মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ ,১৪ এপ্রিল, ২০১৪ | আপডেট: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ ,১৪ এপ্রিল, ২০১৪
পিকচার

ঢাকা ডেস্ক: ‘জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে’ এই স্লোগানের মধ্যদিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। সোমবার সকালে চারুকলা অনুষদে থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ ও রূপসী বাংলা মোড় ঘুরে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. শহীদ আকতার হুসাইন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলীসহ চারুকলা অনুষদমহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ সবস্তরের, বিভিন্ন বয়সের মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। শোভাযাত্রায় বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, রঙ বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি।

এদিকে সার্বজনীন এ শোভাযাত্রার নানা শিল্প-কাঠামোয় এবার প্রাধান্য পেয়েছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধময় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সঙ্গে আছে বাঙালির শেকড়সংলগ্ন লোকজ সংস্কৃতির নানা আবহ। এবারের শোভাযাত্রার সর্বাগ্রে আছে সুখ-সমৃদ্ধির বার্তাবহ মা ও শিশু শীর্ষক শিল্প-কাঠামোটি। ১৭ ফুট উচ্চতার এই শিল্পকর্মে মায়ের এক হাতের বন্ধনে বুকে জড়িয়ে আছে তার শিশুটি, আর অপর হাতে আছে একটি কলসি। পবিত্রতা ও সরলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে হরিণ শাবকের কাঠামো।

সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে বিশাল একটি মা মাছের পাশে দেখা যাচ্ছে সন্তানতুল্য দুটি ছোট মাছকে। একই রকম অর্থ নিয়ে বড় আকারের একটি বিড়ালের মুখে ঝুলছে চিংড়ি মাছ। লোকজ গল্প কিংবা রূপকথার আবহ নিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে বাঘের পিঠে চড়ে বসা গাজী। গাঢ় হলুদ রঙের ভেতর ডোরাকাটা কালো রং দিয়ে সাজানো বাঘটিকে। আর গাজীর পোশাকে আছে নীল, সাদা, হলুদ ও লাল রঙের আবহ।

লোকজ সংস্কৃতির নির্যাস নিয়ে কাঠের ফ্রেমের ওপর উপস্থাপিত হয়েছে বিশালাকারের এক শখের হাঁড়ি। এবারের শোভাযাত্রায় সরাসরি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা না মিললেও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দৃশ্যমান আছে বড় আকারের দুটি বাঘের মুখোশ।
আবহমান গ্রামবাংলার রূপকল্প তুলে ধরতে শোভাযাত্রায় আছে একটি বড় আকৃতির হাঁস। সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে নয়নজুড়ানো রঙের সম্ভারে গড়া পাখা মেলা ময়ূরের। এসবের সঙ্গে লোকজ সংস্কৃতির আরেক স্মারক লক্ষ্মীপেঁচা। এ ছাড়া আছে মুখোশের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা রাজা-রানী, উজির-নাজির, বাঘ, পেঁচা, টেপা পুতুলসহ নানা আকৃতি ও বর্ণের প্ল্যাকার্ড।

এদিকে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান আটটি প্রবেশ পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যা ব, পুলিশ, আনসারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে প্রদক্ষিণ করবেন।

জানা গেছে, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় ৪০টি স্টলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ স্টলগুলো যথাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে চারটি, ডাকসু ক্যাফেটারিয়ার সামনে তিনটি, নাটমন্ডলের সামনে তিনটি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে দুটি, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরের পাশে তিনটি, টিএসসি ডাচ বাংলা এটিএম বুথের পাশে একটি, শামসুন্নাহার হলের দাদা চত্বরের পাশে একটি এবং জগন্নাথ হল গেট ঘিরে তিনটি স্টল থাকবে।

স্টলগুলোতে পান্তা-ইলিশ এবং খাবার পানীয় সরবরাহ করা হবে। কিছু কিছু স্টল বিনামূল্যে খাবার পানি বিতরণ করবে। এর মধ্যে হিউম্যানিটি ফার্স্ট উল্লেখযোগ্য। তবে স্টলগুলোতে কোনো প্রকার বিদ্যুত ব্যবহার এবং বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড টানাতে নিষেধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এবছর বহিরাগত কোনো দোকান ক্যাম্পাসে বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য শুধুমাত্র তিনটি সংগঠনকে অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা বিভাগ, সঙ্গীত বিভাগ এবং খেলাঘর।


এই নিউজটি 1524 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments