পাংশায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থি গুলিবিদ্ধ : ৪ পুলিশ সদস্য আহত

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ ,৫ মে, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ ,৬ মে, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউপির কেওয়াগ্রামে গত ৪ঠা মে দিনগত গভীর রাতে পুলিশ ও চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের মধ্যে কথিত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় চরমপন্থী কুদ্দুস মন্ডল(৪৬) গুলিবিদ্ধ এবং থানার ৩জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ চরমপন্থী সদস্য কুদ্দুস মন্ডল বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহাড়ায় চিকিৎসা রয়েছে।

পাংশা থানা পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকালে রাজবাড়ী ডিবি’র একটি দল পাংশা থানার পুলিশ এ্যাসাল্ট মামলাসহ পাংশা ও শৈলকুপা থানার পৃথক ৫টি মামলার আসামী, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার হাকিমপুর ইউপির খুলুমবাড়ীয়া ক্যানালপাড়া গ্রামের ভজন মন্ডলের ছেলে চরমপন্থী সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য কুদ্দুস মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তীতে তাকে পাংশা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পাংশা থানায় জিজ্ঞাসাবাদে কুদ্দুস মন্ডলের দেওয়া তথ্যমতে থানার এস.আই খান বেল্লাল হোসেন, এস.আই কামাল হোসেন ভূঁইয়া, এস.আই হাফিজুর রহমান, এস.আই মোঃ আবু সায়েম ও এস.আই মোঃ শাখাওয়াত হোসেনসহ সঙ্গীয় পুলিশ দল রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে সাথে নিয়ে কসবামাজাইল ইউপির কেওয়াগ্রামের জনৈক জিন্নাহ আলীর কলাবাগান হতে কুদ্দুস মন্ডলের দেখানো ও নিজ হাতে বের করে দেয়া লাল-সবুজ রঙের মাঝারি ধরনের ১টি প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে ১টি দেশীয় তৈরি সচল ওয়ান শুটারগান ও ৪টি কার্তুজ উদ্ধার করে জব্দ তালিকা মূলে হেফাজতে নেওয়া মাত্র উক্ত স্থানের পাশে-পাশে ওৎ পেতে থাকা অস্ত্রধারী চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা গ্রেফতারকৃত আসামী কুদ্দুস মন্ডলকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথারী গুলিবর্ষন করে। পুলিশ জানমাল, সরকারী অস্ত্র-গুলি ও হেফাজতে থাকা আসামীকে রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এ সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এস.আই হাফিজুর রহমান ও এস.আই মোঃ আবু সায়েম, পুলিশ কনষ্টবল ইকবাল হোসেন ও আইয়ুব আলী জখম হয়। এছাড়া পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামী কুদ্দুস মন্ডল বাম পায়ের হাটুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়।

তখন জখম হওয়া পুলিশ সদস্যদের এবং গুলিবিদ্ধ আসামী কুদ্দুস মন্ডলকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত আসামী কুদ্দুস মন্ডলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আসামী কুদ্দুস মন্ডল বর্তমানে পুলিশ পাহাড়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানাগেছে, চরমপন্থী সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য কুদ্দুস মন্ডলের শ্বশুর বাড়ী পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউপির সুবর্ণখোলা গ্রামে। পাংশার দক্ষিণাঞ্চলে ছিল তার অপরাধ কর্মকান্ডের তৎপরতা। তার বিরুদ্ধে পাংশা থানায় পুলিশ এ্যাসাল্ট মামলা নং-৮, তাং-২০/৪/১৫ ও মামলা নং-১৯, তাং-২৩/১২/১০, অস্ত্র আইনে মামলা নং-১৮, তাং-২৩/১২/২০১৩, হত্যা মামলা নং-৪, তাং-৩/৮/২০১০ এবং ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা নং-৭, তাং-১২/১০/২০১০ রয়েছে। এছাড়া গত ৪ঠা মে রাতে সংঘটিত পুলিশ এ্যাসাল্ট ও অস্ত্র-গুলি উদ্ধার ঘটনায় কুদ্দুস মন্ডলের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে থানার এস.আই মোঃ হাফিজুর রহমান।

কেওয়াগ্রামে গত ৪ঠা মে দিনগত গভীর রাতে পুলিশ-চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের মধ্যে কথিত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাংশার গ্রাম-শহরে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯শে এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাংশা উপজেলার সরিষা ইউপির দুধশর-কোলানগর মাঠের মধ্যে পুলিশ পুলিশ-ডাকাতের কথিত বন্দুক যুদ্ধ হয়। ওই সময় পুলিশ ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ৮রাউন্ড গুলি ছুড়লে ডাকাত হামিদ মন্ডল(৪০-এর ডান হাঁটুতে গুলি লাগে। তখন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান, ১রাউন্ড গুলি ও ২টি কার্তুজসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হামিদ মন্ডলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্য হামিদ মন্ডল কসবামাজাইল ইউপির নটাভাঙ্গা গ্রামের সৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে। গত ৪ঠা মে রাতে গুলিবিদ্ধ কুদ্দুস মন্ডল ও হামিদ মন্ডল একই গ্রুপের সদস্য বলে জানাগেছে।

 


এই নিউজটি 890 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments