,

শুভ নববর্ষ,স্বাগত ১৪২১ : মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : অনেক ঘটনা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সহিংসতা, অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলো আরও একটি বাংলা সন ১৪২০, দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বর্ষ ১৪২১ বঙ্গাব্দ, শুভ নববর্ষ।

আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন বা একা কেউ নয়। যে কারণে আন্তর্জাতিক হিসাব-কিতাব আর ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইংরেজি বা খ্রিস্টিয় বর্ষের হিসাব রেখে সারা বছর চললেও বাংলা নববর্ষ বাঙালির সামনে হাজির হয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটা সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে।

দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালিরাও বিপুল উদ্দীপনায় বাংলা নববর্ষ পালন করেন, যা এই উৎসবের সর্বত্রগামিতাকেই স্পষ্ট করে। আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, ব্যবসা, পার্বণসহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাংলা সনের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও এবারের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে যে বাণী দিয়েছেন, সেখানে তিনি বলেছেন, বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনীন।

অতীতের সব গ্লানি ও বিভেদ ভুলে বাংলা নববর্ষ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে এবং অফুরন্ত আনন্দের বারতা বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফসলি সন হিসেবে মোগল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, আজ তাই আমাদের নতুন বছরের প্রথম দিন যা সর্বজনীন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। সাল গণনার সীমা ছাড়িয়ে ষাটের দশকে এই উৎসব মিলিত হয়েছে আমাদের জাতিসত্তা আবিষ্কারের অন্যতম সূত্রবিন্দুতে।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নববর্ষ সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা ও দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি যোগাবে।

তিনি বলেন, নববর্ষ মানেই লোকায়ত বাঙালি সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য উৎসব। নতুন আশায় উদ্দীপ্ত হওয়ার দিন। আমাদের লেখক, কবি, শিল্পীদের ছন্দ, বর্ণ, তুলি ও সুরে তাই বাংলা নববর্ষ প্রতি বছর নতুন রূপে হাজির হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষবরণের উৎসবে এ চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে বার বার। বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বাঙালি জাতি নববর্ষকে ধারণ করেছে তার জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে।

রমনার বটমূলে বর্ণিল বর্ষবরণ
পয়লা বৈশাখে সারা দেশেই নানা আয়োজন হলেও এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র থাকে ঢাকার রমনা পার্কে বটমূলে। যদিও যে বৃক্ষটির নিচে এই উৎসব হয়, সেটি অশ্বত্থ গাছ। তারপরও এটি বটমূল নামেই খ্যাত। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভোর সোয়া ছয়টায় এখানে উৎসব শুরু হবে। সরোদের আহীর-ভৈরব সুরের আলাপ দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান।

১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর ছায়ানট এ বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে। পরে গান আর কথায় বাংলা আর বাঙালির অন্তরের কথা ফুটিয়ে তোলা হবে। বাজাবেন-গাইবেন-বলবেন অতিথি শিল্পী এবং ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর শিল্পীরা। অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

এ আয়োজন প্রসঙ্গে ছায়ানটের অধ্যক্ষ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সনজিদা খাতুন বলেন, ‘ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার বাঙালি সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। তখন রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন বাঙালি সংস্কৃতিকে ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতেই রমনার বটমূলে প্রতি বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে ছায়ানট।’

মঙ্গল শোভাযাত্রা
পয়লা বৈশাখের আরেকটা বড় অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে সকাল ১০টায় শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথম শোভাযাত্রা বের করা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৬ সালে নাম পরিবর্তন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও প্রথমে লোকে একে আনন্দ শোভাযাত্রা বলেই জানতো। বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এই শোভাযাত্রায় আপামর জনসাধারণ অংশ নেন। বিভিন্ন লোকজ উপসঙ্গ নিয়ে এ শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হবে। শোভাযাত্রায় দুঃসময়ের কাণ্ডারি (হিন্দু-মুসলিম উভয় সমাজে) হিসেবে থাকবে গাজী ও বাঘ। সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে থাকবে হাঁস, মাছের ঝাঁক, মা ও শিশু এবং লক্ষ্মী পেঁচা। লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিড়ালের মুখে চিংড়ি, শখের হাঁড়ি। এর পাশাপাশি আরও থাকবে শিশু হরিণ, বাঘের মুখোশ দুইটা, ময়ূর, ছোট পাখি দশটা। এছাড়াও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির নানা দিক এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাধান্য পাবে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর