,

‘এহসান কলিন্স’ দুরন্ত মোনোবল সমৃদ্ধ একজন মানুষ, | খালেদ পাভেল

News

অনেক দিন ধরেই ভাবছি এই মানুষটাকে নিয়ে কিছু লিখবো, কিভাবে লিখবো কতটুকু লিখতে পারবো তা নিয়েই আজ এতদিন।

আমার সাথে তাঁর প্রথম দেখা পূর্বলন্ডনের আইডিয়াস লাইব্রেরীর পাঠক কক্ষে। হাতে একটি মাইক্রোফোন, একপাশে ভিডিও ক্যামেরা রেকর্ডিং হচ্ছে আর তিনি বাংলাদেশী পাঠকদের ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। পরস্পরের সহিত কথা বলে জানতে পারলাম লাইব্রেরীর উপর তিনি ডকুমেন্টরী বানাচ্ছেন। মানুষগুোলোর সাথে কি প্রানবন্তভাবে তিনি কথা বলছেন। এর মধ্যে একজন পাঠক খুব বুকভরা কন্ঠে বলেই ফেললো “ পূর্ব লন্ডনে এত বাঙ্গালী ছেলে মেয়ে পড়াশুনা করেন কিন্তু কাউকে দেখিনি কাজের ফাঁকে, পড়াশুনার পাশাপাশি এতকষ্ট করে মানুষের জন্যে কিছু করা”। আমি শুধুই নীরব দর্শক হয়ে উপভোগ করছি।তিনি লাইব্রেরী নিয়ে কাজ করছিলেন আমাদের দেশের জন্যেই। সেইদিনের সেই কাজের শেষে দীর্ঘ আলাপচারিতা হলো। সমস্ত গল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের সাধারন মানুষদেরকে নিয়েই স্বপ্ন তাঁর।

তারপর দেখা হলো লন্ডন কুইনম্যারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় কবিতা উৎসবে। কি আবেগঘন কন্ঠে তিনি আবৃত্তি করলেন তাঁর সেই গদ্য কবিতা “ একটি ভালবাসার গল্প”। তারপর অসংখ্য কাজের ভীড়ে তাঁর সাথে আমার মধুর ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই থাকে।

এহসান কলিন্স -রাজবাড়ী জেলার একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে তার জন্ম। বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকত্তর লাভ করেন। তাঁর বাবা নূরুল ইসলাম, পেশায় একজন ভাল শিক্ষক  এবং ভাল মানের লেখক ছিলেন। বাবার লেখালেখির সুবাদেই ছেলেবেলা থেকেই তাঁর গল্প, কবিতার প্রতি নেশা ছিল প্রবল। ১৯৯৯ সালে একুশের বইমেলাতে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

২০০৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্যে লন্ডনে পাড়িজমান। তখনও থেমে থাকেনি তাঁর কোন কার্যক্রম। নিয়মিত লেখালেখি করেছেন লন্ডনের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে। লন্ডন পয়েট্রি ফেসটিভেল সংখ্যাতেও তাঁর প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে নিয়মিত।লন্ডন সাউথহল আকাশরেডিওতে দীর্ঘ এক বছর নিয়মিত তিনি লাইভ আবৃত্তি করেছেন তাঁর স্বরচিত কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর নিজস্ব মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ত্রেতা কমিউনিকেশনস থেকে কাজ করেছেন বেশকিছু ডকুমেন্টরী, টিভি নিউজ।এর মধ্যে “হ্যালো বাংলাদেশ” অন্যতম। ২০০৮ সালে লন্ডনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইন নিউজ চ্যানেল “bangladesham.com” যেটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।

২০১১ সালে লন্ডন কাপলান ফাইন্যানসিয়াল্স থেকে এসিসিএ (পার্ট) এবং লিভারপুল জন মোরস  র্ইউনিভার্সিটি থেকে সফলতার সহিত ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এ  এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন।

প্রবল দেশপ্রেমী মনোবলের এই মানুষটি অবশেষে সব ফেলে নিজের দেশে ফিরে আসেন।

আমার খুব মনে আছে যেদিন আমি তাঁকে হিথ্রো বিমান বন্দরে বিদায় জানাতে গেলাম কেন যেন অবঅবেই চোখে জল এসেছিল এবং আমার সাথে সেদিন কেঁদেছিল অনেকেই। একজন মানুষের মধ্যে যে কত মঙ্গলকর স্বপ্ন থাকতে পারে তা আমি উনাকে দেখেছি।যতবার তাঁর কাছে যাই ততবার আমার এক একটি সুন্দর স্বপ্ন তৈরী হয়।

বর্তমানে তিনি ঢাকাতে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি কাজ শুরু করেছেন দরিদ্র মানুষদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছা সেবামুলক সংগঠন “ সত্য হয়ে বাঁচি-Live with truth”

‘এহসান কলিন্স’ দুরন্ত মোনোবল সমৃদ্ধ একজন মানুষ, এই জনবহুল ধুলাবালির শহরে, খনা খন্দরে ফিরে আসা দলের একজন মানুষ।  বেঁচে থাকুন আমাদের মাঝে আর সফল হোক আপনার সব সত্যগুলো। আপনার সেই শ্লোগানেই শুভ হোক সামনে চলার পথ।– “অনেক সত্য মিথ্যার ভীড়ে আসুন আমরা সবাই ‘সত্য’ হয়ে বেঁচে থাকি” ।

ছবিঃ ফাহাদ বিন সাখাওয়াত

খালেদ পাভেল,

প্রধান নির্বাহী সম্পাদক, Rajbarinews24.com

 

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর