মেধাবী কলেজ ছাত্রী মুন্নির রহস্যজনক আত্মহত্যা : ১২দিনেও উদঘাটন হয়নি মূল রহস্য

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ১:০৮ অপরাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী মুন্নি খাতুনের রহস্যজনক আত্মহত্যা গোটা পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে পরিবারটি। মুন্নি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ কোন ব্যক্তির প্ররোচনায় মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এ আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটনে নীরব ভূমিকায় রয়েছে পুলিশ। এদিকে মুন্নির মৃত্যুর পর এলাকা থেকে গাঢাকা দিয়েছে তার কথিত প্রেমিক আলম। এছাড়াও মুন্নির মৃত্যুর দিন তার পাঠ্য বইয়ের প্রথম পাতায় একটি চিরকুট লেখা ছিল। কিন্তু সেই পাঠ্য বইয়ের নিচের অংশ কে বা কারা ছিড়ে নিয়ে গেলো? কি লেখা ছিল তাতে? সেটা জানারও চেষ্টা করেনি পুলিশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরো ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১লা সেপ্টেম্বর সকালে নিজ বাড়ীতে মুন্নি খাতুন (২০) এর গলায় ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। মুন্নি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর গ্রামের অটো চালক মমিন মন্ডলের মেয়ে।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানাযায়, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্রী মুন্নির স্বপ্ন ছিল সে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তাই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে রাজবাড়ী সরকারী কলেজে ভর্তি হয় সে। এইচএসসিতেও অল্পের জন্য সে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়। বাবার বাড়ী নদী তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় ছোট বেলা থেকেই মুন্নি একই ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে নানা বাড়ীতে থেকে পড়াশুনা করতো। নানা বাড়ীতে থাকা অবস্থায় ওই গ্রামের আলম নামের এক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্কের জের ধরে আলম বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সাথে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে মুন্নী গর্ভবতী হয়ে পড়লে আলম তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। এ লজ্জা সইতে না পেরে ঘটনার এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতার কথা বলে মুন্নি নানা বাড়ী থেকে বাবার বাড়ীতে চলে আসে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার পিতার ব্যাটারী চালিত অটো গাড়ী রাখার ঘরের আঁড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপরও পরিবারের লোকজন তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্নিকে মৃত বলে ঘোষনা করে। এরপর থেকে মুন্নির কথিত প্রেমিক আলম পলাতক রয়েছে।
মুন্নির মামা পুলিশ কনস্টেবল রিপন জানান, মুন্নী আত্মহত্যার আগে তার পাঠ্য বইতে একটি চিরকুট লিখে যায়। সেই চিরকুটের নিচের অংশ ঘটনার পর পরই কে বা কারা ছিড়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও মুন্নির ব্যবহৃত মোবাইলে ঘটনার দিন ও তার আগের দিন রাতে দুটি নম্বর থেকে অনেকগুলো ম্যাসেজ এসেছিল যা মুন্নি ডিলেট করে দিয়েছিল। তার মোবাইলের সীম ট্র্যকিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানাগেছে।

তিনি আরো জানান, কারোর প্ররোচনায় পরে আত্মহত্যা করলে সেটা হত্যার সমান অপরাধ। কিন্তু মুন্নির আত্মহত্যার ব্যাপারে রাজবাড়ী থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও পুলিশ রহস্য উদঘাটনে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার এসআই তারেকুজ্জামান জানান, মুন্নির আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার আমার ওপর দেয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত আমাদের কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

 

 

আপডেট : রবিবার সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫/ ০১:০৬ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1551 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments