রাজবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে দালালদের উৎপাত : অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্মকর্তারা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ ,৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ৬:০৩ অপরাহ্ণ ,৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হিসেবটি বেশ পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দালাল চক্রের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসকল দালাল চক্র রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলা থেকে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে সরকারী ফি ছাড়াও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সাথে পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাসপোর্ট করতে আসা ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাসপোর্ট করতে গেলে এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারী একটি ফর্ম দিয়ে সেটি পূরণ করে নিয়ে আসতে বলে নয়তবা দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তখন দালালরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। তারপর তারা পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজসে পাসপোর্ট তৈরী করে দেয়। অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়া এ অর্থ পার্সপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। আর যারা শুধু সরকারী ফি দিয়ে পাসপোর্ট করতে যায় তাদের ফরম ঠিকমত পূরণ হলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই তিন বার ফরম পূরণ করানো হয়। এরপর ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে তিন চার দিন ঘুরানো হয়। এছাড়াও ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে পাসপোর্ট তৈরী করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পাসপোর্ট রাজবাড়ীতে আসার পরও বলা হয় পাসপোর্ট আসেনি। অফিস থেকে বলা হয় পাসপোর্ট আনতে দালালের সাথে যোগাযোগ করেন তারা ঢাকায় যেয়ে আপনার পাসপোর্ট এনে দেবে। কিন্তু দেখা যায় পাসপোর্ট রাজবাড়ী অফিসে অনেক আগেই এসেছে। আর সেটি কোন কর্মচারীর জিম্মায় আছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

কঠিন অসুখে আক্রান্ত এক ভূক্তভোগী বলেন, আমার পরে দালালের মাধ্যমে অন্যরা পাসপোর্ট করে অনেকে পাসপোর্ট পেয়েছেন কিন্তু আমি অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ায় ও দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট না করায় আমার পাসপোর্ট যে তারিখে দেওয়ার কথা তার বিশ দিন পর দেওয়া হল। সেটিও দেওয়া হল প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ও গণমাধ্যম কর্মীদের চাপে। আর এই সমস্ত অপকর্মের সাথে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী হিসাব রক্ষক মোঃ সাজেদুল ইসলাম জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার সাথে যোগসাজস করে দালালরা এ আর্থিক লেনদেন করছে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের এডি প্রবীর রড়–য়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি রাজবাড়ীতে আসার পর গত কয়েক মাস পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে চলমান ছিল। কিছু দিন যাবৎ পাসপোর্ট অফিসে পুরানো কিছু কর্মচারী বদলী হয়ে নতুনরা এসেছে। তারাই এখন পাসপোর্ট এর যাবতীয় কাজ করছে। বিভিন্ন ভাবে আমার তরফ থেকে তাদরেকে সচেতন করা হলে তার আমাকে জানিয়েছে তাদের সকল কার্যক্রম ঠিকমত চলছে। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসে দালাল চক্রের আনাগোনা করছে বিষয়টি আমি জানতে পেরে আমার অধিনস্থ কর্মচারীদের দালাল চক্র থেকে সাবধান থাকতে বলেছি। কিন্তু উচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয় যারা পাসপোর্ট অফিসে সব সময় পাসপোর্ট করে তারা (দালালরা) আমার আত্নীয় ও কাছের লোক । সুতরাং তাদেরকে যেন সব সময় সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি জানার পর আমার অধিনস্ত কর্মচারীদের সতর্ক করলেও তারা যদি এই অসাধু দালাল চক্রের সাথে আর্থিক লেনদেন করে এরপর আমার আর কি করার থাকতে পারে।

 


এই নিউজটি 819 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]