ভণ্ড স্বামীর কাণ্ড!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:৪২ অপরাহ্ণ ,২৭ এপ্রিল, ২০১৫ | আপডেট: ১:৪২ অপরাহ্ণ ,২৭ এপ্রিল, ২০১৫
পিকচার

গণেশ পাল : নিজের বিয়ে ও দুই সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই নববধূকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি তাঁর স্বামীসহ দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই বধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার আজমধরা গ্রামে। রাজবাড়ী সদরের ধুলদিজয়পুর গ্রামের মো. ইশারত শেখের ছেলে দুই সন্তানের জনক অটোরিকশাচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ গত জানুয়ারিতে তাঁকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে মোয়াজ্জেম বোয়ালমারীর শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় খালার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আসেন। ওই রাতেই যৌনপল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালী মনোয়ারা বেগম ওরফে দুলালীর কাছে ১৫ হাজার টাকায় স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন মোয়াজ্জেম। এক মাস পর গত শনিবার সন্ধ্যায় গোপনে খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান চালায়। এ সময় মনোয়ারা বেগমের ঘর থেকে ওই নববধূকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালী মনোয়ারাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সকালে উদ্ধার করা মেয়েটির বাবা হানিফ মাতুব্বর নিজে বাদী হয়ে মেয়েজামাই মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালী মনোয়ারা বেগম দুলালী, আলতাফ হোসেন ও যৌনকর্মী কাকলী আক্তার।

উদ্ধারকৃত ওই নববধূ পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মিথ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোয়াজ্জেম আমাকে বিয়ে করে। আমার হাতের মেহেদির রঙ না মুছতে বিয়ের দুই মাসের মাথায় আমাকে যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করে পালায়। আসলে ও একজন ভণ্ড, প্রতারক। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়ালন্দঘাট থানার এসআই নাজমুল হুদা বলেন, গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগ যৌনপল্লীর একজন দালাল। অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি সে বিভিন্ন যৌনপল্লীতে নিয়মিত নারী পাচারকাজ চালিয়ে আসছিল। সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালী দুলালীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

আপডেট : সোমবার এপ্রিল ২৭,২০১৫/ ০১:৪৫ পিএম/ তামান্না

 


এই নিউজটি 1036 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments