এ আবার কেমন ডাকাত ???

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ ,৫ জুলাই, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ ,৫ জুলাই, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : গত কয়েকদিন যাবৎ রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত দলের তৎপরতার খবর শোনা যাচ্ছে। এ জন্য মানুষ লাঠি, রামদা, টর্চলাইট হাতে নিয়ে প্রতিদিনই রাত জেগে নিজ নিজ গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু ডাকাত দলের তৎপরতার খবর শোনা গেলেও এ পর্যন্ত কোন এলাকায় ডাকাতি সংঘটিত হয় নি। এদিকে এ ঘটনাকে ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহলের গুজব’ বলে দাবী করেছে প্রশাসন।

জানাগেছে, ফরিদপুর সদরের কৈজুরী ইউনিয়নের বদরপুর এলাকায় গত ২৫ জুন রাতে গণরোষের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় তিন ব্যক্তি। পর দিন পাশের গ্রামে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আরেক ব্যক্তিকে। গণপিটুনিতে নিহতরা হলো বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা গ্রামের মো. মোশাররফ শেখ, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাচ্চু সরদার। এছাড়াও কৈজুরী ইউনিয়নের গঙ্গাবর্দি এলাকায় ২৬ জুন রাতে ডাকাত সন্দেহে আরেক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনার পর থেকেই ফরিদপুরে ডাকাত আতঙ্ক বেড়ে যায়। শুধু ফরিদপুরেই নয় ইতিমধ্যে এ আতঙ্ক ব্যাপক হারে রাজবাড়ী জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে ।

জেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় লাঠি, রামদা, টর্চলাইট হাতে নিয়ে প্রতিদিনই রাত জেগে নিজ নিজ গ্রাম পাহারা দিচ্ছে মানুষ। ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর জেলার কোনো না কোনো স্থান থেকে ডাকাত পড়েছে, বাড়ীতে ঢুকে নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে অথবা জনতার হাতে ডাকাত ধরা পড়েছে এ জাতীয় তথ্য উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে ডাকাত আতঙ্ক ছড়ানোর পর থেকে এ পর্যন্ত জেলার কোন এলাকাতেই ডাকাতি সংঘটিত হয় নি। ডাকাত দলের তৎপরতার খবর সম্পূর্ণই গুজব বলে প্রমানিত হয়েছে। তারপরেও মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি বিরাজ করছে। অনেকে আবার ভয়ে পরিবারের নারী সদস্যদেরকে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

সচেতন মহলের বক্তব্য, কোন এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করে যদি ডাকাতিই না করে বা কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে তাহলে এ আবার কেমন ডাকাত ??? যেহেতু আতঙ্ক ছড়ানোর পর থেকে এ পর্যন্ত জেলার কোন এলাকাতে কোন প্রকার ডাকাতি সংঘটিত হয়নি। সেহেতু ডাকাত দলের তৎপরতা এবং ডাকাতির খবর সম্পূর্ণই গুজব। এ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়াটা বোকামী।

জনসাধারণকে এ গুজবে কান না দিয়ে ও আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করার আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এদিকে এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদপুরের চার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর একজনের বিচারের রায় শিগগিরই কার্যকর হওয়ার পথে। রায় কার্যকর হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে মাঠে নেমেছে। ফরিদপুরে চলমান ডাকাতির গুজব তারই একটি অংশ। এ গুজবই রাজবাড়ী জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করছে। তিনি পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেছেন।

 


এই নিউজটি 4037 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]