নিজ দোকানে নিরাপদে ঘুমিয়েও লাশ হলেন ওষুধ ব্যবসায়ী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ ,৯ এপ্রিল, ২০১৫ | আপডেট: ১২:০৮ অপরাহ্ণ ,৯ এপ্রিল, ২০১৫
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : নিজ দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন ওষুধ দোকানদার জয়নাল সরদার। এ সময় দ্রুত গতিতে হঠাৎ একটি কাভার্ড ভ্যান এসে তাঁর দোকান ঘরে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে ওই দোকান ঘর ভেঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি পাশের খাঁদে পড়ে যায়। এতে ওই কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় জয়নাল সরদার ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্টের ট্রাফিকমোড় এলাকায়। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘুমচোখে চালক গাড়ি চালানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিকমোড়ে দায়িত্ব পালনে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার দেওয়ানপাড়া মহল্লার বলাই সরদারের ছেলে ওষুধ ব্যবসায়ী জয়নাল সরদার (৪০)। উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট এলাকায় তাঁর নিজস্ব ফার্মেসীতে বসে তিনি নিয়মিত ওষুধের ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নাল তাঁর ফার্মেসী বন্ধ করে দোকানের ভেতরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী অর্নি কার্গো সার্ভিসের গ্লুকোজ বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান এ সময় দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাটে এসে নামে। পরে ওই কাভার্ড ভ্যানটি ফেরিঘাট পন্টুন থেকে দ্রুত গতিতে ছেড়ে ঘাটের সংযোগ সড়ক অতিক্রম করে জিরো পয়েন্টের ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে পৌঁছায়। এ সময় ট্রাফিক মোড়ের বামদিকে বাইপাস সড়কে না গিয়ে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি রাস্তা ছেড়ে জয়নাল সরদারের ফার্মেসীর দোকানে গিয়ে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে দোকানঘর ভেঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি পাশের খাদে পানিতে গিয়ে পড়ে। এতে ফার্মেসীর ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা দোকান মালিক জয়নাল সরদার ওই কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ওই রাতেই পুলিশ ঘাতক কাভার্ড ভ্যান জব্দ ও চালক হাসান বেপারীকে আটক করে। এ ব্যাপারে আজ বুধবার গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৌলতদিয়াঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে কাভার্ড ভ্যানের চালক চোখে ঘুম নিয়ে তার গাড়ি চালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ আগে থেকে বাঁশি বাঁজিয়ে পথ নির্দেশনা দিলে সংশ্লিষ্ট কাভার্ড ভ্যানটির চালক অনেকটা সতর্ক হতে পারতেন।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টের ট্রাফিক মোড় একটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এ কারণে সেখানে একজন এটিএসআইয়ের নেতৃত্বে একদল ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে থাকেন। তবে ফেরি থেকে নেমে আসা গাড়িগুলোকে বাম দিকের বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার জন্য দিক নির্দেশনা না দিয়ে তারা সব সময় ফেরির সিরিয়ালে থাকা ঢাকাগামী মালবোঝাই প্রতিটি ট্রাক থেকে নগদ ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিরো পয়েন্ট এলাকার একজন দোকানদার জানান, মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনার সময় জিরো পয়েন্টে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ দলের সবাই পাশের এক চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণেই এমন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক গোপাল চন্দ্র মিস্ত্রি কালের কণ্ঠকে বলেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি ট্রাক থেকে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজীর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


এই নিউজটি 919 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments