আটদাপুনীয়া হাই স্কুলে সভাপতি নির্বাচনে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী পিছিয়ে থাকায় ফলাফল ঘোষনা করা হয়নি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ ,১১ মে, ২০১৫ | আপডেট: ১:১৩ অপরাহ্ণ ,১১ মে, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার আটদাপুনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন গতকাল ১০মে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী পিছিয়ে থাকায় ভোট দান পদ্ধতি নিয়ে বির্তক সৃষ্টি করে জটিলতা তৈরী হওয়ায় চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসার। ফলে এ নির্বাচনের ফলাফল অনিশ্চিতায় মুখে পড়েছে।

জানা যায়, আটদাপুনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত ৫জন ও ১জন দাতা সদস্য এবং প্রধান শিক্ষকসহ ৩জন শিক্ষক প্রতিনিধি মোট ১০জন সদস্য গতকাল ১০মে দুপুরে স্কুলটির একটি কক্ষে সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য বৈঠকে বসেন। এতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সালাহ উদ্দিন আহমেদ শামীম। এই ১০সদস্যের মধ্যে ২জন সদস্য সভাপতি পদের জন্য ফিরোজ আলম খান ও ইউনুস আলী মোল্লার নাম প্রস্তাবনা করলে প্রিজাইডিং অফিসার প্রার্থী দুইজন হওয়ায় কণ্ঠ ভোটের সিদ্ধান্ত দেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটির ৬ সদস্য কণ্ঠ ভোটের মাধ্যমে ফিরোজ আলম খানকে ৪ ভোট ও ইউনুস আলী মোল্লাকে ২ ভোট প্রদান করেন। কিন্তু ওই মুর্হুতে ৩জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৪জন সদস্য সরাসরি কণ্ঠ ভোট দিতে রাজী না হয়ে তারা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার কথা জানান। ঠিক তখনই অন্যান্য সদস্যরা আপত্তি জানিয়ে একই পদ্ধতিতে ভোট সম্পন্ন করার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারকে জানান এবং বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরী হয়।
এদিকে ফিরোজ আলম খান তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ইউনুস আলী মোল্লার চেয়ে ২ ভোটে এগিয়ে আছে কথাটি ছড়িয়ে পড়লে আরো জটিলতা তৈরী হয়। এক পর্যায়ে প্রিজাইডিং অফিসার পুনরায় গোপন ভোটের মাধ্যমে ভোট গ্রহন সম্পন্ন করার কথা বললে ইউনুস আলী মোল্লার পক্ষের দুই সদস্য তাতে রাজী না হয়ে নির্বাচনী কক্ষ থেকে বের হয়ে চলে আসে। এরপরও প্রিজাইর্ডি অফিসার নির্বাচনী পক্রিয়া শেষ করার জন্য চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়ে ফলাফল ঘোষনা না করে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে চলে আসেন।

এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সদর উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সালাহ উদ্দিন আহমেদ শামীম বলেন, দাতা সদস্যসহ ম্যানেজিং কমিটির ৬ সদস্য কণ্ঠ ভোটে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন। এতে ফিরোজ আলম খানকে ৪ ভোট ও ইউনুস আলী মোল্লা ২ ভোট পায়। পরবর্তীতে ৩জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও প্রধান শিক্ষক কণ্ঠ ভোটে দিবে না বলে আপত্তি করে এবং তারা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে জটিলতা তৈরী হলে তিনি পুনরায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের কথা বললেন। কিন্তু দুইজন সদস্য তা মেনে না নিলে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশে ব্যর্থ হন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন। এমতাবস্থায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, ইউনুস আলী মোল্লা বানিবহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। পক্ষান্তরে ফিরোজ আলম খান একজন নিরপেক্ষ প্রার্থী। ম্যানেজিং কমিটির ৬ সদস্যের মধ্যে তিনি ৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। যে কারনে তারা শিক্ষকদেরকে ভয় দেখিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে নির্বাচনটি বানচালের চেষ্টা করে।

বিজ্ঞ এক আইনজীবি জানান, আইন অনুযায়ী ৬ সদস্যের মধ্যে যে বেশী ভোট পাবে সেই নির্বাচিত হবে।

 


এই নিউজটি 919 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments