,

সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে সকল মহলে প্রশংসিত রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক

News

স্টাফ রিপোর্টার : সততা, সুনাম, নিষ্ঠা ও সাফল্যের সাথে রাজবাড়ী জেলায় দায়িত্ব পালনের এক বছর অতিক্রম করেছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান। গত ২০শে জুন ছিল তার রাজবাড়ীতে যোগদানের বর্ষপূর্তি। জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি গত ১৯শে জুন-২০১৪ তারিখে রাজবাড়ী জেলায় যোগদান করেন। জনসেবা নিশ্চিত করতে রুটিন কাজের বাইরে তিনি বিগত ১বছরে সার্ভিস ইনোভেশনের আওতায় সরকারী সেবার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনসহ উল্লেখযোগ্য বহু কাজ বাস্তবায়ন করে সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

তার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ঃ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরীতে ফগ লাইট সংযোজনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত ঃ ঘন কুয়াশার সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘাটে প্রায় ১২ ঘন্টা ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় ফেরী চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে উন্নত দেশের মত ফগ লাইট ব্যবহার করে ফেরী চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরন করলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ উক্ত প্রস্তাব আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ফরোওয়ার্ড করে এবং জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের এ প্রস্তাবনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১০টি রো-রো ফেরীতে ফগ লাইট সংযোজন করেছে।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ গোলাম আলী হার্ট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে গত ৩০শে শেষ ডিসেম্বর-২০১৪ তারিখ রাতে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করতে গিয়ে ঘন কুয়াশার কারণে তা ব্যাহত হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান তাৎক্ষণিকভাবে ফেরীতে লাইট সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেন এবং অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ প্রতিকৃতি স্থাপন ঃ জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান রাজবাড়ীতে যোগদানের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের আম্রকাননে ছায়াসুনিবিড় মনোরম পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ প্রতিকৃতি স্থাপন করেন। স্থায়ী এ ভাস্কর্য স্থাপনের পর জাতীয় শোক দিবসে রাজবাড়ী জেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর থেকে সর্বস্তরের জনগণের বিভিন্ন জাতীয় দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি স্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সেনানিবাস স্থাপনের জন্য বরাদ্দকৃত জমির দলিল হস্তান্তর ঃ রাজবাড়ী জেলার সদর, কালুখালী ও পাংশা উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩হাজার একর জমি নিয়ে সেনানিবাস স্থাপনের লক্ষ্যে গত ১০ই জুন-২০১৫ তারিখে ওই এলাকার ১৪১০ একর সরকারী খাস জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুকূলে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত প্রদান পূর্বক দলিল হস্তান্তর করা হয়। সেনানিবাস স্থাপনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাস জমির বন্দোবস্ত প্রদান ও দলিল হস্তান্তর করায় যশোর এরিয়া কমান্ডার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস.এম মতিউর রহমান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানকে ধন্যবাদ জানান।

রাজবাড়ী জেলায় আইসিটি কার্যক্রমে সাফল্য ঃ বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের নিবিড় তত্ত্বাবধানে জেলার আইসিটি কার্যক্রমে ব্যাপক সাফল্য ও গতি অর্জন হয়েছে। আইসিটি কার্যক্রমে রাজবাড়ী জেলার অবস্থান বর্তমানে ৭ম স্থানে।

মোবাইল এসএসএস এর মাধ্যমে সকল সভার নোটিশ জারী ঃ বর্তমানে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বেব অনুষ্ঠিত সকল সভার নোটিশ মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে কমিটির সকল সদস্যকে মুহুর্তের মধ্যে অবহিত করা হচ্ছে। ফলে সরকারী কাজে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনার নিবিড় তত্ত্বাবধান ঃ জেলার ২৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এমন ২১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু এবং এর সফলতা ধরে রাখার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ২০০ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সেরা কনটেন্ট তৈরীর জন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাই করে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং এ ধারা অব্যাহত আছে। বর্তমানে এ ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।

