ঈদকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া ঘাটে ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ ,১ জুলাই, ২০১৫ | আপডেট: ১১:১৪ অপরাহ্ণ ,১ জুলাই, ২০১৫
পিকচার

রাজবাড়ী ডেস্ক : আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিতে দৌলতদিয়া ঘাটে পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। এরইমধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঘাট দিয়ে পার হওয়ার সময় যাত্রীদের ব্যাগ, মানিব্যাগ, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে।

গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে পাটুরিয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরি শাহ আলীতে সেবাগ্রীণ লাইন পরিবহনের যাত্রী আশরাফ আলী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মূল্যবান দুটি স্বর্ণের চেইন খোয়ান। তার বাড়ী ঝিনাইদহ সদর এলাকায়। এ ঘটনার পর পুলিশ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য আ. রাজ্জাক (২৫), লাভলু (২২) ও এলাহি (৩৫) কে গ্রেফতার করে। এর আগে রবিবার জামিল (১৮) নামের অপর এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এদের বাড়ী দৌলতদিয়ার বিভিন্ন গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া ঘাটের লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রায়ই সাধারণ যাত্রীরা ছিনতাই ও পকেটমারের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। লঞ্চ পারাপার দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা লঞ্চ ও বাস থেকে নেমে মাত্র ৩শ মিটার পায়ে হাঁটা পথে টার্মিনালে যেতেই ছিনতাইকারী ও পকেটমারের খপ্পরে পড়ছে। এছাড়া কুষ্টিয়া বাস কাউন্টার থেকে শুরু করে স্থানীয় সমশেরের হোটেল এলাকা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। ঘাটে কর্মরত পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জামিল, হাতেম, সাজাই, খায়রুল, আশিক, লম্বু, কালু, রশিদ, কাসেম ও মুন্নাফসহ ১৫-২০ জনের উঠতি বয়সের শিশু-কিশোর ও তরুণরা দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের বেশির ভাগেরই বাড়ী দৌলতদিয়া ঘাট ও আশপাশের এলাকায়। এছাড়া ঈদের সময় এরা বাইরে থেকেও পকেটমারদের ভাড়া করে আনে বলে অভিযোগে জানা যায়। দুরদুরান্তের মানুষ হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা সহসা থানা-পুলিশে অভিযোগ করেন না। লঞ্চঘাট এলাকার কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘাট ও টার্মিনাল এলাকার আশপাশ থেকে অল্প বয়সী শিশু-কিশোরেরাই এসব অপরাধ করে থাকে। প্রায়দিন ধরাও খাচ্ছে এসব ছিনতাইকারী ও পকেটমারেরা। কিন্তু তার পরও এরা থেমে নেই।

এ ব্যাপারে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ঈদের আগে ঘাটে চুরি, ছিনতাই ও পকেটমারের ঘটনা প্রতি বছরই বেড়ে যায়। এদের কারণে দৌলতদিয়াবাসির বদনামে পড়তে হয়। এ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের ওসি দুলাল সরদার বলেন, ঈদে নৌপথে যাত্রীদের পরাপার নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পাশাপশি নৌপুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সোমবার পাটুরিয়া ঘাটে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী বৈঠকে আমাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি একেএম নাসির উল্যাহ জানান, বিভিন্ন উৎসবে ঘাট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বেড়ে যায়। তবে সাধারন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে।

( সংবাদ সৌজন্য- গোয়ালন্দ নিউজ)

 


এই নিউজটি 818 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments