ভারতকে হারিয়ে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ ,২১ জুন, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৪০ অপরাহ্ণ ,২১ জুন, ২০১৫
পিকচার

স্পোর্টস ডেস্ক : তরুণ বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারতের বিরুদ্ধে ১ম দুই ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় উঠে গেছে বাংলাদেশ!! এখন শুধুই বাংলাওয়াসের অপেক্ষা!!! আজ রবিবার ৩ ম্যাচ সিরিজের ২য় ম্যাচে সাকিবের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫৪ বল বাকী থাকেতেই ভারতের দেয়া ১৯৯ রানের মামুলি টার্গেট সহজেই চেজ করে ৬ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে মাশরাফির দল। আর এই জয়ের সাথে সাথে ওয়ানডে সিরিজটিও ২-০ তে নিজেদের হয়ে গেলো টাইগার বাহিনীর। একই সাথে নিশ্চিত হয়ে গেলো আগামী চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফি খেলার বিষয়টিও। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিরিজের ১ম ম্যাচে ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে আজ রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মুস্তাফিজের বোলিং তোপে সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে ২০০ রানেই অলআউট হয়ে যায় ভারত। বল হাতে ১০ ওভারে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর।

তবে আজকের ম্যাচে টস কথা বলেছে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির পক্ষে। তাই ১ম ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন ধোনি। তবে এটি যে ভুল সিদ্বান্ত ছিলো, তার প্রমাণটা দিলেন আগের ম্যাচের হিরো মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ১ম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শুন্য হাতে ওপেনার রোহিত শর্মাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মুস্তাফিজুর। ফলে শুরুতেই চালকের আসনে বসে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে চালকের আসন থেকে সড়াতে ৩ নম্বরে নামা বিরাট কোহলিকে নিয়ে রান তোলায় মনোনিবেশ করেন আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান। দ্রুতই সেট হয়ে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন দু’জনে। ফলে কিছুটা লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের বোলিং। কিন্তু এতেও যে হাল ছেড়ে দেবার দল, এখন আর নয় বাংলাদেশ।

তাই ২য় উইকেটে দলের জন্য ৭২ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি ধাওয়ান-কোহলি। অকেশনাল বোলার দিয়েই ধাওয়ান-কোহলি জুটি ভাঙ্গেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ২৩ রান করে নাসিরের বলে আউট হন কোহলি। এরপর ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে উপরে উঠিয়ে এনে ধাওয়ানের সাথে ক্রিজে যোগ দেন দলপতি ধোনি। লক্ষ্য ছিলো বড় জুটি গড়ে বড় স্কোর গড়া। সে পথে ভালোই হাটচ্ছিলেন তারা। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন ধাওয়ান। এই জুটিও যখন ভংকর হবার পথে, আবারো বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ এনে দেন নাসির। ৭টি বাউন্ডারিতে ৬০ বলে ৫৩ রান করা ধাওয়ানকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান নাসির।

ধাওয়ানের বিদায়ের পরের ওভারেই আবারো উইকেট শিকারের আনন্দ করে বাংলাদেশ। আজিঙ্কা রাহানের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া আম্বাতি রাইদুকে তিন বলের বেশি খেলতে দেননি রুবেল হোসেন। নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে তাই শুন্য হাতেই ফিরতে হয় রাইদুকে।

১১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকঁতে থাকা ভারতকে এরপর সামনের দিকে টেনে নিয়ে নেন ধোনি ও সুরেশ রায়না। কিছুটা সময় নিয়ে উইকেটে ভালোভাবেই সেট হয়ে যান তারা। ফলে ধীপা হলেও স্কোর বোর্ডে রান আসছিলো ভারতের। তবে সেটি যে খুব বেশি না, তা ভালোই বুঝতে পারছিলেন ধোনি ও রায়না। কিন্তু কি আর করা! বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত-বৈচিত্র্যময়-অসম্ভব সুন্দর বোলিং কারিশমায় রান তোলা কি সম্ভব? উত্তরটা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা দেয়ার আগেই বল হাতে দিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর। উত্তরটা হলো- ‘না’। ৩৬তম ওভারে বল করতে এসে ৪২ ওভার পর্যন্ত ভারতের চার ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে বসার জায়গা করে দেন মুস্তাফিজুর। পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে সামনে দিকে টেনে নেয়া ধোনি ও রায়নার ভাঙ্গন ধরান মুস্তাফিজুর। ৮৩ বলে গড়ে উঠা ৫৩ রানের জুটিটি ভাঙ্গে রায়নার বিদায়ে। ৫৫ বলে ৩৪ রান করেন রায়না।

এরপর মুস্তাফিজুরের ৩য় শিকার হন ধোনি। মুস্তাফিজুরের রহস্যময় এক ডেলিভারিতে ৭৫ বলে ৪৭ রান করে ফিরেন টিম ইন্ডিয়ার দলপতি। ধোনিকে বিদায়ের পরের বলেই অক্ষর প্যাটেলকে এলবিডব্লু’র ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর। ফলে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের পেসের তরুণ এই সেনসেশনের। অবশ্য ৪০তম ওভারের পঞ্চম বলটি রুখে দিয়ে মুস্তাফিজুরের হ্যাট্টিক বানচাল করে দেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। এ যাত্রায় সফল হলেও, ৪২তম ওভারের শেষ বলে অশ্বিনকে ব্যক্তিগত ৪ রানে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর। সেই সাথে অভিষেকের পর টানা ২য় ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন মুস্তাফিজুর। এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন মাত্র একজন। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রায়ান ভিট্টোরি। মুস্তাফিজুরের এমন কীর্তির কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এসময় ভারতের সংগ্রহ ছিলো ৮ উইকেটে ১৯৬ রান। ওভার ছিলো ৪৩ দশমিক ৫ বল।

 

 


এই নিউজটি 657 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]