ওয়াই-ফাই জোন স্থাপন ঃ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিটিজেন কর্ণার, সম্মেলনকক্ষ এবং সার্কিট হাউজ ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে।

ফেসবুক আইডির মাধ্যমে নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ঃ সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ফেসবুকে DC Rajbari আইডির মাধ্যমে নাগরিক আবেদন/অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া District Administration, Rajbari নামে একটি ফেসবুক পেইজে সেখানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সকল কর্মপ্রন্ড নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতামূলক শপথ বাক্য পাঠ ঃ রাজবাড়ী জেলার সকল সরকারী/বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩,০০,০০০ শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একই তারিখে একই সময়ে একযোগে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে।

ড্রাগন ফল চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রূপদান ঃ রাজবাড়ী জেলার মাটি ও আবহাওয়া নানা পুষ্টিগুণ ও উচ্চ খাদ্যমান সমৃদ্ধ এবং সহজে চাষাবাদযোগ্য ড্রাগন ফল চাষের অনুকূল হওয়ায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোগে ড্রাগন ফলের চাষ উৎসাহিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে এ কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করে বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের ৪ঢি ব্যাচে ১৪দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্যসহ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে দুই দফায় ১০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৭/১১/২০১৪ তারিখে রাজবাড়ীর আজাদী ময়দানে ঢাকা বিভাগের কমিশনার মোঃ জিল্লার রহমান জেলার ৫৩২জন ব্যক্তি, কৃষক, খামারী ও বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের মধ্যে ড্রাগন ফলের চারা বিতরণ উদ্বেধন করেন।

কালেক্টরেট ভবনে সিটিজেন কর্ণার স্থাপন ঃ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা স্টেকহোল্ডারদের জন্য সকল আধুনিক প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সিটিজেন কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৭/১১/২০১৪ তারিখ সকালে ঢাকা বিভাগের কমিশনার মোঃ জিল্লার রহমান সিটিজেন কর্নারের উদ্বোধন করেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সিটিজেন কর্ণারে রয়েছে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সুবিধা, টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা, সেবা নিতে আসা স্টেকহোল্ডারদের বসার সু-ব্যবস্থা, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা এবং আধুনিক সাজে সজ্জিত ওয়াশরুম ব্যবহারের সুবিধা।

পদ্মা নদীর পাড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মডেল স্কুলে উন্নীতকরণ ও স্কুল ফিডিং চালু ঃ রাজবাড়ী জেলায় মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে সফল উদ্যোগ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গোদারবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জেলা সদরে মডেল স্কুলে উন্নীত করণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় চত্বরে শিশু পার্ক নির্মাণ, ওয়াশ ব্লক স্থাপন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষামূলক তথ্য সম্বলিত রাজবাড়ী জেলা ও বাংলাদেশের বিশাল আকৃতির মানচিত্র স্থাপনসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ৯ই মে-২০১৫ তারিখ থেকে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার এবং প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ারোধে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।

পদ্মা নদীর পাড়ের অবকাশ কেন্দ্রের বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রদান এবং সৌন্দর্য বর্ধন ঃ পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সান্ধ্যকালীন নিরাপত্তার জন্য রাজবাড়ী শহরের পদ্মা গোদার বাজারে নদীর পাড়ের অবকাশ কেন্দ্রস্থলে বৈদ্যুতিক পোল স্থাপনসহ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং সুপেয় পানির জন্য নলকূপ স্থাপন করেছেন।

ক্রীড়াঙ্গনে গতি সঞ্চার ঃ রাজবাড়ীর ক্রীড়াঙ্গনে গতি সঞ্চার করার লক্ষ্যে এবং নতুন প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি এ জেলা সৃষ্টির পর লীগ পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট-২০১৪ আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও কাজী হেদায়ের হোসেন স্টেডিয়ামের সংস্কার, নতুন প্যাভিলিয়ান ভবন নির্মাণ কাজসহ প্রতিটি উপজেলায় বিদ্যমান খেলার মাঠের বাইরে আরো ২টি করে খেলার মাঠের জন্য প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ ছাড়া দীর্ঘ প্রায় ১২বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলটি তিনি(জেলা প্রশাসক) সংস্কার করে চালু এবং স্থানীয়ভাবে সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট পুনঃ চালুকরণ ঃ দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজবাড়ীর ক্রীড়াঙ্গণে প্রাণের উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে জমজমাট আয়োজনের মধ্যদিয়ে গত ১৬ নভেম্বর-২০১৪ বিকেলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়ামে রাজবাড়ীর ফুটবলপ্রেমী মানুষের ঢল নামে। জেলার প্রায় ১০হাজার দর্শক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ডিসপ্লে ও ফুটবল খেলা উপভোগ করে। লীগ পদ্ধতিতে ১৩দিনব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টর ফাইনাল খেলা ২৫হাজার দর্শক উপভোগ করে।

সুইমিং পুল সংস্কার ও সাঁতার প্রশিক্ষণ চালু ঃ দীর্ঘ প্রায় ১২বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলটি গত ৩০শে সেপ্টেম্বর-২০১৪ পুনরায় চালু করেন। জাতীয় কোচ এরশাদুন্নবীকে চীফ কোচ এবং শের আলী শরীফ ও রুমা আকতারকে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ করে নিয়মিত সাঁতার প্রশিক্ষণ চলছে।

সকল সামাজিক/সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একই প্লাট ফরমে ঃ এবারেই প্রথম রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকল সামাজিক/সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একই প্লাটফরমে নিয়ে এসে গত ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল-২০১৫ তারিখে বাঙালীর প্রাণের উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণ উৎসব সাফল্য অনুষ্ঠিত হয়।

দেশ বরেণ্য প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়াকে জমি ও ঘর বরাদ্দ করে পুনর্বাসন ঃ ‘যার জমি আছে, ঘর নেই-তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় ৪২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়াকে বরাদ্দকৃত খাস জমিতে এ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ এবং উক্ত ঘরের সাথে বাড়তি বারান্দা নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কাঙালিনী সুফিয়ার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষে ১.১৯ কিঃ মিঃ বৈদ্যুতিক লাইন টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ঘরটি কাঙালিনী সুফিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রশাসক কর্তৃক গণশুনানী ঃ রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক হিসেবে মোঃ রফিকুল ইসলাম খান যোগদানের পর হতে গত ১বছর যাবৎ সপ্তাহের প্রতি বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার গরীব-দুঃখী মানুষের অভাব-অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যাদির গণশুনানী গ্রহণ করছেন নিয়মিতাবে। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সরাসরি জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ জেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গণশুনানীর ফলাফল সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

রাজবাড়ী হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা ঃ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য জেলা প্রশাসক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করলে মন্ত্রণালয় হতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দাখিলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ঃ বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পবিত্র ঈদ ও পূজার সময় দৌলতদিয়া ঘাটে জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে এবং ফেরী ও লঞ্চ ঘাটে একজন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে যানজটমুক্তভাবে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নিরাপদ ও নিশ্চিত করেন।

বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রস্তাব ঃ রাজবাড়ী জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরের গ্রীড উপকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় লো-ভোল্টেজ জনিত সমস্যা এবং ঝড় বৃষ্টি হলে গাছপালা উপড়ে পড়ে রাজবাড়ী জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে। জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজবাড়ী শহরের উপকন্ঠে চর বাগমারায় ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান গত ৮ই জানুয়ারী বিদ্যুৎ বিভাগে প্রস্তাব প্রেরণ করলে তা গৃহীত হয়। উক্ত ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হলে রাজবাড়ী শহরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

 

আপডেট : রবিবার জুলাই ০৫,২০১৫/ ০৪:৪৫ এএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর