,

স্বামীর অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় লাশ হলো শিল্পী!

News

স্টাফ রিপোর্টার : আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে স্বামীর দৈহিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় লাশ হলো শিল্পী (১৯) নামের এক সন্তানের জননী। শিল্পী রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শাইলকাঠি গ্রামের আলমাস আলীর মেয়ে। গত ২০আগস্ট রাতে ফরিদপুর জেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে শ্বশুড় বাড়ীতে নির্যাতনের পর বালিশ চাপা দিয়ে শিল্পীকে শ্বাসরোধ হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর থেকে শিল্পীর স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। গত ২১ আগস্ট রাতে ময়না তদন্ত শেষে পিতার বাড়ীতে শিল্পীকে দাফন করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা যায়।

শিল্পীর পরিবারের লোকজন জানায়, ৫ বছর আগে ফরিদপুর জেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের লাল মিয়া দেওয়ানের সৌদী ফেরত ছেলে ইছাহাক মিয়ার (৩৫) সাথে শিল্পীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ইশিতা নামের এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। ইশিতার বয়স ৩ বছর। শিল্পী অপূর্ব সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তার স্বামী আপন ছোট ভাই সৌদী প্রবাসী মোস্তফার স্ত্রীর সাথে পরকীয় সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ সম্পর্কের জেরে তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি শিল্পী টের পেয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এ জের ধরে গত ২০ আগস্ট রাতে স্বামী ইছাহাক, শ্বাশুড়ী নছিমন বেগম, ননদ জোহরা ও জা মিরা শিল্পীকে নির্যাতন করে এবং এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এরপর তারা অবস্থা বেগতিক দেখে শিল্পী বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে শিল্পীর মৃতদেহ রেখে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গত ২১ আগস্ট সকালে ফরিদপুর হাসপাতালে গিয়ে শিল্পীর মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন।

শিল্পীর পিতা আলমাস আলী জানান, তার মেয়েকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত ২১ আগস্ট ময়না তদন্ত শেষে শিল্পীকে আমার বাড়ীতে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শিল্পীর স্বামীসহ শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর