাজার টাকা বাকি রেখে যৌনপল্লী ছেড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন থেকে শাহানাজ বাড়িওয়ালী ওই তরুনীকে দিয়ে জোর করে দেহ ব্যবসা চালানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরপরে শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মজনু তার প্রেমিকাকে বিক্রিবাবদ পাওনা ১৫ হাজার টাকা আনতে ফের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শাহানাজ বাড়িওয়ালীর বাড়িতে আসে। তখন পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না চাইলে এ নিয়ে ওই বাড়িওয়ালীর সঙ্গে মজনুর প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তুষার আহমেদ ওরফে মজনুকে আটক করে বেদম গুপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দালাল মজনুকে গ্রেফতার ও শাহানাজ বাড়িওয়ালীর ঘর থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িওয়ালী শাহানাজ বেগম পালিয়ে যায়।

উদ্ধারকৃত ওই তরুণী পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেন, এই মজনু আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। এ কারণে ভালোবেসে তার হাত ধরে আমি আমার বাবা-মায়ের ঘর ছেড়েছিলাম। অথচ ভালবাসার নামে সেই মজনু আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

 

আপডেট : শনিবার মার্চ ২১,২০১৫/ ০৬:৫৭ পিএম/ তামান্না

 


এই নিউজটি 1317 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments