ফেসবুকে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ : সাংবাদিকসহ ২জন গ্রেফতার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ ,৫ জুলাই, ২০১৫ | আপডেট: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ ,৭ জুলাই, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে ফেসবুকে প্রধান মন্ত্রীসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ব্যাঙ্গাত্মক কাটুর্ন প্রকাশের অভিযোগে মোঃ আবুল হোসেন(৩৮) ও মাসুদ রানা ওরফে মিঠু(২৫) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দিনগত মধ্য রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আবুল হোসেন মোল্যা দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার গোয়ালন্দ প্রতিনিধি ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মাসুদ রানা মিঠু দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল ৫ই জুলাই থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছে।

মামলা সুত্রে জানাগেছে, গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক আবুল হোসেন ও মাসুদ রানা মিঠু তাদের ফেসবুক আইডি থেকে গত ৪ঠা জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের চেহারা বিকৃতি করে একটি ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে। যা গোয়ালন্দ পৌর মেয়র শেখ নিজামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১৬জনকে ট্যাগ করে। কুটুক্তি পূর্ণ বক্তব্য প্রচার এবং সরকারসহ দেশের ভার্বমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়। ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনটি ফেসবুকে ছাড়ার বিভিন্ন জন লাইক, কয়েকজন সেটিকে মন্তব্য এবং শেয়ার করে। যা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট ও উস্কানীমূলক। ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনটি সরকারী বিভিন্ন সংস্থার নজরে আসলে ওই দিন রাত দুইটার দিকে গোয়ালন্দ থানার পুলিশ সাংবাদিক আবুল হোসেন মোল্যা ও মাসুদ রানা ওরফে মিঠুকে তাদের বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও চারটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গোয়ালন্দ থানার এস.আই মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল ৫ই জুলাই থানায় তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী/২০১৩) এর ৫৭(২) ধারায় উল্লেখিত ২জনসহ ৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-৪, তাং-৫/৭/২০১৫ইং। মামলার অপর আসামী হলো সোহরাব মন্ডলের পাড়ার সোনা মিয়ার ছেলে রাব্বী ওরফে ফজলু। মামলায় অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আবুল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন, ব্যাঙ্গচিত্রটি “দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়। আইডিটি মাসুদ রানা ওরফে মিঠু পরিচালনা করে বলে জানি।

ব্যাঙ্গচিত্রটি আমার আইডিসহ মোট ১৬জনকে ট্যাগ করে দেয়া হয়। চিত্রটি পোস্ট করার ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই। এমনকি গত দুইদিন আমার ফেসবুক আইডি চালু না করায় চিত্রটি আমি দেখতে কিংবা মুছে ফেলতে পারিনি। তাছাড়া চিত্রটি মাসুদ রানা নিজেই প্রকাশ ও ১৬জনকে ট্যাগ করেছে বলে স্বীকার করেছে। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে আমাকে উদ্দেশ্য মূলকভাবে এর সাথে জড়ানো হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি একেএম নাসির উল্যাহ বলেন, এ ঘটনায় এস.আই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে আবুল হোসেন, মাসুদ রানা, ফজলে রাব্বী ওরফে ফজলুসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী/২০১৩) এর ৫৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল রবিবার দুপুরেই রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভূক্ত অপর আসামীসহ অন্যান্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

সাংবাদিক আবুল হোসেন মোল্যাকে গ্রেফতারের বিষয়ে গত রোববার দুপুরে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সভাপতি আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাংবাদিকরা এক জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ব্যাঙ্গচিত্রটি প্রকাশের ব্যাপারে নিন্দা জানিয়ে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক আবুল হোসেন জড়িত নয় বলে দাবী করেন। একই সাথে সাংবাদিকরা বৈঠক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মুক্তি এবং সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, আবুল হোসেন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মাসুদ রানা বিএনপির কিছুই না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করতেই কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করে তাদেরকে ফাসিয়েছে বলে মনে করি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

 


এই নিউজটি 963 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments