রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভাইয়ের প্রেমিকার সাথে দেখা করতে এসে বোন বেকায়দায়!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ ,১৯ এপ্রিল, ২০১৫ | আপডেট: ১২:১৪ অপরাহ্ণ ,২০ এপ্রিল, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : ভাইয়ের কথিত প্রেমিকার সাথে দেখা করতে এসে অপহরনের অভিযোগে গণধোলাই এর শিকার হয়েছে বোন ও বন্ধু। গতকাল ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে। এরা হলো ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার দশ হাজারী গ্রামের আলী আশরাফের মেয়ে মোছাঃ শিখা (৩২) ও একই উপজেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর অযোদ্ধা গ্রামের শান্তি রঞ্জন রায়ের ছেলে স্বপন কুমার রায় (৩২)।

শিখা জানায়, তার আপন ভাই সেলিম (৩০) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের শিক্ষানুবীশ  এক নার্স  (২০) এর  প্রেমের সর্ম্পক ছিল। সম্প্রতি ওই নার্স  আমার ভাই সেলিমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে সে পাগলের মতো হয়ে যায়। যে কারনে আমি ও সেলিমের বন্ধু স্বপন কুমার রায় মোটর সাইকেলযোগে গতকাল ১৮ এপ্রিল সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তার সাথে কথা বলার জন্য আসি। এ সময় সে  তার আত্নীয় স্বজনকে মোবাইলে ডেকে এনে অপহরনের অভিযোগ করে আমাদেরকে মারপিট করে।

ওই নার্স জানায়,  ২০১১ সালে আমি এসএসসি পাশ করে ফরিদপুর ম্যার্টসে ৪ বছরের ইন্টার্নশীপ কোর্সে ভর্তি হই। সেখানে থাকা অবস্থায় সদরপুর উপজেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর অযোদ্ধা তেলিডাঙ্গী গ্রামের শেখ শামসুদ্দিনের ছেলে সেলিম আমার মোবাইলে ফোন করে উত্যক্ত করাসহ আজেবাজে কথা বলতো। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে আমি ওই মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দেই এবং আমার চাচা  সেখান থেকে আমাকে নিয়ে এসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপরও সেলিম আমার বাড়ীতে গিয়ে আমার মোবাইল নম্বর নিয়ে আমার কাছে ফোন করতো। গতকাল ১৮ এপ্রিল সকালে সদর হাসপাতালে এসে সেলিমের বোন ও তার এক বন্ধু এসে আমার গতিবিধি লক্ষ করে এবং আমার পিছু নেয়। বিষয়টি আমার সার্জেন্ট চাচাকে মোবাইলে জানালে তিনি লোক মারফত উল্লেখিতদের আটক করে।

ওই নার্সের চাচা জানান, সেলিম দীর্ঘ দিন ধরে তার ভাতিজীকে উত্যক্তকরাসহ অপহরনের হুমকি দিতো। এর জের ধরেই শিখা ও সেলিমের বন্ধু স্বপন কুমার পরিকল্পিতভাবে সদর হাসপাতালে এসে আমার ভাতিজীকে অপহরনের চেষ্টা করে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে আমার পরিবারের লোকজনদের দিয়ে তাদেরকে আটক করি। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদেরকে মারপিট করে।

এদিকে জনতার হাত থেকে উদ্ধারের পর উল্লেখিতদের হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উভয়কে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা যায়। তবে অপর একটি সুত্র জানায় বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংশা হয়ে গেছে।

 


এই নিউজটি 1668 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments