পদ্মা নদীতে দস্যুতার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় মাতৃকন্ঠের বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ,২১ মে, ২০১৫ | আপডেট: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ,২১ মে, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : “চাঁদার দাবীতে তান্ডব॥রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদার বাজার ঘাট এলাকায়-পদ্মা নদীতে স্প্রীট বোর্ড যোগে বালুবাহী বলগেটে দস্যুতা॥থানায় এজাহার দায়ের”- এ শিরোনামে গত ১৮ই মে দৈনিক মাতৃকন্ঠ পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করায় পত্রিকার সম্পাদক ও রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন ও স্টাফ রিপোর্টার ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে দঃ বিঃ’র ৫০০/৫০১ ধারায় ১নং আমলী আদালতে গতকাল ২০শে মে মানহানী মামলা দায়ের করেছে সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরীর ভাতিজা ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বী।

রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিসপি-১৬০/২০১৫ মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সদর থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর গ্রামের লিয়াকত আলী চৌধুরীর ছেলে ও সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরীর ভাতিজা পরিচয় দিয়ে ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বী উল্লেখ করেন, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ট্রান্স ড্রেজিং কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বত্বাধিকারী। তিনি রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সাবেক এজিএস এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। একই সাথে তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলীর আপন ভাতিজা। গত ১৮ই মে দৈনিক মাতৃকন্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় তার নামে (ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বী) উল্লেখিত শিরোনামে অসত্য, ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে তার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার মানসে থানায় কোন প্রকার এজাহার দায়ের না হওয়া সত্বেও উল্লেখিত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে এমপির ভাতিজার কান্ড বলে রাজবাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন অফিসে নিজেরা উক্ত পত্রিকা বিলি করে তার সুনাম ক্ষুন্ন করে। বাদী উক্ত সংবাদ জ্ঞাত হয়ে গত ১৮ই মে পত্রিকা অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ লিপি প্রদান করার পরেও প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ না করে মিথ্যা সংবাদ ছেপে জনসম্মুখে বিলি ও প্রচার করে। যে কারনে বাদীর ১০লক্ষ টাকার সম্মানহানী ঘটে।

মাতৃকন্ঠ পত্রিকার ভাষ্য ঃ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে কারো মানহানীর মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। কারণ “পদ্মা নদীতে স্প্রীট বোর্ড যোগে বালুবাহী বলগেটে দস্যুতা॥থানায় এজাহার দায়ের” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে কোথাও অভিযুক্তদের বা মানহানী মামলার বাদীর পরিচয় (পিতা-ঠিকানা ইত্যাদি) প্রকাশ নাম প্রকাশ প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি প্রকাশিত সংবাদে কোথাও ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বীকে সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলীর ভাতিজা কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি বাদী কোন প্রতিবাদ লিপিও পত্রিকা অফিসে প্রদান করেননি। বরং পত্রিকার সম্পাদক ও স্টাফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করে বাদী নিজেই নিজের পরিবার ও তার চাচার রাজনৈতিক পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করেছেন।
থানায় এজাহার দায়ের না হওয়া সত্বেও সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে মর্মে মামলার আরজিতে বাদী ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বী যে বর্ননা দিয়েছেন তাও অসত্য। কারণ প্রকাশিত সংবাদটির শেষ প্যারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, এ বিষয়ে রাজবাড়ী থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা সুত্র জানায়, এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি।

এছাড়াও ওই সংবাদে প্রকাশিত ছবির ক্যাপশানে “রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদার বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে স্প্রীট বোর্ড যোগে বালুবাহী ইঞ্জিন চালিত বলগেটে গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই’র প্রতিবাদে নৌকার মাঝিমাল্লা ও বালু শ্রমিকরা গতকাল ১৭ই মে বিকেলে থানায় দরখাস্ত দিয়ে বিক্ষোভ করার কথাও উল্লেখ ছিল।

পদ্মা নদীতে স্প্রীট বোর্ড যোগে বালুবাহী ইঞ্জিন চালিত বলগেটে গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই’র অভিযোগে দয়ালনগর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান এবং সাবেক মহাদেবপুর গ্রামের ফিরোজ হোসেন গত ১৭ই মে সন্ধ্যার পূর্বে থানায় পৃথক ২টি এজাহার দায়ের করেন।

এদিকে সর্বশেষ খবরে জানাযায়, মানহানী মামলার বাদী ইলিয়াছ চৌধুরী রাব্বীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গত ১৯শে মে রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতে ৩৮৬/৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ দঃ বিঃ ধারায় মিসপি-১৫৮/২০১৫ এবং ফিরোজ হোসেন বাদী হয়ে একই দিন একই আদালতে দঃ বিঃ ৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯ ধারায় মিসপি মামলা নং-১৫৯/২০১২৫ মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত চাঁদাবাজীর এ মামলা দুইটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী থানার ওসি আদেশ প্রদান করেছেন।

 

 


এই নিউজটি 796 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments