,

১৮বছর শিকলে বন্দী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার মোল্লা!

News

শিহাবুর রহমান : মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেড়যুগ ধরে শিকলে বন্দী রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মোঃ মোক্তার মোল্লা। আর এই ১৮ বছরে তার চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারটি। দীর্ঘ ১৮ বছরে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে মোক্তার মোল্লার খোঁজ কেউ না নিলেও এতটুকু ক্ষোভ নেই তার স্ত্রীর। তবে মোক্তার মোল্লার একমাত্র সন্তানকে যদি বাংলাদেশ পুলিশে চাকুরী দেয়া হয় তাহলে বেঁচে যেতে পারে মানসিক ভারসাম্যহীন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার মোল্লার পরিবার।

মোক্তার আলী মোল্লার বাড়ী রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত আসমত আলী মোল্লা। ১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে চাকুরীতে যোগদান করেন মোক্তার মোল্লা। মোক্তার মোল্লা দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। পুলিশ বাহিনীতে চাকুরীর পর তার জীবন সুখেই কাটছিল। কিন্তু তার সেই সুখ বেশী দিন টেকেনি। ১৯৯৭ সালে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ওই বছরের ১ অক্টোবর চাকুরী থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সেবা নিয়েও আর সুস্থ হতে পারেননি। তার অবস্থা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে বাধ্য হয়েই পায়ে লোহার শিকল পড়াতে বাধ্য হয় পরিবারের লোকজন। সেই ১৯৯৭ থেকে আজ পর্যন্ত মোক্তার মোল্লার পায়ে শিকল বাধা রয়েছে। মোক্তার মোল্লাও সেই আগের মতো নেই।

মোক্তার মোল্লা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার পর জীবন যুদ্ধে নামে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করার জন্য লেখাপড়া করাচ্ছেন। স্বপ্ন একটাই। তার একমাত্র ছেলে তৈয়ুবুর পুলিশে চাকুরী করবে। তৈয়বুর রহমান ফরিদপুর মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করার পর মধুখালী আইনুদ্দিন সরকারী ডিগ্রি কলেজে পড়াশুনা করছে ও তার বড় মেয়ে মুক্তা খাতুন রুমা ফরিদপুর সারদা সুন্দরী কলেজে অধ্যায়নরত রয়েছে।

মোক্তার মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম পুলিশ ডিপার্টমেন্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী করেন, তার স্বামী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মোক্তার মোল্লা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় চরম মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছেন তারা। তাই তাদের একমাত্র সন্তান মোঃ তৈয়ুবুর রহমানকে যদি পুলিশ বাহিনীতে চাকুরী দেয়া হয় তাহলে বেঁচে যাবে মোক্তার মোল্লার পরিবার। তবে মোক্তার মোল্লার গল্প প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌছাবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। আমরা আশা করি পুলিশ বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হবে এমন স্বপ্নে বিভর মোক্তার মোল্লার ছেলে তৈয়বুরের স্বপ্ন পুরন হবে। বাঁচবে মোক্তার মোল্লার পরিবার।

 

আপডেট : মঙ্গলবার আগস্ট ১৮, ২০১৫/ ০৬:৫৫ পিএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর