ক্ষতিকর ওষুধ খাইয়ে স্বাস্থ্যবান করা হচ্ছে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর কিশোরীদের

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ ,১৫ মে, ২০১৫ | আপডেট: ৩:০৩ অপরাহ্ণ ,১৫ মে, ২০১৫
পিকচার

রাজবাড়ী ডেস্ক : দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের কিশোরীদেরকে জোরপূর্বক বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ খাইয়ে মোটা স্বাস্থ্যবান করা হচ্ছে। এতে তারা দ্রুত স্বাস্থ্যবান ও আকর্ষনীয় হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই অকালে মৃত্যু বরণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে পল্লীর শক্তিশালী একটি চক্র এ তৎপরতা চালিয়ে আসলেও এ ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কোন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা ভাবে ফুসলিয়ে এবং অপহরন করে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের এ পল্লীতে নিয়ে আসে। এরপর অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় নোটারী পাবলিকের অসাধু নোটারীয়ান ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রাপ্ত বয়স এবং যৌন পেশায় নামার প্রত্যয়ন পত্র জোগার করে। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের বেলায় সমস্যা হয়ে দাড়ায় তাদের রুগ্ন স্বাস্থ্য। ফলে প্রভাবশালী বাড়ীওয়ালা ও বাড়ীওয়ালীরা এ সকল মেয়েদের দ্রুত স্বাস্থ্যবান ও আকর্ষনীয় করে গড়ে তুলতে তাদেরকে জোরপূর্বক বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ইনজেকশন গ্রহনে বাধ্য করে। ওরাডেক্সন গ্রুপের এ জাতীয় ওষুধ ও ইনজেকশন নিয়মিত গ্রহনের ফলে মেয়েদের বাহিরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেলেও মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে ভোগার পাশাপাশি প্রায়ই এখানে মেয়েদের অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এ কারণে।

এ পল্লীর তালিকা ভূক্ত দেড় হাজার প্রাপ্ত বয়ষ্ক পতীতার পাশাপাশি আরো হাজার খানেক কিশোরী পতীতা রয়েছে। এদের বেশীর ভাগই নিয়মিত ক্ষতিকর এ ওষুধ গুলো সেবন করানো হয়। কোন মেয়ে এ ওষুধ গ্রহনে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর চলে অমানবিক শারীরীক নির্যাতন। এ ধরণের ওষুধ ছাড়াও বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রিকে কেন্দ্র করে যৌনপল্লী ও এর আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে অর্ধশত ওষুধের দোকান। ওষুধ বিক্রেতাদের বেশির ভাগেরই নেই বিক্রির লাইসেন্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লীর এক যৌনকর্মী (৩০) জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওরাডেক্সন জাতীয় এই ওষুধ সেবন করে আসছেন। প্রথমে তাকে জোর করে খাওয়ানো হলেও এখন তার নেশা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমাকে কিছুটা ভালো স্বাস্থ্যের মনে হলেও শরীরের ভেতরে অনেক সমস্যা। তিনি প্রতিদিন ২ বেলা দুটি করে ট্যাবলেট খান। এক বেলা না খেলে শরীরে জ্বালা পোড়া ও মাথা ব্যাথাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। তিনি আরো বলেন, এ পল্লীতে বহু অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়ে আছে। তাদেরকে বাড়ীওয়ালীরা জোর পূর্বক প্রতিদিন ৮/১০ পর্যন্ত ওষুধ খেতে বাধ্য করে। না খেলে শারীরীক ভাবে নির্যাতন করা হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজীব দে সরকার বলেন, হাপানি, এ্যজমা, গিরা ব্যাথা, রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারনত এই ওরাডেক্সন জাতীয় ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সাধারনত এ ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, ওজনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে মাত্রা নির্ধারন করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারীর মস্তিষ্ক বিকৃতি, উচ্চ রক্তচাপ, স্মরন শক্তি লোপ পাওয়া, ডায়াবেটিকস, হার্টের মাংশ পেশি বেড়ে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা, লিভার সমস্যা, পুরুষের প্রজন ক্ষমতা হ্রাস, মহিলাদের ক্ষেত্রে পুরষালী ভাব, কিডনি ফেইলর, শরীরে পানি জমে যাওয়া, চর্মরোগসহ ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ জাতীয় ওষুধ গ্রহন করা কোন ভাবেই উচিত নয়।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহ্বুবুর রাব্বানী বলেন, এ ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ খাইয়ে মেয়েদের অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া উচিত না। ওদেরকে ব্যবসায়ীক পন্য হিসেবে না ভেবে মানুষ হিসেবে ভাবা উচিত।

 


এই নিউজটি 2666 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments