,

বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ঠ রাজবাড়ী গার্লস স্কুল ও মহিলা কলেজের ছাত্রীরা!

News

আশিকুর রহমান : রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আদর্শ মহিলা কলেজের গেইট এবং আশপাশ এলাকা এখন বখাটের নিরাপদ স্থল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বেশী আনাগোনা করতে দেখা যায় বখাটেদের। ছাত্রীদের পিছু নিয়ে বিভিন্ন রকমের অঙ্গভঙ্গি করে স্কুল ও কলেজটির গেইট এলাকায় ভীড় জমায় বখাটেরা। অনেকেই আবার বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে এবং হর্ন বাজিয়ে মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি প্রতিদিনের রুটিন তালিকার মতো হলেও পুলিশ প্রশাসনের নজরে না আসায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব বখাটেরা। তবে এসব ঘটনার জন্য স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদেরকেও দায়ী করেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, কাস শুরুর আগ মূহুর্তে রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিভিন্ন বয়সের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া যুবকেরা জমায়েত হয়। এদের মধ্যে বেশীরভাগ যুবকেরাই দামী মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। এ সময় তারা স্কুলগামী মেয়েদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম উত্ত্যক্তমূলক কথাবার্তা বলে এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। সকল ছাত্রীরা যখন স্কুলে ঢুকে যায় তখন ওইসব যুবকেরা যে যার মতো চলে যায়। আবার টিফিন ও ছুটি হওয়ার সময় তারা স্কুলের সামনে এসে হাজির হয় এবং একই কর্মকান্ড চালাতে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী জানায়, স্কুলে কাস শুরুর আগে ও ছুটির পর মূহুর্তে বিভিন্ন বয়সের বখাটে যুবকেরা স্কুলের সামনে এসে আড্ডা দেয় এবং আমাদের উদ্দেশ্যে করে উত্ত্যক্তমূলক কথাবার্তা বলে। এদের মধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগত যুবকেরাও রয়েছে। এরা বেশীরভাগই দামী মোটরসাইকেল নিয়ে আসে এবং স্কুলের সামনে দিয়ে হর্ণ বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে। এ বিষয়ে ভয়ে ছাত্রীরা কারও কাছে অভিযোগ করে না। তাই বিষয়টি ধামা চাপা পড়ে রয়েছে।

অনুসন্ধানে রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজেও ঠিক একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, স্কুল ও কলেজের গেটের সামনে যুবকদের আড্ডা দেওয়ার ঘটনায় কিছূ সংখ্যক ছাত্রীরা দায়ী। তারা মোবাইল ফোনে কথা বলে যুবকদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী করে এবং ওই সমস্ত যুবকদেরকে স্কুল ও কলেজের সামনে থাকতে বলে। ওই অল্প সংখ্যক ছাত্রীদের কারনেই অন্যান্য ভালো ছাত্রীরা ইভটিজিং এর শিকার হয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা মনোয়ারা বেগম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। এটা একটা বড় ধরনের সমস্যা। আমরা অনেককেই নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের নিষেধ মানছে না। ব্যবস্থা গ্রহণরে জন্য বিষয়টি পুলিশ সুপার সাহেবকে জানাবো।

 

আপডেট : রবিবার আগস্ট ৩০, ২০১৫/ ১০:৪১ এএম/ জেনিফার

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর