মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজিকে গাছের সাথে বেঁধে রাখায় ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে গেলো চাচা-চাচী!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ ,২৫ আগস্ট, ২০১৫ | আপডেট: ৭:৫১ অপরাহ্ণ ,২৫ আগস্ট, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : বাড়ী থেকে পালিয়ে বেড়ানো মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজিকে তার পিতার আদেশে গাছের সাথে বেঁধে রাখায় ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে গেলো আপন চাচা ও চাচী। গত ২৩ আগস্ট সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের বেলগাছী খোশবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের সহযোগীতা ও গাছের সাথে বেঁধে রাখার অভিযোগে চাচা ও চাচীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ওই কিশোরীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবী করেছেন খোদ ওই কিশোর বাবা আঃ লতিফ মোল্লা।

পাবনা জেলার সাবেক বেড়া বর্তমান আমিনপুর উপজেলার দয়ালনগর গ্রামের পাষান মোল্লার ছেলে দিন মজুর আঃ লতিফ মোল্লা জানান, আমার মেয়ে (১৪) বিগত এক মাস ধরে নিখোঁজ ছিল। সে মানসিক ভারসাম্যহীন। এক বছর আগে সে বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হলে পাবনা জেলার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেফ হোমে পাঠায়। সেফ হোম থেকে তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসা হলে সে আবারো বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। নিজের খেয়াল খুশি মতো চলাফেরা করায় ইতিপূর্বে সে গর্ভবতীও হয়। গত ১ মাস বাড়ীর বাইরে থাকার পর গত ২০ আগস্ট সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে আমার বড় মেয়ের বাড়ীতে আসে এবং আমার বড় মেয়ে আমাকে খবর দিলে আমি এসে তাকে বাড়ীতে নিয়ে যাই। বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই সে আবার বাড়ী থেকে উধাও হয়ে যায়। গত ২৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের খোশবাড়ী গ্রামে আমার আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাজেরা খাতুন আমাদের বাড়ীতে মোবাইল করে জানায় আমার মেয়ে তাদের বাড়ীতে আছে। এ সময় আমি হাজেরা বেগমকে তাকে বেঁধে রাখতে বলি। এ কথা মতো হাজেরা বেগম ও আমার ভাই হোসেন আলী মোল্লা আমার মেয়েকে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। গাছের সাথে বেঁধে রাখার সময় আমার মেয়ে তাদেরকে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেয়।

এদিকে গাছের সাথে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে রাজবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে।

আঃ লতিফ মোল্লা আরো জানান, ইতিপূর্বে আমার ওই মেয়েকে বাড়ীতে আটক করার চেষ্টা করলে সে আমাকে পর্যন্ত মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার করার হুমকি দেয়। আমার মেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু নিজের রক্ত তাই অস্বীকার করতে পারিনা। আমার এই মেয়ের জন্য আমরা খুব অশান্তিতে বসবাস করছি। আমার ভাই হোসেন আলী মোল্লা ও তার স্ত্রী হাজেরা খাতুন খুবই সহজ সরল মানুষ। তাদের দ্বারা এ ঘটনা ঘটতে পারে না।
খানগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আক্তার বাবলু জানান, আমার কাছে মনে হয়েছে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে গাছের সাথে বেঁধে রাখার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করাতে সে আমাকেও ঘটনার সাথে জড়ানোর হুমকি দেয়।

রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটির কথাবার্তায় মনে হয়েছে তার মাথায় সমস্যা আছে। তবে সে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং এ মামলার প্রেক্ষিতে তার চাচা ও চাচীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ওই মেয়ের মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। রাজবাড়ী থানার মামলা নং-২৪, তাং-২৩/৮/২০১৫ইং। ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর (সংশোধনী/০৩) এর ৯ (১)/৩০ তৎসহ ৩৪২দঃবিঃ। মামলায় চাচা ও চাচী ছাড়াও অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।

 


এই নিউজটি 2458 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments