ড.কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ থেকে প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিনের নাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ ,৩ জুলাই, ২০১৫ | আপডেট: ১০:৩০ অপরাহ্ণ ,৩ জুলাই, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২২বছর পর রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে অবস্থিত ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ থেকে প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের নাম বাদ দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ গত ২৮শে মে কলেজটির গর্ভনিং বডির বর্তমান সভাপতি ড.মোঃ আব্দুল মাজেদ এবং অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আজিজকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন।
জানাগেছে, পাংশা উপজেলার হাবাসপুরের নিভৃত এলাকায় প্রখ্যাত জ্ঞান তাপস ড.কাজী মোতাহার হোসেনের নামে ১৯৯৩ সালে হাবাসপুরে কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করেন একই এলাকার কৃতি সন্তান আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ। ১৯৯৪ সালের ১৫ই মার্চ তিনি কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কলেজটির জমি ক্রয় থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার রয়েছে বড় অবদান।

১৯৯৪ সালের ২৪শে মে ড.কাজী মোতাহার হোসেন কলেজে প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের নামে ভবন উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও পাংশার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আবু হেনা। এ অনুষ্ঠানে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ কলেজ কমিটির অন্যান্যরা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতার নামটি বাদ দেয়ার জন্য একটি চক্র গভীর ষড়যন্ত্র করাসহ কলেজের বিভিন্ন ফলক থেকে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টাও করছে।

এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৬ সালে সর্ব প্রথম ঢাকা বোর্ড কর্তৃক পদাধিকার বলে গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হবার পর ৩/১১/১৯৯৬ তারিখে ঢাকার ৩৮নং হাটখোলা রোডে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের অফিস কক্ষে নবগঠিত গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম।yhy

ওই সভার রেজুলেশন বহিতেও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের নাম উল্লেখ রয়েছে। ওই সভার রেজুলেশনে আরো উল্লেখ করা হয় যে তিনি(আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদ) ১২লক্ষ টাকার অধিক ব্যয়ে কলেজ ভবন নির্মাণ, ভূমি ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছেন। তার ক্রয়কৃত ভূমির উপর কলেজের প্রধান ভবন নির্মাণ করায় সর্বসম্মতিক্রমে ভবনটির নাম “আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ” ভবন রাখা হয়। পরবর্তীতে কলেজে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাক্রম চালু করা হলে তার(আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের) একক অর্থে বিজ্ঞান ও কারিগরি ভবন নির্মিত হয়। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজবাড়ী জেলার একমাত্র কারিগরি শিক্ষা ড.কাজী মোতাহার হোসেন কলেজে চালু করা হয়।

বর্তমানে কলেজটি একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠিত কলেজে পরিনিত হওয়ায় এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। এমনকি কলেজের বিভিন্ন ফলক থেকে তার নাম মুছে ফেলারও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কলেজের অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ড.কাজী মোতাহার হোসেনের পাশে ঝুলানো কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদের ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমদ গত ২৮শে মে-২০১৫ হীন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কলেজটির গর্ভনিং বডির বর্তমান সভাপতি ড.মোঃ আব্দুল মাজেদ এবং অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আজিজকে লিগ্যাল নোটিশটি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য যে, কলেজের ফলকের ছবি তুলতে গেলে অধ্যক্ষ জানালেন এটা নিয়ে বির্তক আছে ছবি তোলার প্রয়োজন নেই।

এদিকে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতার নাম থেকে আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদের নাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্রের ঘটনায় নানা মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে ।

 

 

 আপডেট : জুলাই ০৩,২০১৫/ ১০:২৮ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1140 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments