রাজবাড়ীর ঈদ বাজারে প্রতারণা : ঈদের ড্রেস কিরণ মালা মরণ মালা হয়ে উঠেছে

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ ,৯ জুলাই, ২০১৫ | আপডেট: ১২:৪২ অপরাহ্ণ ,৯ জুলাই, ২০১৫
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানেই আনন্দ। আর সেই আনন্দ এখন কারো কারোর জন্য বেদনা বিধুর হয়ে উঠেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ঈদ আসলেই বিশেষ করে কাপড় ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে উঠছে। বেশী লাভের আশায় তারা ভারতীয় টিভি চ্যানেলের কোন সিরিয়ালের অভিনেত্রীর নামে পোষাকের নাম রেখে উচ্চ মূল্যে সেই সব পোষাক বিক্রি করছে।

বিশেষ করে গত বছর ঈদে দোকানদাররা জনপ্রিয় একটি সিরিয়ালের পাখি ড্রেস নাম দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক বিক্রি শুরু করে। আর এই পাখি ড্রেস কিনে দিতে না পারায় রাজবাড়ীসহ সারা দেশের বিভিন্নস্থানে অনেক শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধু আত্মহত্যা করে। কিন্তু পাখি ড্রেস তৈরীর প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোথাও (লেভেলে বা প্যাকেটে) পাখি ড্রেসের নাম লেখা ছিলনা। অথচ বেশীর ভাগ অসাধু দোকানদাররা কাগজের উপর কলম দিয়ে পাখি ড্রেস লিখে দোকানে ঝুলিয়ে রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে এবং উচ্চ মূল্যে সেই ড্রেস বিক্রি করে। আর তাদের অভিনব প্রতারণার শিকার হয় দরিদ্র পরিবারের লোকজন। যার পরের কাহিনী সবারই জানা। কিন্তু দুঃখের বিষয় ব্যাপারটি কারোই নজরে আসেনি। আর নজরে আসার কথাও নয়। কারণ এই ড্রেসের জন্য যারা জীবন বিসর্জন দিয়েছে তারা কেউই ধনীর দুলালী নয়!

অনুরূপভাবে এবারের ঈদেও বাজারে এসেছে বিভিন্ন নামের পোষাক। এরমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে আবারো সেই ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নামের পোষাক। যার নাম কিরণ মালা। এই কিরণ মালাই এখন অল্প আয়ের মানুষের জন্য মরণ মালা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এই পোষাক কিনতে না পারায় রাজবাড়ীতে ২জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক কান্ড হলো এবারেও সেই একই রকম প্রতারনা? পোষাক তৈরীকৃত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পোষাকের লেভেল ও প্যাকেটে কোথাও কিরণ মালার নাম না থাকলেও দোকানদাররা সাইন কলম দিয়ে কিরণ মালা লিখে গতবারের মতো একই কায়দার এই পোষাক উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে।

আবার অনেক দোকানদার প্রায় সব পোষাকই কিরণ মালা বলে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছে। এ প্রতারণার দেখার কি কেউ নেই?

আমাদের জানা মতে স্থানীয় প্রশাসন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানগুলো মনিটরিং করে। তাহলে পোষাকের দোকানগুলো মনিটরিং করার ব্যবস্থা নেই কেন? অনেকের মতে যারা এই প্রতারণা করে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে এবং তাদের কারণেই অনেক বাবা-মার কোল খালি হচ্ছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। এ ধরনের অসৎ ও মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে জেল জরিমানা করা হলে প্রতারনার প্রবনতা কমে আসবে। পাশাপাশি ঈদে কান্না নয় হাঁসি বয়ে আনবে প্রতিটি পরিবারে।

আপডেট : বৃহস্পতিবার জুলাই ০৯,২০১৫/ ১২:১০ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1533 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments