‘সত্য’ হয়ে বাঁচি – Live with Truth (একটি ধারাবাহিক কলাম অবলম্বনে ) | এহসান কলিন্স

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ ,৩১ আগস্ট, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ ,৩১ আগস্ট, ২০১৫
পিকচার

 

Broadcasted – আকাশ রেডিও, সাউথহল,লন্ডন,২০০৯ । Recited- লন্ডন পয়েট্রী ফেসটিভ্যল ২০০৯, কুইনম্যারী ইউনিভাসিটি অডিটরিয়াম, লন্ডন) 

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা আত্বীয় না হয়েও তাঁর ও বেশী আপন হয়ে থাকে আজীবন। যাদের কে কখনই ভোলা যায় না। শিশিরের দানার মত ছোট্ট ছোট্ট ভালবাসাগুলো, স্বপ্নগুলো, ইচ্ছাগুলো কেড়ে নেয় দুরত্ব । সব সময় অতি কাছেই মনে হয় তাদের। যারা কখনই ফুল রেখে কাঁটা তুলে দেয়নি। আত্বীয় এবং অনাত্বীয় শব্দটি ব্যবহার হয় শুধু শাব্দিক ভাবেই; প্রতিটি শব্দের ই একসেপ্টেসন টা হওয়া উচিত তার প্রয়োগ এর উপর ভিত্তি করে। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় মহান কাজ হচ্ছে কিছু ভাল মানুষদেরকে নিয়ে। হয়তো আমার এমন করে লেখা তাদেরই জন্যে।

আমাদের এই কমলালেবু পৃথিবীতে Dummy মানুষের সংখ্যাটাই সব থেকে বেশী। Frankly Speaking আমরা সত্যিই মাঝে মাঝে আমাদের এ্যাকচুয়াল মানুষের ডেফিনেসনটা হারিয়ে ফেলি।

‘আশরাফুল মাখলুকাত’ – কথাটি দুইটি শব্দে বিভক্ত। কিন্তু এর পরিধি অনেক ব্যাপক। আমরা প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে আনকাউন্টেবল মানুষকে দেখতে পাচ্ছি। আমরা সবাই কি সত্যিকারের মানুষ? আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তাকরি ম্যান এবং এ্যানিমেল এর মধ্যে কি কি বিভেদ রয়েছে? একটি বন্য প্রানী যখন খুব খুধাত৺ হয় তখন কি করে? অভিয়াসলি সে ক্ষুধা অনুভব করে, যদি খুব রোদ্র তাপ অনুভব করে তখন কি করে? অভিয়াসলি সে কোন শ্যাডো খুজঁতে থাকে, যখন খুব Thirsty অনুভব করে তখন কি করে? অভিয়াসলি সে পানি বা জল খুঁজতে থাকে, এমনি করে তেমনি করে আমরা যারা ‘মানুষ’ তাঁরা ও এমন টা অনুভব করে থাকি। ‘শুধুমাত্র’ একটিই পার্থক্য ম্যান এবং এ্যানিমেল আর তা হচ্ছে ‘হিউম্যনিটি’ ।

গড বা আল্লাহ পৃথিবীর সব প্রানী গুলো কে যখন সৃষ্টি করেছিল শুধু এই মানুষকেই ‘হিউম্যনিটি’ দিয়েছিল, যার নাম দিয়েছিল ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ ( সৃষ্টির সেরা জীব)।

আমরা যদি একটু চিন্তা করি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত কতবার আমরা মিক্সআপ করি ম্যান এবং এ্যানিমেল এর মধ্যে তাহলে হয়তো আমাদের অনেক আচরন,কর্মকান্ড ই Dummy ধরা পরবে। কিন্তু আমরা যারা এই পার্থক্যটুকুই বুঝি না তাঁরা তো জীবনটাই কাটিয়ে দিচ্ছি নিজেকে একজন মানুষ ভেবে। আর তাই হয়তো বাবা মা ভাই বোন ফ্রেন্ডস এবং ফ্যালো দের মধ্যে একটা অমানুষিক ডিসটেন্স তৈরী হচ্ছে। একজন অন্যজন কে খুব সহজেই কষ্ট দিয়ে যাচ্ছি। দিন এবং রাতের সময়গুলোকে মিক্সড করে ফেলছি। আমরা সবাই আমাদের ইচ্ছা, ফ্রিডোমিটি গুলোকেই প্রাইরোটি দিয়ে যাচ্ছি।

আমার একটি অসমাপ্ত লেখায় তিনবার ‘হ্যাঁ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম। সেটা ছিল এমন –

(আজ যদি তুমি আমাকে প্রশ্ন করো,

তাহলে আমি বলবো,

আমার মাথা উচু করে বলবো,

এক রুদ্ধ কঠিন কন্ঠস্বরে বলবো,

‘হ্যাঁ’ ‘হ্যাঁ’ ‘হ্যাঁ’

তুমি পাথর হয়ে আছো।

আমার এই ‘হ্যাঁ’ এর মধ্যেই সব লুকিয়ে আছে।

আমি এইখানে ‘হ্যাঁ’ শব্দটি এমন ভাবে ব্যবহার করেছি,

যেন এই ‘হ্যাঁ’ এর মধ্যে আমাদের আমিত্ব লুকিয়ে আছে।

অথচ এই ‘হ্যাঁ’ শব্দটি আরও শক্ত ভাবে প্রয়োগ করা দরকার আমাদের জীবনে)

 

আসলে পৃথিবীর বড় বড় ওয়েল রেপুটেড জায়গা গুলো জীবনের জন্য কিছুই নয়। এই জায়গা গুলো শুধুই আমাদের অবস্হানের বিরম্বনা মাত্র। এই জায়গা গুলো এই স্ট্যাটাস গুলো, এই উচ্চশিক্ষা গুলো আমাদের জীবনের শেষ ডেস্টিনেশন নয়। আমরা যে যখানেই আছি খুব সামান্য জায়গা নিয়ে আছি। অতি ক্ষুদ্র কিছু নিয়ে আছি। আমাদের কে ভাবতে হবে এর থেকে সহস্রকোটি বড় কিছু রয়ে গেছে এই পৃথিবীতে যা আমাদের দেখার অনেক বাকী। একটি শুদ্ধ, ট্রান্সপারেন্ট জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত জীবন। বাবা মা জীবনের সবচেয় বড় টিচার কিন্তু বাবা মা কখনই জীবনকে ক্রিয়েট করে দিতে পারে না। জীবনের উৎস গুলো বলে দিতে পারে মাত্র। কাউকে একটা সুন্দর, ট্রান্সপারেন্ট স্বপ্ন তৈরী করে দেওয়া মানে তাঁকে একটা Nation তৈরী করে দেওয়ার মত। কারন আমার আপনার মত একটি জনগোষ্ঠি দিয়েই একটি পরিবার তৈরী হয়। আর সেই পরিবার থেকেই তৈরী হয় ফুটফুটে শুভ্র সন্তান জন্ম নেয়ার মত একটি Nation।  আমরা কি পারি না? আজ যে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হলো এই পৃথিবীতে তাঁর মত একটি পরিবার তৈরী করতে ! শুধুমাত্র আমাদের ফেলনা সময় গুলোকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে। Einstein হয়তো তাই বলেছিল – Imagination is more important than knowledge।

আপনার আমার দেয়া একটি শুদ্ধ চিন্তায় হয়তো কারও মনে একটি সত্য সুন্দর চিন্তা তৈরী হতে পারে। আপনার আমার তৈরী স্বপ্নে একজন মানুষ যদি উদ্ভসিত হয়, তাই বা কম কিসের আপনার আমার দেয়া তে। আমরা সবাই ই ব্যস্ত থাকি, জীবনের যেইখানেই যাব সেইখানেইতো ব্যস্ততা আমাদের, তবে কেন পরে থাকবে আমাদের সত্য সুন্দরগুলো। অনেক সত্য মিথ্যার ভীড়ে আসুন আমরা সবাই ‘সত্য’ হয়ে বেঁচে থাকি।

 

এহসান কলিন্স

তরু মাধবী, ঢাকা

লেখক, কথা সাহিত্যিক, কো-ফাউন্ডার , লেটস লিভে উইথ ট্রুথ


এই নিউজটি 750 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments