চালকবিহীন ট্রেন পাড়ি দিল ২৬ কিলোমিটার : রহস্য উৎঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ণ ,১৩ এপ্রিল, ২০১৫ | আপডেট: ২:০০ অপরাহ্ণ ,১৩ এপ্রিল, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী রেল ষ্টেশন থেকে গতকাল ১২ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুরগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন শতাধিক যাত্রী নিয়ে রহস্যজনকভাবে চালক ও গার্ড ছাড়াই প্রায় ২৬ কিলোমিটার উল্টো রুটে চলেছে। এ সময় ট্রেনের মধ্যে থাকা যাত্রীরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়লেও কোন দূর্ঘটনা বা কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে এটি নাশকতার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ড্রাইভার, সহকারী ড্রাইভার ও ট্রেনটির গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সংরতি মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক রাজবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশন পরিদর্শন করেছেন।

রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান জানান, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ৬টি বগিয়ে নিয়ে রাজবাড়ী রেলষ্টেশন থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্লাটফর্মে ইঞ্জিন চালু অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। ২৩টি টিকেট বিক্রি হয়েছিল এর মধ্যে ১৫/১৬জন যাত্রীর ট্রেনের মধ্যে উঠে বসেছিল। হঠাৎ করে ট্রেনটি উল্টে রুটে পাংশার দিকে ছেড়ে যায়।

ট্রেনে থাকা টিটিই আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি মাঝামাঝি বগিতে ছিলেন। রাজবাড়ী প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রেনের মধ্যে এক মহিলা জানালা খুলতে পারছেনা বলে আমি জানালাটি খুলে দিই। ওই মুর্হুতে ট্রেনটি ফরিদপুরের দিকে না গিয়ে পাংশার দিকে চলা শুরু করে। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম ইঞ্জিনে পানি নেয়ার জন্য ট্রেনটি পিছিয়ে ২নং প্লাটফর্মে নেয়া হবে। এরপর ট্রেনটি রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সামনে সিগনাল পেরিয়ে গেলে আমি বুঝতে পারি একটা কিছু হয়েছে। এ সময় আমি ট্রেনের বগিতে থাকা চেইন ও কান টানি। এরপরেও ট্রেনটি না থামলে আমি নিশ্চিত হই ট্রেনটির ইঞ্জিনে কোন চালক নেই। এ সময় ট্রেনের মধ্যে ১৫/২০জন যাত্রী ছিল। ট্রেনটি সামনে না গিয়ে পিছনে যেতে দেখে তারা আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়ে। আমি তাদের অনেক বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করি। ট্রেনটি তখন ৪০/৪৫ কিঃমিঃ গতিতে চলছিল। চেইন ও কান টানার পরেও ট্রেনটি না থামলে আমি দুটি বগির ভ্যাকম পাইপ খুলে দেই। এরপর আস্তে আস্তে ট্রেনটির গতি কমতে থাকে এবং পাংশা রেল ষ্টেশন পাড় হয়ে এক কিলোমিটার দুরে গিয়ে ট্রেনটি থেমে যায়। তবে কোন ধরণের দূর্ঘটনা ঘটেনি।

অন্য একটি সুত্র জানায়, ট্রেনটির ড্রাইভার, সহকারী ড্রাইভার ও গার্ড ইঞ্জিন চালু করে প্লাটফর্মেই চা খাচ্ছিলেন। রহস্যজনকভাবে ট্রেনটি ব্যাগ গিয়ারে পড়ে ট্রেনটি উল্টো রুটে চলে যায়।

অপরদিকে ট্রেনটি ৪০/৪৫ কিঃমিঃ গতিতে চলেছে বলে ট্রেনটির ভিতর থাকা টিটিই আনোয়ার হোসেনের স্বীকারোক্তির সুত্র ধরে অবসরপ্রাপ্ত এক ড্রাইভার জানান, ৪০/৪৫ কিঃমিঃ গতিতে চলতে হলে ৩টি গিয়ার পরিবর্তন করতে হয়। ইঞ্জিনে যদি ড্রাইভার না থাকে তাহলে অন্য কেউ ছিল। একা একা এতো গতিতে ট্রেন চলা সম্ভব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, ওই ট্রেনের ড্রাইভার যে ছিলেন তিনি অত্যন্ত ভাল মানুষ। তবে তার ছেলে জামায়াত শিবিরের একজন কর্মী। গত শনিবার রাতে মানবতা বিরোধী মামলায় জামায়াত নেতা কামরুজ্জামানের ফাঁসি হওয়ার আক্রোশে নাশকতার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী জিআরপি থানার ইনচার্জ শ্রী সুনীল কুমার ঘোষ জানান, কোন নাশকতার উদ্দেশ্যে এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে জন্য ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী, সহকারী ড্রাইভার মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ শরীফ ও গার্ড সুবাস চন্দ্র শর্মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাটি যদি উদ্দেশ্যমূলক হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে রাজবাড়ী রেলষ্টেশনে সাধারন মানুষ ভীড় করে এবং সর্বত্র আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম রাজবাড়ীতে এসেছে। তারা ওই ট্রেনের দায়িত্বে থাকা গার্ড, ড্রাইভার ও সহকারী ড্রাইভারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়াও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গাজী আসাদুজ্জামান কবীরকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 


এই নিউজটি 979 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments