দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী থেকে যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ ,৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ ,৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর সাধারণ যৌনকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরেও দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী থেকে শরীফা আক্তার (২২) নামের এক যৌনকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, এই পল্লীর অধিকাংশ যৌনকর্মী মাদকাশক্ত। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে যৌনকর্মীরা লাগামহীন ভাবে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে। পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ কথিত স্বামী (ভালবাসার লোক) সহ সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালীদের অকথ্য অত্যাচার সইতে না পেরে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত যৌনকর্মী শরীফা আক্তার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর রজব বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া। বুধবার সকালে তিনি নিজ ঘরের ভিতরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে এলাকার লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রজব বাড়িওয়ালার বাড়ি থেকে যৌনকর্মী শরীফার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এদিকে, দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে প্রায় চার হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। সেখানে বিভিন্ন সময়ে অনেক সাধারণ যৌনকর্মী নিহত শরীফা আক্তারের মতো গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার কারণ পল্লীর অধিকাংশ যৌনকর্মী মাদকাশক্ত। বিভিন্ন খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে। দিন দিন লাগামহীন মাদক সেবনের ফলে অনেক যৌনকর্মীর মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিকৃত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের মনে এক প্রকার হতাশা বোধ মারাত্মকভাবে জেগে ওঠে। তখন মনের গভীর আবেগকে সংযত করতে না পেরে তাদের অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আবার অনেক যৌনকর্মী তাদের নিজ নিজ কথিত স্বামী (ভালবাসার লোক) সহ সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালীদের অকথ্য অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

এ ব্যাপারে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর বাসিন্দা কয়েকজন যৌনকর্মী জানান, এই পল্লীর ভিতরের (পতিতাপল্লী) কোন মেয়ে স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেন না। নানা কারণে নিরুপায় হয়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। পাশাপাশি এ পর্যন্ত এই যৌনপল্লীতে যতগুলো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার কোনটিরও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ঘটনার প্ররোচনাকারী দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়নি। তাই আত্মহত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্ররোচনাকারীরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় পল্লীর অসহায় যৌনকর্মীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবনতা দিন দিন বাড়ছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি এস এম শাহ্জালাল সাজু যৌনকর্মীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী থেকে যৌনকর্মী শরীফা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে পুলিশ। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি ইউডি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 


এই নিউজটি 1085 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments